মিউজিক

ঈদ উৎসবে হৃদয়ছোঁয়া গানের অভাব

প্রকাশ : ২২ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ২২ আগষ্ট ২০১৯

ঈদ উৎসবে হৃদয়ছোঁয়া গানের অভাব

  বিনোদন প্রতিবেদক

প্রতিবার ঈদ উৎসব ঘিরে সঙ্গীতের যেমন আয়োজন হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তারকাশিল্পী ছাড়াও তরুণ অনেক শিল্পী ও সঙ্গীতায়োজক প্রকাশ করেছেন তাদের নতুন গান ও ভিডিও। কিন্তু বেশিরভাগ আয়োজন ফিকে মনে হয়েছে; দর্শক-শ্রোতার প্রতিক্রিয়ায় তা স্পষ্ট। প্রকাশিত গান ও মিউজিক ভিডিওর সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় কোনো অংশে কম ছিল না। ছিল শুধু হৃদয়ছোঁয়া গানের অভাব। এরপরও কিছু গানের ভিডিওতে ভিন্নতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন অনেকে। দর্শকের মাঝেও সাড়াও ফেলেছে বেশ কিছু লিরিক্যাল ও মিউজিক ভিডিও। তার মধ্যে আসিফ আকবরের গাওয়া 'দেবদাস' গানের ভিডিও নিয়ে আলোচনা শোনা গেছে বেশি। ভিডিওতে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর নতুন এক বেশভূষায় নিজেকে তুলে ধরেছেন। তার পাশাপাশি মডেল নাফিসা কামাল ঝুমুরের অভিনয়ও মনোযোগ কেড়েছে অনেকের। রাজিবের গীতিকথা আর শাহরিয়ার রিফাতের সুর-সঙ্গীতের এই গানটি অনেকের মনে ছাপ ফেলেছে।

এর পাশাপাশি আসিফের 'আমি তুমিময়' গানটিও দারুণ সাড়া ফেলেছে। কিন্তু ন্যান্সির গাওয়া ভিন্ন ধাঁচের গান 'জানি না কোন কারণে' অনেকের প্রশংসা কুড়ালেও প্রযোজকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে আরমান আলিফের গান 'ধোঁকা'র ইউটিউব ভিউ অনেকের চেয়ে বেশি হলেও এর কথা, সুর, সঙ্গীত ও গায়কী শ্রোতাদের মাঝ খুব একটা সাড়া ফেলেনি। একাধিক গান প্রকাশ করে ইমরান বরাবরের মতো এবারও তার ভক্তদের প্রত্যাশা অনেকটা পূরণ করতে পেরেছেন- এমন মত অনেকের। শুভমিতার সঙ্গে গাওয়া 'ক্ষয়', কোনালের সঙ্গে গাওয়া 'মন ছুটে যায়' দ্বৈত গান দুটি শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছে। এবার ঈদে তাহসান কিছুটা আড়ালে ছিলেন বলা যায়। তারপরও ভক্তদের কথা ভেবে প্রকাশ করেছেন একক গান 'ভালো আছি'। যদিও তার আগের গানগুলোর মতো 'ভালো আছি' আলোড়ন তোলেনি, তবে ভক্তদের প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ করেছে। একই কথা বলা যায় কর্নিয়ার 'হয়নি বলা ভালোবাসি', কনার 'মুখোমুখি' ও 'আমার ভালোবাসা', গান দুটি নিয়ে। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঙ্গীতভক্তদের মনে কড়া নাড়তে সক্ষম হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী ঐশী। তার গাওয়া 'যদি আমি না থাকি' ও 'সত্যি করে বল', গানে শ্রোতা নতুন এক ঐশীকে আবিস্কার করেছেন। জনপ্রিয় ও তারকাশিল্পীদের পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের বেশ কিছু গান সঙ্গীতপ্রেমীর মনোযোগ কাড়তে পেরেছে। সে তালিকায় রয়েছে রেহানের 'পরাজয়', টুম্মার 'বন্ধুরে', প্লাজমিক নক ব্যান্ডের 'আত্মচিৎকার', মাহতিম শাকিবের 'তোকে যখন মনে পড়ে', শরিফুলের 'ভাবতে ঘেন্না লাগে'সহ আরও বেশ কিছু গান। এ গানগুলো ছাড়াও ব্ল্যাক ব্যান্ডের 'ধূসর' ও শুভর গাওয়া 'মিস করি' গান দুটি অনেকের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে। নীরিক্ষাধর্মী কাজের মধ্যে প্রশংসা পেয়েছে কাঙালিনি সুফিয়া, কনা, মার্সেল ও হূদি শেখের সম্মিলিত আয়োজন 'প্রেমিক বাঙাল'।

যে কোনো উৎসব আয়োজনে কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ নতুন গান প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু এবারের ঈদে তিনি কোনো গান প্রকাশ করেননি। তবে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গীতায়োজনে নবীন শিল্পী তারিকের গাওয়া 'অভিমানী প্রেম' গানের ভিডিও। এই গান এবং শিল্পীর গায়কী নিয়ে দর্শকের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে হাবিবের কাছে শ্রোতার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলে অনেকে জানিয়েছেন। কণ্ঠশিল্পী মিনার গায়কীতে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপন করার চেস্টা করেন। এর প্রমাণ তার নতুন গানগুলোতেও পাওয়া গেছে। কিন্তু শ্রোতার প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও এবারের উৎসবে সেভাবে সরব হতে দেখা যায়নি মিনারকে। তবে তার নতুন গান 'আমি উড়বো না' নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকের। জনপ্রিয় শিল্পী ডলি সায়ন্তনী প্রকাশ করেছেন তার নতুন গান 'আঙ্গুল কাটিয়া'। যদিও এই গানে তার গায়কির মাদকতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরও ভক্তরা খুশি অনেকদিন পর প্রিয় শিল্পীর একটি গান উপহার পেয়ে। ডলি সায়ন্তনী নিয়মিত না হলেও বেশকিছু শিল্পী নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এবার ঈদে তেমনই কয়েকজন শিল্পী নতুন গান ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে কাজী শুভর 'আছি কত সুখে', 'কত ভালোবাসি তোকে', সালমার 'আউলা প্রেমের বাউলা বাতাস', তানযীব সারোয়ারের 'চলো বৃষ্টিতে', ফজলুর রহমান বাবুর 'পাঠাইলা কেন সংসারে', আরেফিন রুমির 'হৃদয় জানে', এফএ সুমনের 'জানরে আয়', ইমন খানের 'চন্দ্রমুখী'সহ আরও বেশ কিছু গান শ্রোতাদের উৎসব-আনন্দকে খানিকটা রঙিন করে তুলেছে। কিন্তু ঘুরেফিরে দেখা গেছে, যে সংখ্যক গান ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে, তার তুলনায় দর্শক-শ্রোতার মনে অনুরণন তোলার মতো গানের সংখ্যা খুবই কম। এতে সব শ্রেণির দর্শক-শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

অনেকের মতো যে ধরনের গান বা ভিডিও সর্বাধিক প্রকাশ পেয়েছে, তা বেশি দিন বেঁচে থাকবে- এমন আশা করা যায় না। সঙ্গীত নিয়ে একসময় ভেবে শিল্পী, সুরকার-গীতিকার নিরীক্ষায় মেতে উঠতেন, এখন তার ছাপ কোনো আয়োজনে খুঁজে পাওয়া যায় না। হাতেগোনা কিছু শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক নতুন কিছূ করে দেখানোর প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বেশিরভাগই কাজ করছেন তারকাখ্যাতি পাওয়ার জন্য। প্রিন্স মাহমুদ, বাপ্পা মজুমদার, হাবিব ওয়াহিদের মতো অনেকেই এবার ঈদে ছিলেন অনুপস্থিত। হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া তাদের গাওয়া, সুর ও সঙ্গীতায়োজনের গান প্রকাশ পায়নি। সবমিলিয়ে তাই ঈদের গানের আয়োজন অনেকটা গৎবাঁধা বলে মনে হয়েছে। 


মন্তব্য


অন্যান্য