ময়মনসিংহ

১১ দিন পর অভিভাবকের কাছে সেই সায়মা

প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৯

১১ দিন পর অভিভাবকের কাছে সেই সায়মা

অভিভাবকদের সঙ্গে সাইমা -সমকাল

  কিশোরগঞ্জ অফিস

এগারো দিন পর অভিভাবক পেল সেই সায়মা। সোমবার বিকেলে পুলিশের মাধ্যমে নানা-নানির কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। পরে পালক মা-বাবার কাছে তুলে দেন তারা। এর আগে এক স্কুলশিক্ষিকা সায়মাকে ভৈরব পৌর মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছের জিম্মায় রেখে যান।

সায়মার বাবার নাম সমসের ওরফে সামসুদ্দিন। সামসুদ্দিন তার স্ত্রীকে হত্যার পর ৯ বছর ধরে পলাতক। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে। সায়মার একটি ছোট বোন আছে। তার নাম ফাতেমা বেগম। এ নৃশংস ঘটনার পর দু'বোনের আশ্রয় হয় নানা-নানির কাছে। সায়মার নানা গরিব হওয়ায় ৯ বছর আগে তাদের দুই বোনকে ঢাকার গার্মেন্ট ব্যবসায়ী এবাদুল ইসলামের বাসায় পালক দেন।

সায়মার অভিভাবকরা জানান, ব্যবসায়ী এবাদুল ইসলামের বাসায় মিম নামে কাজের মেয়ে ছিল। কয়েক দিন আগে ওই বাসার আলমারি থেকে আড়াই লাখ টাকা চুরি হয়। সন্দেহ করা হয় মিমকে। এ ঘটনায় ১৬ মে সকালে মিম বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এদিন বিকেলে সায়মাও দোকানে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এবাদুল ইসলাম তাকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিনই থানায় জিডি করেন। এদিকে সায়মা ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে ভৈরবের বাসে ওঠে। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর গার্লস স্কুলের শিক্ষিকাও তার পাশের সিটে বসেন। এ সময় সায়মার সঙ্গে কিছু মানুষের কথা বলা দেখে সন্দেহ হয় ওই শিক্ষিকার। পরে তিনি তাকে সহায়তা করেন এবং ভৈরবে পৌঁছার পর নিয়ে যান পৌর মেয়রের অফিসে। ব্যবসায়ী এবাদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী মোমতাজ বেগম সোমবার সকালে ভৈরব পৌরসভার মেয়রের অফিসে আসেন এবং সায়মার সব ঘটনা মেয়রকে জানান। এরপর সায়মার নানা মো. সাকিব ও নানি সালেহা বেগমকে সব ঘটনা জানালে তারাও ভৈরব এসে পৌঁছান।

তবে সায়মা পালক মা-বাবার কাছে যেতে চাচ্ছিল না। সে অভিযোগ করে, তাকে সেখানে নির্যাতন করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এবাদুল বলেন, তাকে মেয়ের মতো আদর-স্নেহ দিয়ে ৯ বছর লালন-পালন করছি। পরে সায়মাকে বুঝিয়ে ভৈরব থানা পুলিশের মাধ্যমে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তাদের বলা হয়, ভবিষ্যতে সায়মাকে যেন নির্যাতন না করা হয়। নাতনি যেন একটু ভালো পরিবেশে থাকে এবং তার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সে অনুরোধ করেছেন সায়মার নানি সালেহা বেগম। নানা-নানির কোনো বাড়িঘর না থাকায় তারা এবাদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নবাবগঞ্জের চারাখালী গ্রামে বসবাস করেন। তারা তার সহযোগিতায় বেঁচে আছেন বলে জানান এবাদুল।

পৌর মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছ বলেন, কিশোরী সায়মার জীবনের নেপথ্যে কত বড় নৃশংস কাহিনী ছিল, তা কেউ জানতাম না। এবাদুল ইসলামের কাছে মেয়েটিকে লেখাপড়া করানোর অনুরোধ জানান তিনি।

মন্তব্য


অন্যান্য