ময়মনসিংহ

এক সড়কে সাত ব্রিজ, সবগুলোই চলাচলের অযোগ্য

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক সড়কে সাত ব্রিজ, সবগুলোই চলাচলের অযোগ্য

  মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

মদন উপজেলার মদন বৈশ্যবাড়ি থেকে ফতেপুর দেওয়ানবাড়ি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলজিইডি কাঁচা সড়কের সংস্কার না করায় সাতটি ব্রিজ অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে এ সড়কে বেশিরভাগ লোক যাতায়াত বন্ধ রাখলেও কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থী ও লোকজনকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ছয় কিলোমিটার রাস্তাই কাঁচা ও ভাঙাচোরা। পৌরসভার কিছু অংশ পাকা থাকলেও সেটিও ভাঙাচোরা। কোনো যানবাহন চলার সুযোগ নেই এ সড়কে। 

আকাশে মেঘ দেখলেই থেমে যায় শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া। দলবেঁধে বিদ্যালয়ে যেতে-আসতে হয়। একা একা হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায় শিশুরা। বিকেল হওয়ার আগেই আসতে হয় গন্তব্যে। এ নিয়ে অভিভাবকরা থাকেন উদ্বিগ্ন। উপজেলা সদর থেকে পাঁচ-ছয়? কিলোমিটার দূরে ফেকনি, মাধবপুর, বৈঠাখালী ও বাধাগাতি গ্রামে কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। যে কোনো মূল্যে আসতে হয় তাদের উপজেলা সদরে। 

উপজেলার পৌরসভাসহ সদর ইউনিয়নের ফেকনি, বৈঠাখালী, তিয়শ্রী ও বাদাতি পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য। এ রাস্তা দিয়ে এক সময় কয়েক হাজার লোকের যাতায়াত ছিল। এ রাস্তায় রয়েছে সাতটি ব্রিজ। এলাকাবাসী জানান, এ ব্রিজগুলো এখন আর কাজে আসছে না। ভাঙাচোরা দশা ও খানাখন্দের কারণে রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল দূরের কথা, হেঁটেও যাতায়াত দুস্কর হয়ে পড়েছে। এ রাস্তায় প্রায় সাতটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজগুলোতে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেগুলো অকেজো অবস্থায় রয়েছে। গোটা রাস্তাতেই অসংখ্য গর্ত রয়েছে।

ভুক্তভোগী ফেকনি গ্রামের তাইজুল ইসলাম মাস্টার ও ইসলাম উদ্দিন জানান, কাঁচা এ রাস্তাটি মূলত এলজিইডির। ১৭-১৮ বছর ধরে কোনো সংস্কার না করায় সড়কটির এ হাল হয়েছে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ওই পথে বাইসাইকেল, রিকশাভ্যান ও মোটরসাইকেলে চলাচল করা হলেও সেগুলোতে হরহামেশা দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। 

শিক্ষার্থী তন্বী, আশা মণি ও মারিয়া আক্তার জানায়, আমরা প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে যাই। বৃষ্টি হলে আর যেতে পারি না। বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় বৃষ্টি হলে অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরতে হয়। এতে মা-বাবা চিন্তিত থাকেন। আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারি না। ইচ্ছা করলে বিদ্যালয়ে একা একা যেতে পারি না। একা এলে মনের মধ্যে সবসময় ভয় থাকে। আমরা চাই সরকার জরুরি ভিত্তিতে এ কাঁচা সড়কটি পাকা করে দিক। 

মদন সদর ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মানিক বলেন, আমার সদর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামই অবহেলিত। এসব এলাকার মানুষ আরও বেশি অবহেলিত। রাস্তা থাকার পরও তারা কষ্টে আছে। আগামী বছর অবশ্যই এ রাস্তার জন্য আমি বরাদ্দ দেব। 

তিয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ফকর উদ্দিন আহমেদ বলেন, বহুদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় জনগণের যাতায়াতের জন্য অযোগ্য হয়ে গেছে। আমার তিয়শ্রী ইউনিয়নে তিনটি ব্রিজ অকেজো অবস্থায় আছে অ্যাপ্রোচ মাটি না থাকার কারণে। আশা করি, আগামী অর্থবছরে চলাচলের যোগ্য করার জন্য এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব। 

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা বলেন, এ সড়কটি কয়েকটি ইউনিয়নের জনগণের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটিতে ছয় থেকে সাতটি ব্রিজ রয়েছে। পাশাপাশি ব্রিজগুলোর অ্যাপ্রোচের মাটি সড়ে গেছে। অনেকদিন আগে রাস্তাটি হওয়ায় এবং কোনো সংস্কার না করায় মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য