জীবনশৈলী

নাক দিয়ে রক্ত পড়ে কেন

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

নাক দিয়ে রক্ত পড়ে কেন

প্রতীকী ছবি

  ডা. মনিলাল আইচ অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে আসলে কারণই খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে যেটুকু খুঁজে পাওয়া যায়, তার কারণ অনেক।

অনেকে নাকে আঙুল দিয়ে নাক খোঁটা, রক্তচাপ বেড়ে গেলে, লিউকোমিয়া, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তসহ বিভিন্ন সিস্টেমিক রোগের কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে রোগীর উচ্চ রক্তচাপ আছে কি-না তা দেখা হয়। নাক ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়। রোগীর নাকের মাঝখানে যে দেয়ালটা আছে, সেটিতে কোনো ক্ষত আছে কি-না তা দেখা হয়। নাকের ভেতরে অস্বাভাবিক বেড়ে থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। নাকের পেছনে যে ন্যাজোফ্যারিংস থাকে, সেই জায়গাও ভালো করে দেখে নিতে হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত করা যায়। এরপর চিকিৎসা শুরু করা হয়।

তাই নাক দিয়ে রক্ত পড়লে শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

গায়ে হলুদের রীতির প্রচলন যেভাবে


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

বিয়ে মানেই বিরাট খাওয়াদাওয়া, সাজগোজ আর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান। গায়ে হলুদ বিয়ের অন্যতম একটি রীতি। হিন্দু বিয়েতেও এর চল আছে। অনেকে মনে করেন, গায়ে হলুদের রীতি প্রচলন হয়েছে হিন্দু ধর্ম থেকে। কিন্তু ভারতীয় ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা।

ঐতিহাসিকদের মতে, বর্তমান বিয়ের রীতি অনেকটাই মোঘল যুগ থেকে চলে আসছে। আগে নিয়ম ছিল সূচের ছোঁয়া নেই এমন পোশাক পরেই বিয়ে হবে। পরে মোঘল সম্রাট জাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান জরির সুতার তৈরি বেনারসির প্রচলন করেন। শাড়িগুলো দেখতে সুন্দর এবং আকর্ষনীয় হওয়ায় বিয়ের পোশাক হিসাবে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এই পোশাক ব্যবহার শুরু করেন।ইতিহাসবিদরা বলছেন, বিয়েতে গায়ে হলুদের প্রচলন কোন ধর্মীয় কারণে নয় বরং বেশ কিছু উপকারী দিকের কথা ভেবেই শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক ভাবে জীবাণুনাশক। হলুদ শরীরকে পরিষ্কার করে ও সংক্রমণ ঠেকায়। শরীরে তাপের ভারসাম্য রাখার পাশাপাশি ঠাণ্ডা রাখতেও সাহায্য করে হলুদ। 

বিয়ের সময় এমনিতে অনেকে মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। হিন্দু বিয়ের ক্ষেত্রে অনেকে উপোসও থাকেন। ধারণা করা হয়, বিয়ের সময় বর-কনের শরীর ভাল রাখার জন্য এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে হলুদ ব্যবহার করা হতো প্রাচীনকালে । সেটাই এখন আধুনিক রূপ পেয়ে আলাদাভাবে ‘গায়ে হলুদে’র অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিয়েতে হলুদের ছোঁয়া মঙ্গলজনকও ভাবা হত। 

এ ছাড়া হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ত্বকের যে কোনও সমস্যাকে ঢেকে রাখে। উপমহাদেশে রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের অন্যতম অনুষজ্ঞ ছিল এই হলুদ। হলুদের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা যে কোনও ত্বকের জন্যই উপকারী। চড়া মেকআপেও ত্বকের ক্ষতি করতে দেয় না হলুদ। 

মূলত এসব কারণেই যুগ যুগ ধরে হলুদকে বিয়ের অন্যতম উপকরণ হিসাবে ধরা হয়। তবে রীতি ও ধর্ম অনুযায়ী এর প্রয়োগ এবং আচারের অনুষ্ঠান ধীরে ধীরে আলাদা রূপ পেয়েছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সাইনাসের সমস্যা কমবে ঘরোয়া উপায়ে


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

অনেকেরই সাইনাসের সমস্যা আছে। এই সমস্যা তীব্র হলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, সারাক্ষণ নাক-মাথায় ভারী ভাব, এমনকি ব্যথার কারণে জ্বরও চলে আসে। একটু অনিয়ম হলেই এই সমস্যা বাড়তে পারে।

মুখের হাড়ের ভেতরে যে ফাঁপা, বায়ুভর্তি জায়গা থাকে, তার ভিতরের ঝিল্লিতে কোনও রকম বাধা এলে বা জ্বালা করলে সেখান থেকেই সাইনোসাইটিসের সমস্যা শুরু হয়।

যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের সারা বছরই সাবধান থাকা প্রয়োজন। সমস্যা বেশি হলে কখনও কখনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা হতে পারে। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরন করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন-

১. সাইনোসাইটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এক কোয়া রসুন ও এক চামচ মধু যোগ করুন। এই দুটি উপাদানেই একাধিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে কফজনিত অসুখ ঠেকাতে এগুলোর জুড়ি নেই। এক কোয়া রসুনের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে খেলে সাইনাসের আক্রমণ ঠেকাতে পারবেন অনেকটাই।

২. সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে স্যাঁতসেঁতে বা অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া ক্ষতিকারক। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে, এমন জায়গায় থাকুন।

৩. সাইনাসের সমস্যায় মাঝেমধ্যে নাকে গরম ভাপ নিন। বিশেষ করে একটু ঠাণ্ডার প্রবণতা বাড়লে নিয়মিত গরম ভাপ নিন। এতে নাক পরিষ্কার থাকবে। 

৪. আদা, মধুর মিশ্রণ জমে থাকা কফ পরিষ্কারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মধুর অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ক্ষমতা শরীর গরম রাখে। আদা প্রাকৃতির ভাবেই অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল। এই দুই উপাদানের মিশ্রণ প্রতি দিন খেতে পারলে সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

৫. নিয়মিত গরম পানীয় খান। চা-কফি খেলে তাতে চিনি বাদ দিয়ে মধু খান। সাইনাসের সমস্যা হলে গরম স্যুপও খেতে পারেন। 

৬. গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ভাল করে নিংড়ে নিন। এ বার এই তোয়ালে মুখের উপর দিয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। এতে অনেকটা আরাম পাবেন।

৭. সিগারেটের ধোঁয়া, বডি স্প্রে, ধুলোবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। এ সব সাইনোসাইটিসের সমস্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সূত্র : আনন্দবাজার

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ইউরিনে ইনফেকশন হলে কী করবেন


আরও খবর

জীবনশৈলী
ইউরিনে ইনফেকশন হলে কী করবেন

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

ইউরিন ইনফেকশন একটি পরিচিত সমস্যা। পুরুষের তুলনায় নারীদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মানুষের শরীরের দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি ইউরিনারি ব্লাডার (মূত্রথলি) এবং ইউরেথ্রা (মূত্রনালি) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। আর এই রেচনন্ত্রের যে কোনও অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয় তাহলে সেটাকে ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ বলা হয়। ইউরিন ইনফেকশন হলে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ পায়। যেমন-

১. প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হয়।

২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হয়ে যায়

৩. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়

৪. একটু পর পর প্রস্রাবের বেগ অনুভব করলেও ঠিক মতো প্রস্রাব হয় না

৫. তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা হয়

৬. বমি ভাব বা বমি হয়

৭. সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব বা কাঁপুনি দিয়ে ঘন ঘন জ্বর আসে

ইউরিন ইনফেকশন এমনই এক সমস্যা যা একবার হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘন ঘন ওষুধ না খেয়ে বরং ঘরোয়া কিছু প্রতিকারের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। যেমন-

১. ইউরিন ইনফেকশন হলে অনেক চিকিৎসকই রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি মুত্রথলি ভাল রাখে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালা ভাব কমাতে সহায্য করে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতেও সহায়তা করে ভিটামিন সি। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

২. প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে প্রসাবে হলুদ ভাব দেখা গেলেই দেরি না করে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। 

৩. আনারসে ব্রোমেলাইন নামক উপকারী এনজাইম থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত রোগীদের সাধারণত ব্রোমেলাইন সমৃদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রতিদিন এক কাপ আনারসের রস খান।

৪. ইউরিন ইনফেকশন হলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব এটি নিরাময় করা উচিত। আধা চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস পানিতে ভাল করে মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা ভাব অনেকটাই কমে যাবে। সূত্র : জি নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর