মিউজিক

‘ফিরোজা বেগমের কণ্ঠে ছিল অমিয় সুধা’

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ফিরোজা বেগমের কণ্ঠে ছিল অমিয় সুধা’

ফিরোজা বেগম ও ফেরদৌস আরা

  ফেরদৌস আরা

ফিরোজা বেগম যখন নজরুলসঙ্গীত গাইতেন, তখন মনে হতো স্বয়ং নজরুল যেন তার ওপর ভর করেছেন। তার কণ্ঠে ছিল অমিয় সুধা। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই শিল্পীর মাঝে আমরা সব সময় অভিভাবকের ছায়া খুঁজে পেতাম। দেখতে দেখতে তাকে ছাড়া পাঁচটি বছর কেটে গেল। তৎকালীন অনেক শিল্পীর কণ্ঠই ধারণ করেছে নজরুলের গান। তবে নজরুলসঙ্গীতের কথা বললে মুহূর্তেই যে শিল্পীর ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে- তিনি ফিরোজা বেগম। নজরুলের গানকে তিনি খুব সহজেই শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং জনপ্রিয় করেছেন। ফিরোজা বেগমের বিশেষত্ব তার কণ্ঠে, নজরুলের প্রতি তার শ্রদ্ধায়। তার বিশেষত্ব, স্বয়ং নজরুল ইসলাম তার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এমনকি বিদ্রোহী কবি তাকে স্বস্নেহে গানের তালিমও দিয়েছেন। নজরুল ইসলামের গান ছিল ফিরোজা বেগমের সাধনা। আর ব্যক্তি নজরুল ইসলাম ছিলেন ফিরোজা বেগমের অনুপ্রেরণা।

সেকাল-একাল সব কালকে জয় করে নিয়েছেন ফিরোজা বেগম। তিনি আমাদের সব শিল্পীর কাছাকাছি আসতে পেরেছিলেন। আমার বোন জান্নাত আরাকে খুব বেশি স্নেহ করতেন। মূল্যায়নও করতেন। ভারতে ঘুরে এসেই বলতেন, ওপার বাংলার সবাই তোমাদের কথা জিজ্ঞেস করে সব সময়। আমাদের দুই বোনের কথা আপার মুখে সব সময়ই থাকত। তার সঙ্গে কাটানো অনেক স্মৃতি এখনও চোখে জ্বলজ্বল করছে। বগুড়ায় তিন দিনব্যাপী নজরুলসঙ্গীতের একটি অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমিই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় বলেছিলেন অনুষ্ঠানে শুধু বক্তব্য রাখবেন, গান গাইবেন না তিনি। কিন্তু ওখানে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে ১৩টি গান করলেন।

তার সঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। শুধু দেশেই নয়। বিদেশের মাটিতে অনেক অনুষ্ঠানে গান করার সৌভাগ্য হয়েছে। কলকাতায় 'রাতভর নজরুল' শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান করেছিলেন সুবর্ণ কাজী। সেখানে আমি ও ফিরোজা আপা একমঞ্চে গান করেছি। এটা আমার জীবনের অন্যতম স্মৃতি। গানের পাখির কণ্ঠে আর কোনো গান শোনার সুযোগ হবে না- এটা ভাবলে মন বিষাদে ভরে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর- তারিখটা প্রতিবছরই মনে করিয়ে দেবে, সেই বেদনাদায়ক দিনটির কথা, যেদিন আমাদের ছেড়ে অন্য ভুবনে চলে গিয়েছেন নজরুলসঙ্গীতের সম্রাজ্ঞী ফিরোজা বেগম, আমার প্রিয় ফিরোজা আপা। তিনি এক সঙ্গীত মহীরুহের নাম। যাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, যার স্নেহের পরশ পেয়েছি। ক্ষণে ক্ষণে তার কতশত স্মৃতি মনে পড়ে।

মন্তব্য


অন্যান্য