জীবনশৈলী

অসহ্য মাথাব্যথায় করণীয়

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অসহ্য মাথাব্যথায় করণীয়

প্রতীকী ছবি

  ডা. শহীদুল্লাহ সবুজ

মাথাব্যথা অতি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। মাথাব্যথা বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক সমস্যা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মারাত্মক রোগ নির্দেশ করে না। দুশ্চিন্তা ও মাইগ্রেন শতকরা ৯০ ভাগ মাথাব্যথার জন্য দায়ী।

মাথাব্যথা নানা কারণে হয়ে থাকে। টেনশন কিংবা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার, সাইনাস কিংবা চক্ষুজনিত মাথাব্যথা, হরমোনজনিত মাথাব্যথা, ব্রেন টিউমার, মগজের ভেতর রক্তপাত, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে।

মাইগ্রেন

শতকরা ১০-১৫ ভাগ লোক এ ধরনের মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়। মাইগ্রেন মেয়েদের বেশি হয়। সাধারণত ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে মাইগ্রেনের লক্ষণ দেখা দেয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় মগজের রাসায়নিক বাহক সেরোটিনিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং মাথা বাইরের ধমনিগুলো প্রসারিত হয়।

লক্ষণসমূহ

-মাথাব্যথা সাধারণত মাথার একদিকে হয়। তবে ব্যথা সমস্ত মাথায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

-মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব হয়, এমনকি বমিও হতে পারে।

-রোগী তখন আলো সহ্য করতে পারে না।

-এ ধরনের মাথাব্যথা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলতে পারে; কিন্তু দিনব্যাপী খুব কম হয়।

-মাইগ্রেন রোজ, সপ্তাহ কিংবা মাসব্যাপী হতে পারে।

-দুশ্চিন্তা, মদ্যপানে মাথাব্যথা বেশি হয়। পনির, চকোলেট ইত্যাদি খাবারেও মাথাব্যথা বেশি হয়। ঘুমালে মাথাব্যথা কমে যায়।

-মাইগ্রেনের বংশগত ইতিহাস থাকতে পারে।

-সাধারণত কোনো স্নায়বিক উপসর্গ থাকে না।

-হার্টের অলিন্দে ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে, তবে এ ক্ষেত্রে রোগী কোনো ধরনের হার্টের সমস্যা অনুভব নাও করতে পারেন।

চিকিৎসা

যেসব কারণে মাইগ্রেনের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তা পরিহার করতে হবে। স্বল্পস্থায়ী চিকিৎসা হিসেবে প্যারাসিটামল, এরগোটামিন, পিজোটিফেন, প্রপ্রানালোল, এমিট্রিপটাইলিন ব্যবহার করা যেতে পারে। হার্টে ছিদ্র আছে কি-না তার জন্য ইকো কালার ডপলার পরীক্ষা করে হার্টের চিকিৎসার দরকার হতে পারে।

ক্লাস্টার

ক্লাস্টার মাইগ্রেনের চেয়ে কম হয়। এ ধরনের মাথাব্যথা মধ্যবয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু মাইগ্রেন নারীদের বেশি হয়।

লক্ষণসমূহ

-তীব্র যন্ত্রণাদায়ক মাথাব্যথা।

-মাথাব্যথা সাধারণত এক চোখে ও চোখের পেছনে হয় এবং সেদিকের চোখ লাল হয়, পানি পড়ে। নাক দিয়েও পানি পড়ে।

-মাথাব্যথা হঠাৎ করেই হয়ে থাকে। পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা সবচেয়ে বেশি হয় এবং আধ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়।

-মাথাব্যথায় ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

-মদ্যপানে মাথাব্যথা বেশি হয়।

-মাথাব্যথা কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হয় এবং দিনে কয়েকবার করে হয়।

চিকিৎসা

চিকিৎসা হিসেবে উচ্চমাত্রায় এনএসআইডি অথবা এরগোটামিন এবং ভেরাপামিল ব্যবহারে রোগীর সমস্যা কমতে দেখা যায়। অর্ধেকের বেশি রোগী ফেস মাস্কের মাধ্যমে ১০০ ভাগ অক্সিজেন শ্বাসের সঙ্গে নিয়ে উপকার পায়। এসব রোগীর ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করা উচিত।

সাইনাসের মাথাব্যথা

যাদের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হয়, তাদের সাইনোসাইটিস থেকে এ ধরনের মাথাব্যথা হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহ

-ঠাণ্ডা কিংবা সর্দি-কাশি লাগার সময় কিংবা পরে এ ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয়।

-ব্যথা মুখমণ্ডলের কিংবা মাথার কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে।

-মাথাব্যথা সকালের দিকে বেশি হয়।

-হাঁচি-কাশি দিলে ব্যথা বেশি হয়। হঠাৎ করে মাথা নাড়লেও ব্যথা বেশি হয়।

-শীতকালে বেশি হয়।

-রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করতে হবে।

চিকিৎসা

চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, ডিকনজেস্ট্যান্ট কিংবা নাকের স্প্রে দেওয়া হয়।

চক্ষুজনিত মাথাব্যথা

শতকরা ৫ ভাগ মাথাব্যথা চোখের কারণে। চোখের দৃষ্টিশক্তি কম থাকলে মাথাব্যথা হতে পারে। অনেকক্ষণ পড়াশোনা করা, সেলাই করা, সিনেমা দেখা কিংবা কম্পিউটার স্ট্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে। চোখের কোনো রোগ, যেমন- কর্নিয়া, আইরিশের প্রদাহ, গ্লুকোমা এবং রেট্রোবালবার নিউরাইটিস ইত্যাদি কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। চক্ষুজনিত মাথাব্যথা সাধারণত চোখে, কপালের দু'দিকে কিংবা মাথার পেছনে হয়ে থাকে। চক্ষুজনিত মাথাব্যথায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

হরমোনজনিত মাথাব্যথা

নারীদের মাসিকের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে মাথাব্যথা হতে পারে। মাসিক চক্র শেষ হলে কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে এ ধরনের মাথাব্যথা ভালো হয়ে যায়।


লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, নিউরোলজি বিভাগ বিএসএমএমইউ

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

পিঁপড়ার কবল থেকে চিনি বাঁচাবেন যেভাবে


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

বাড়িতে যেখানেই চিনি রাখুন না কেন পিঁপড়া ধরে যায়। পিঁপড়ের হাত থেকে চিনি বাঁচাতে কতজন কতভাবেই না চেষ্টা করেন। অনেকে পলিথিনের প্যাকেটে চিনি মুড়ে সেটি কোনও শক্ত ঢাকনাওয়ালা পাত্রে রাখেন। কেউ আবার পিঁপড়ার হাত থেকে চিনিকে সুরক্ষিত রাখতে পাত্রটা ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু তারপরও পিঁপড়ার হাত থেকে মুক্তি মেলে না। এমন কয়েকটি উপায় আছে যেগুলি অনুসরণ করলে চিনির পাত্রে পিঁপড়া ধরবে না। যেমন-

১. চিনি বা খাবারের গন্ধ যেমন পিঁপড়াকে আকৃষ্ট করে, তেমনই কিছু গন্ধ এমনও রয়েছে যেগুলি পিঁপড়ারা মোটেই সহ্য করতে পারে না। তেমনিই একটা জিনিস হচ্ছে লেবুর খোসা। এক টুকরা লেবুর খোসা চিনির পাত্রে রেখে দিন। ২ থেকে ৩ দিন পর পর সেটি বদলে ফেলুন। এতে চিনির পাত্রের ধারে-কাছেও আসবে না পিঁপড়ার দল।

২. চিনির পাত্রে একটি তেজ পাতা রেখে দিন। কয়েকদিন পর পর পাতাটি বদলে দিন। তেজ পাতার গন্ধ পিঁপড়া মোটেও সহ্য করতে পারে না।

৩. দারুচিনির গন্ধও পিঁপড়ারা সহ্য করতে পারে না। তাই মাঝারি মাপের দুই একটা দারুচিনির টুকরা চিনির পাত্রে রেখে দিন।এতেও পিঁপড়া দূর হবে।

৪. চিনির পাত্রে একটি বা দুটি লবঙ্গ রেখে দিন। কয়েকদিন পর পর এটি বদলে ফেলুন।লবঙ্গের গন্ধ পেলে পিঁপড়ারা চিনির পাত্রের কাছে আসবে না। সূত্র : জি নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

পাকা চুল তুললে যা হয়


আরও খবর

জীবনশৈলী
পাকা চুল তুললে যা হয়

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

আজকাল চুল পাকার কোনও বয়স নেই।অল্প বয়সেও চুল পাকা দেখা যায়। সাধারণত মাথার চামড়ায় (ত্বকে) পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে চুল পাকতে পারে। এছাড়া হজমের সমস্যা বা লিভারের সমস্যা থাকলেও অকালে চুল পেকে যায়।

অল্প বয়সে চুল পাকার ফলে অনেকেই অস্বস্তিতে বোধ করেন।  তখন নিজের পাকা চুল বেছে তুলতে শুরু করেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে বেছে বেছে পাকা চুল তুললে চুলের বৃদ্ধি এবং নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। তখন নতুন চুল গজালে তা আগের তুলনায় রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন চুল না-ও গজাতে পারে। 

এ কারণে অল্প বয়সে চুল পেকে গেলে সেই অস্বস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পাকা চুল না তোলার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পাকা চুলের অস্বস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার চেষ্টায় উল্টে মাথায় টাক পড়ে যাওয়াটা মোটেই কাঙ্খিত নয়। বরং চুল পাকা প্রতিরোধে একাধিক প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করতে পারেন।

সূত্র : জি নিউজ


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে যেসব ক্ষতি হয়


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কথা বলা ছাড়াও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো, ছবি তোলা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান মোবাইলে। 

মোবাইলটা কারও কারও কাছে আসক্তির পর্যায়ে চলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আসক্তির কারণে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। যেমন-

১. অনবরত মেসেজ পড়া, ই-মেইল দেখা এবং মোবাইলের ছোট স্ত্রিনে ব্রাউজ করলে চোখের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দৃষ্টিতে সমস্যা দেখা দেয়। 

২. যেহেতু এখন বেশিরভাগ ফোনই আঙুলের স্পর্শের মাধ্যমে চালানো হয় এ কারণে বেশিক্ষন মোবাইল চালালে আঙুল ও কবজিতে ব্যথা দেখা দেয়।অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ঘাড়-মাথা ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘসময় কথা বললে কানেও সমস্যা দেখা দেয়।

৩. গবেষণায় দেখা গেছে, টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে মোবাইল ফোনে।অন্য কেউ আপনার মোবাইল ব্যবহার করলে তার থেকেও জীবাণূ ছড়াতে পারে। তখন শরীরে সংক্রমণও দেখা দিতে পারে।

৪. গোটা বিশ্বে লাখো মানুষ এখন হতাশায় ভূগছেন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বেশিরভাগ মানসিক রোগই হচ্ছে চাপ থেকে। আর এই চাপের অন্যতম কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।   সূত্র : হেলদি বিল্ডার্জড  

সংশ্লিষ্ট খবর