ময়মনসিংহ

কিশোরী গৃহকর্মীকে ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯

কিশোরী গৃহকর্মীকে ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমা আক্তার— সমকাল

  ময়মনসিংহ ব্যুরো

রাজধানীর কচুক্ষেত এলাকায় একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করা এক কিশোরীকে ইস্ত্রি গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

কচুক্ষেত এলাকার চৈতালী ১/ডি ব্লকের একটি বাসায় গত দুই মাস ধরে এই কিশোরীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

ওই কিশোরীর নাম লিমা আক্তার (১৫)। সে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের দর্শারপাড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লিমার বাবা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, কাজের জন্য নিয়ে তার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমাদের পাশের গ্রামের আছিয়া চার মাস আগে মাসে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজের কথা বলে লিমাকে ঢাকায় এক আর্মি অফিসারের বাসায় নিয়ে যায়। প্রথম এক-দেড়মাস ভালোভাবেই কাজ করে লিমা। গত রমজানের আগে সে বাড়ি চলে আসতে চায়। কিন্তু গৃহকর্ত্রী মীম ম্যাডাম কিছুতেই লিমাকে বাড়ি আসতে দেয়নি। তখন থেকেই লিমার ওপর অত্যাচার শুরু হয়। এরইমধ্যে হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে গত মঙ্গলবার হালুয়াঘাটের একটি বাসে লিমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।'

তিনি বলেন, 'মেয়েকে দেখে আমরা প্রথমে চিনতেই পারিনি। মাথার চুল কাঁটা ও সারা শরীরে পোড়া দাগ। বুধবার লিমাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বুধবার রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছে। আমি এই ঘটনায় থানায় মামলা করবো।'

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমা জানায়, ঢাকায় কাজ করতে যাওয়ার পর দুই মাস ভালোই ছিল সে। গত রমজান মাস থেকে নির্যাতন শুরু হয়। বাড়ি আসার কথা বললে আরো বেশি করে মারধর করতো। কথায় কথায় ইস্ত্রি গরম করে ছ্যাঁকা দিত। এছাড়া খুন্তি গরম করেও তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেওয়া হতো এবং এক পর্যায়ে তার মাথা ফাটিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে গৃহকর্ত্রী মীমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই পরিচয়ে কাজল নামে একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে ১ বছরের চুক্তিতে আছিয়ার মাধ্যমে তাদের বাসায় কাজে আসে লিমা।

তাদের বাসায় কাজ করতে যাওয়ার সময়ই লিমার শরীরের অনেক দাগ ও ঘাঁ ছিল দাবি করে কাজল বলেন, 'এক মাস কাজ করেই সে চলে যেতে চায়। আমরা বুঝিয়ে এই কয়েক মাস রেখেছি। তার ওপর আমরা কেউ অত্যাচার করিনি। বাড়িতে যেতে না দেওয়ায় রাগে নিজের গায়ে নিজেই আঘাত করেছে। লিমা চলে যেতে চাইলে তার বাবার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। পরে আমরা বাধ্য হয়ে হালুয়াঘাটের একটি বাসে তাকে উঠিয়ে দেই। সে বাস থেকে নেমে বাড়িতে পৌঁছে আমাদের ফোনে বাড়ি পৌঁছার কথা জানিয়েছে। এখন শুনি সে হাসপাতালে ভর্তি। এটা আমাদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।'

মন্তব্য


অন্যান্য