ময়মনসিংহ

শেরপুরে ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৭৩ জন

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯

শেরপুরে ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৭৩ জন

পুলিশে চাকরি পেয়ে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মনির- সমকাল

  শেরপুর প্রতিনিধি

চাকরি পেয়ে তোমার কেমন লাগছে? এসপি আশরাফুল আজীম সাংবাদিকদের সামনে এমন প্রশ্ন করলে শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী পুলিশে চাকরি পাওয়া আয়েশা সিদ্দিকা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, 'আমার বাবা একজন দিনমজুর। আমরা ৪ বোন। অনেক কষ্টের সংসার। টাকা ছাড়া চাকরি পেয়ে আমি ভীষণ খুশি। এখন আমার পরিবারের কষ্ট দূর হবে। আমি দেশের জন্যও কিছু করতে পারবো।'

পুলিশে চাকরি পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন শ্রীবরদী উপজেলা ভেরুয়া ইউনিয়নের শিমুলচড়া গ্রামের ইট শ্রমিক মোর্শেদা বেগমের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির। সে উপস্থিত সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে কথা বলছিলেন আর বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলছিলেন, 'আমার মা  ইট ভাঙ্গার মজুরীর টাকা আমার হাতে দেয়। সেই টাকা দিয়ে আমি পুলিশে চাকরি নেওয়ার জন্য ১০০ টাকার ব্যাংক চালান দেই। এ চাকরি আমার কাছে সোনার হরিণের মত। আমার বাবা মসজিদের ইমাম। মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতন পান। কত কষ্টে যে আমাদের সংসার চলে তা বোঝাতে পারবো না।'

নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী ভোগাইয়ের গ্রামের আদিবাসী কৃষক সুকুমার পাঠকের ছেলে সুদীপ কুমার পাঠক বলেন, টাকা ছাড়া চাকরি পেয়ে আমি ভীষণ খুশি। তিনি বলেন, বাবা অনেক কষ্টে সংসার চালান। এখন কষ্ট কমবে।

ঝিনাইগাতীর সীমান্তবর্তী গুরুচরণ দুধনই গ্রামের চায়ের দোকানী জাকিউল আলমের মেয়ে জামিয়া সুলতানা আশা কথা বলতে এসে কথা বলতেই পারেননি। শুধু কেঁদেছেন। তিনি বলেন, 'আমার কোন সামর্থ ছিল না টাকা দিয়ে পুলিশে চাকরি নেবো। বাবা চায়ের দোকানে কাজ করেন। একবেলা খাই তো অন্য বেলা না খেয়ে থাকি। চাকরি পেয়েছি শুনে কি যে ভালো লাগছে তা বলে বোঝাতে পারবো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর এসপি সাহেবকে অনেক ধন্যবাদ।'

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ লাইন্স মাঠে শেরপুর পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৩ জন নতুন পুলিশ সদস্যকে সাংবাদিকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করা ২২৬ জন চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীকে এসময় হাজির করা হয়। 

শেরপুরের পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীম এসময় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার সৎ, আদর্শবান, মেধাবী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মকে পুলিশ বাহিনীতে সদস্য করতে চায়। সে লক্ষ্যে টাকা ছাড়া, ঘুষ ছাড়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য পুলিশ বিভাগ দৃঢ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা এবারের নিয়োগে যাতে কেউ পুলিশ নিয়োগে ঘুষ নিতে না পারে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এর ফলে গরিব অথচ মেধাবী ছেলে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি চাকরি পেয়েছে। তিনি বলেন, এ নিয়োগে কেউ কোন হস্তক্ষেপ করেননি। নিয়োগ হয়েছে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

এসময় তার সাথে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন, নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল ইসলাম, নালিতাবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলার ৫ থানার পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য


অন্যান্য