মিউজিক

‘নজরুলের গানের সাহিত্যমূল্য শিল্পীর ওপরে নির্ভর করে না’

প্রকাশ : ২৭ আগষ্ট ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘নজরুলের গানের সাহিত্যমূল্য শিল্পীর ওপরে নির্ভর করে না’

  বিনোদন প্রতিবেদক

ফেরদৌস আরা। নজরুল সঙ্গীতশিল্পী। কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়াণ দিবস আজ। নজরুল স্মরণে বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে সঙ্গীত পরিবশন করবেন তিনি। নজরুল সঙ্গীতের এসব আয়োজন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে 

নজরুলের প্রয়াণ দিবসে আজ কী কী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন?

আজ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে নজরুলসঙ্গীত পরিবেশ করব। তার মধ্যে বিকেল ৩টায় জাতীয় জাদুঘরে সঙ্গীত পরিবেশন করব। সন্ধ্যায় চ্যানেল আইয়ে একক সঙ্গীতানুষ্ঠান রয়েছে। আর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলা টিভির আয়োজনে লাইভ অনুষ্ঠানে নজরুলের গান পরিবেশন করব। তা ছাড়া নজরুলের প্রয়াণ দিবসে আমার গানের স্কুল সুর সপ্তকে সকাল থেকেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

'নজরুল সমগ্র' করার কাজে হাত দিয়েছিলেন, কতদূর এগোল?

নবম খণ্ড বেশ কিছুদিন আগেই প্রকাশ পেয়েছে। এখন দশম খণ্ডের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। কাজী নজরুল ইসলামের গবেষণালব্ধ গানগুলো নিয়ে অ্যালবাম করছি। এতদিন নজরুলসঙ্গীতের সঙ্গে থেকে আমার মনে হয়েছে, নজরুলের অনেক ভালো গবেষণামূলক গান রয়েছে; যেগুলো শ্রোতার কাছে এখন অবধি পৌঁছায়নি, সে গানগুলো কণ্ঠে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আসলে এই কাজটার অভাব আমার কাছে অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছে। 

নজরুলসঙ্গীত নিয়ে আপনার ভাবনার কথা জানতে চাই...

কাজী নজরুল ইসলামের সব সাহিত্যকর্মের মধ্যে আমার বিচরণের ক্ষেত্র শুধু তার গানগুলোতে। নজরুলের গানের বাণী ও সুর শ্রোতাদের কাঁদায়-হাসায়, জীবন সম্পর্কে ভাবিয়ে তোলে। শুরু থেকেই নজরুলসঙ্গীতকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। 

আপনার গানের স্কুল সুর সপ্তকের কী খবর?

সুর সপ্তক নজরুলের গান নিয়ে গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছেলেমেয়েরা এখানে গান শিখছে। অনেক ভালো ভালো ছেলেমেয়ে নজরুলসঙ্গীতে প্রশিক্ষিত হচ্ছে। একসময় এরাই নজরুলসঙ্গীতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস। সুর সপ্তকে এখন ডিপ্লোমা কোর্সেরও ব্যবস্থা আছে। নজরুল ইনস্টিটিউটে সরকারিভাবে ডিপ্লোমা করার ব্যবস্থা থাকলেও বেসরকারিভাবে সুর সপ্তকই প্রথমবার এই ব্যবস্থা চালু করেছে। 

তরুণদের নজরুলের গান নিয়ে কেমন আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন?

নজরুলসঙ্গীতের একজন শিল্পী ও প্রশিক্ষক হিসেবে বলব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে, মিউজিক কলেজ, নজরুল ইনস্টিটিউট এমনকি প্রান্তিক এলাকায় এখন নজরুলকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে। তা ছাড়া নজরুলসঙ্গীত এখন শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসছে নজরুলসঙ্গীতের ওপর বিভিন্ন কোর্স করার জন্য। এটি যথেষ্ট আগ্রহের পরিচায়ক। তরুণরা ভীষণরকম বাংলা গানকে ভালোবাসে, বিশেষ করে নজরুলসঙ্গীতকে। এরা যে শুধু রক অ্যান্ড রোল পছন্দ করে তা নয়, নজরুলকেও পছন্দ করে। তাই মনে করি, তরুণদের নজরুলসঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের নিয়ে খুবই আশাবাদী।

কিন্তু এখন সেভাবে প্রতিশ্রুতিশীল নজরুলসঙ্গীত শিল্পী দেখা যায় না। এটি নজরুলসঙ্গীতের প্রতি হুমকি বলে মনে করেন কি?

শিল্পী তৈরি হওয়া সহজ ব্যাপার নয়। তবে আমার মনে হয় না এটা নজরুলসঙ্গীতের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ নজরুল তার শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন। হয়তো ভালো শিল্পীর অভাবে নজরুল চর্চা কিছুদিন কম হতে পারে, তবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা একদমই ভাবি না। নজরুলের গানের সাহিত্যমূল্য শিল্পীর ওপরে নির্ভর করে না। তিনি ভালো গান লিখেছেন, যে কারণে ২০ বছর আগেও যেমন তার গান নিয়ে চর্চা হতো, এখনও তার শিল্পকর্মের আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। এটা ঠিক, স্বরলিপি থেকে নজরুলের গান কণ্ঠে ধারণ করা বেশ কঠিন। যে কারণেই আমার মনে হয় ব্যাপক পরিমাণে নজরুলশিল্পী সহজেই তৈরি হওয়াটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং।

এই মাধ্যমের প্রসারে প্রধান বাধা কী?

অর্থায়নের অভাবই নজরুলসঙ্গীতের প্রসারে প্রধান বাধা। আমাদের দেশে অনুষ্ঠান করতে গেলে সাধারণত স্পন্সর পাওয়া ভীষণ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। নজরুলসঙ্গীতকে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বড় স্পন্সরশিপ কিংবা পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই।

মন্তব্য


অন্যান্য