জীবনশৈলী

ধূমপানে কণ্ঠনালির ক্যান্সার

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

ধূমপানে কণ্ঠনালির ক্যান্সার

প্রতীকী ছবি

  ডা. মনিলাল আইচ

হেড নেক ক্যান্সারের মধ্যে কণ্ঠনালির ক্যান্সার অন্যতম। নারীদের তুলনায় পুরুষরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। ক্যান্সার কণ্ঠনালির যে কোনো জায়গায় হতে পারে। কিন্তু এর ভালো হওয়া নির্ভর করে ক্যান্সার কোন জায়গায় হয়েছে, তার ওপর।

ক্যান্সারকে বিভিন্ন স্টেজে ভাগ করার জন্য কণ্ঠনালিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- ভোকাল কর্ডের মধ্যে, উপরে ও নিচে। বেশিরভাগ কণ্ঠনালির ক্যান্সার গল্গটিসে উৎপন্ন হয়। সাধারণত ধূমপান, অ্যালকোহল, ভাইরাল, অপুষ্টি, রেডিয়েশন, জেনেটিক রোগ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে কণ্ঠনালির ক্যান্সার হয়।

কণ্ঠনালির ক্যান্সার হলে সাধারণত গলা ফ্যাসফ্যাস করা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হওয়া, গলায় পিণ্ড দেখা দেওয়া, গলায় ঘা হওয়া বা গলায় কিছু আটকে আছে- এমন মনে হওয়া, সারাক্ষণ কাশি থাকা, উচ্চমাত্রায় শোঁ শোঁ শব্দ যা শ্বাসনালির সংকোচনের ফলে হয়ে থাকে, দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস থাকা, কানে ব্যথা হওয়া অনুভূত হয়। রোগের ইতিহাস জেনে, রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও কিছু কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যেমন- এক্স-রে, সিটি ও এমআরআই পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়।

কণ্ঠনালি পরীক্ষা করার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। রোগীর সমস্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে শরীর স্বাভাবিক আছে কি-না। কোথাও অসুখের কোনো উপসর্গ আছে কি-না এবং শরীরের কোথাও অসুখটি ছড়িয়েছে কি-না, গলা ও ঘাড় পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনো বড় লসিকাগ্রন্থি আছে কি-না, মুখ গহ্বর ও গলার ভেতরের অংশ সরাসরি দেখতে হবে। কণ্ঠনালি একটি সরু বক্র দণ্ডের সঙ্গে লাগানো আয়না দিয়ে পরিষ্কার আলোতে দেখতে হবে।

এভাবে দেখতে পারলে খুব ভালো দেখা যায়। তবে এতে দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। এ কারণে অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নাকের ভেতর এন্ডোস্কোপ ঢুকিয়ে গলার ভেতর ও কণ্ঠনালি পরিষ্কারভাবে দেখে নাকের ভেতর দিয়ে অ্যান্ডোস্কোপি করা সহজ এবং দ্রুত দেখা যায়। এখানে স্থানীয়ভাবে অবশ করার ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যান্সার বলে সন্দেহ হলে বায়োপসি করতে হবে। তবে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারটির অবস্থান, ধরন বা স্টেজ কী সেসবের ওপর। এ জন্য সার্জারি, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি এককভাবে কিংবা যুগপতভাবে চিকিৎসা দেওয়া যায়। তাই এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

লেখক:

অধ্যাপক ও বিভাগীয়প্রধান

ইএনটি বিভাগ

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

মন্তব্য


অন্যান্য