ময়মনসিংহ

পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯

পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

নিহত রীমা -সংগৃহীত ছবি

  কিশোরগঞ্জ অফিস

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্মৃতি আক্তার রীমা (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহত রীমা হোসেনপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে ও হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের গাংধোয়ারচর গ্রামে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে এমন নৃশংসতার শিকার হয় মেয়েটি।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় নানাবাড়ি বেড়াতে আসার সুবাদে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ উদ্দিনের ছেলে জাহিদের সঙ্গে রীমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার বিকেলে অসুস্থ নানিকে দেখতে নানাবাড়ি আসে সে। বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে প্রেমিক জাহিদের সঙ্গে রীমাকে আলাপ করতে দেখেন তার মা আঙ্গুরা খাতুন। ওই সময় জাহিদের সঙ্গে আরও ২-৩টি ছেলে ছিল। তখন আঙ্গুরা খাতুন রীমাকে ডাকলে জাহিদসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে রীমাকে ঘরে এনে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় রীমাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই পুকুরপাড়ে একটি বরই গাছের ডালে রীমার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রীমার মামা মোস্তফা অভিযোগ করেন, জাহিদ রাতে রীমাকে বাড়ি থেকে পুকুরপাড়ে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার বন্ধু একই গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে পলাশসহ আরও ২-৩জন মিলে রীমাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে বরই গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে। ধর্ষণের আলামত হিসেবে বরই গাছের একটু দূরে কয়েকটি কনডম ও যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

এদিকে খবর পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার, পাকুন্দিয়া থানার ওসি মফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রীমাকে ধর্ষণ করার প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি বলেন, স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণ ও মৃত্যুর কারণ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে কেউ অভিযোগ করলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য