ময়মনসিংহ

নিখোঁজের ২৩ দিন পর মিলল মাদ্রাসাছাত্রের অর্ধগলিত লাশ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮

নিখোঁজের ২৩ দিন পর মিলল মাদ্রাসাছাত্রের অর্ধগলিত লাশ

  কিশোরগঞ্জ অফিস

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের ২৩ দিন পর মাদ্রাসাছাত্র ওবায়দুল্লাহ মুন্নার (১৫) লাশ পাওয়া গেছে। 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের দড়িয়াবাজ গ্রামের একটি নালা থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মুন্না উপজেলার মধ্য সাহেদল গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সাহেদল ডিএস দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি মুন্না। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে দড়িয়াবাজ গ্রামের জামাল হাজির বাড়ির জঙ্গলের কাছে নালা থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা গিয়ে অর্ধগলিত লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে হোসেনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। 

এলাকাবাসীর কাছে অর্ধগলিত লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে পাশের গ্রামের নিখোঁজ মুন্নার বাবা-মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিহতের মা মেহেরা খাতুন পরনের গেঞ্জি, প্যান্ট ও কোমরের বেল্ট দেখে লাশটি তদের ছেলে মুন্নার বলে শনাক্ত করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

হোসেনপুর থানার ওসি মো. আবুল হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মুন্নাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ঈশ্বরগঞ্জের চর রামমোহনে সুহৃদের কম্বল বিতরণ


আরও খবর

ময়মনসিংহ

সোমবার ঈশ্বরগঞ্জের চর রামমোহনে সুহৃদের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হয়-সমকাল

  ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

শহরে শীত একটু কম অনুভূত হলেও গ্রামে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। ভুক্তভোগীদের কষ্ট লাঘবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের চর রামমোহনের শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ।

সোমবার দুপুরে রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মুদাব্বিরুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় ও সুহৃদ সমাবেশ ঈশ্বরগঞ্জ শাখার উদ্যোগে কম্বল দেওয়া হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমকালের ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান, সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা ফেরদৌস কোরাইশী টিটু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাকীম, সদস্য রুহুল আমিন রিপন, নাঈম বাশার ও ইউপি সদস্য এমদাদুল হক প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা


আরও খবর

ময়মনসিংহ

নিহত পলাশ মিয়ার স্বজনদের শোকের মাতম। ছবি: সমকাল

  সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় পলাশ মিয়া (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার বন্ধু সাগর মিয়া। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্রবয়ড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে  সাগর মিয়ার দাদী রওশনারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

পলাশ মিয়া পোগলদিঘা ইউনিয়নের কান্দারপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের একমাত্র ছেলে এবং পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পলাশের সহপাঠী ও  প্রতিবেশী ফাহিম হোসেন তার ছোট ভাই ফারদিন আহম্মেদের জন্য অবৈধভাবে জেএসসি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে একই ইউনিয়নের রুদ্রবয়ড়া গ্রামের সাগর মিয়াকে দুই হাজার টাকা দেয়। টাকা নিয়ে সার্টিফিকেট না দেওয়ায় সাগর মিয়াকে টাকা ফেরত দিতে বলে ফাহিম। এক পর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়া কথা বলে রোববার সন্ধ্যায় ফাহিমকে মোবাইল ফোনে বাড়িতে ডেকে নেয় সাগর। টাকা ফেরত নিতে পলাশ মিয়াসহ ১০/১২ জন বন্ধুকে নিয়ে সাগরের বাড়িতে যায় ফাহিম। এ সময় ফাহিম ও সাগরের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির একর্পযায়ে সাগর কুড়াল নিয়ে সবাই ধাওয়া করে। বন্ধুদের সবাই দৌড়ে পালাতে পারলেও পলাশ দৌড়াতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় সাগর তাকে কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কোপায়। পরে পলাশকে সাগরের বাড়ির লোকজন কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে এক কিলোমিটার দুরে আব্দুল্লাহ মোড় নামক স্থানে ফেলে আসে। সেখান থেকে গুরুতর আহত পলাশকে প্রথমে সরিষাবাড়ী ও পরে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর জানার পর সাগর মিয়া ও তার বাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। 

সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) জোয়াহের হোসেন খান জানান, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে সাগর মিয়ার দাদী রওশনারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

পরের
খবর

ঈশ্বরগঞ্জে সুহৃদের কম্বল বিতরণ


আরও খবর

ময়মনসিংহ

শীতার্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল— সমকাল

  ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

চারিদিকে ব্র‏‏হ্মপুত্রের অথৈ পানি। খরস্রোতার সঙ্গে লড়াই করে বসত নতুনচর গ্রামের মানুষের। নদের সঙ্গে লড়াইয়ে বরাবরই হার মানতে হচ্ছে সেখানের মানুষদের। কখনও ভাঙন, আবার কখনও বন্যা মোকাবেলা করেই চলছেন সেখানের বাসিন্দারা। দ্বীপের মতো এলাকাটিতে সরকারি সহায়তা পৌঁছায় না বললেই চলে। ব্র‏হ্মপুত্রের জেগে ওঠা চরে বসতি গড়া অসহায় শীতার্ত মানুষগুলোর মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে কম্বল নিয়ে হাজির হয় সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অধীনে পড়েছে উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারপর নতুনচর গ্রামটি। নতুনচর গ্রামটি ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থিত। ওই গ্রামে তিন শতাধিক পরিবারের বাস। এখানে বসবাসরতরা সবাই নদী ভাঙনের কবলে পরে নতুন চরের বসতি গড়েছে। গেল বছর বন্যায় তলিয়ে যায় গ্রামটি। নিদারুণ দুর্ভোগে পড়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় পরিবারগুলো। পানি কমার পর ফিরে আসে শেষ আশ্রয়স্থলে। এ বছর পানির কবলে পড়েনি নতুনচরের মানুষ। তবে ব্র‏হ্মপুত্রের দ্বীপটিতে শীতে কষ্টে দিনাতিপাত করছে মানুষগুলো। শীতার্ত চরাঞ্চলের এই মানুষগুলোর মাঝে উষ্ণতা ছড়াতে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ঈশ্বরগঞ্জ শাখা কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেয়।

অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের জন্য গত একমাস ধরে চলে প্রস্তুতি। সুহৃদ সমাবেশের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে এগিয়ে আসে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় ২ শতাধিক কম্বল নিয়ে শনিবার সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা যায় নতুনচর গ্রামে।

কম্বল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গ্রামের বাসিন্দারা— সমকাল

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টাল দিকে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বর এলাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় ‘অসহায় মানুষের পাশে আমরা’ সুহৃদ সমাবেশের এই স্লোগানের গাড়ি। সড়ক পথে মরিচারচর চৌধুরী বাড়ির ঘাট থেকে ট্রলারে যেতে হয় নতুন চরে। ট্রলারে নতুন চরে যেতে সময় লাগে অন্তত আধা ঘণ্টা। নতুনচরে সুহৃদ টিমের পৌঁছাতে বেজে যায় বেলা ২টা। স্থানীয় মসজিদের মাইকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম ঘোষণা করেন সুহৃদের কম্বল চলে এসেছে।

এর আগে শনিবার সকালে অসহায় মানুষের তালিকা করে তাদের কাছে স্লিপ পৌঁছানো হয়। স্লিপ নিয়ে একে একে নারী, পুরুষ জড়ো হন ব্র‏হ্মপুত্রের তীরে। সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে অসহায় মানুষগুলোকে কাতার করে বসিয়ে দেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা ফেরদৌস কোরাইশী টিটু, সুহৃদ সমাবেশের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন কামাল, সমকালের ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান, সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, রুহুল আমিন রিপন, রাকিবুল ইসলাম শুভ, মহিউদ্দিন রানা, মো. মোস্তাকীম, রাজব দাস, মোজাম্মেল হক হিরণ, মশিউর রহমান টিটু, মোস্তাকীম পলাশ, আরিফুল হক, আল আমিন মর্তুজা, তরিকুল হাসান রাজন, অজয় গৌঁড়, মোহাইমিনুল ইসলাম শিহাব প্রমুখ।

স্লিপ নিয়ে কম্বল বিতরণ উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। এর পর একে একে স্লিপ সংগ্রহ করে অসহায় মানুষগুলোর হাতে কম্বল তুলে দেয় সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা। সুহৃদ সমাবেশের সদস্যদের হাত থেকে কম্বল পেয়ে খুশিতে বাড়ি ফেরেন অসহায় মানুষগুলো।

গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, গ্রামটির প্রতি ওপর মহলের নজর কম। এখানে সব অসহায় মানুষের বসবাস। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর