জীবনশৈলী

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে প্রতিদিন একটি করে ডিম

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে প্রতিদিন একটি করে ডিম

  অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দিনে একটি করে ডিম খেলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ফিনল্যান্ডের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ডায়াবেটিসের জন্য ডিম ভালো না খারাপ সেটা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই ফল পান। মলিকিউলার নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড জার্নালে সম্প্রতি এ গবেষণার ফল নিবন্ধ আকারে প্রকাশ করা হয়।

গবেষকরা ডিম ডায়াবেটিসের জন্য ভালো না খারাপ-দুইভাবেই তা পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায়, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ডিম দারুণ উপকারী।

গবেষণার জন্য ডিম গ্রহণকারী একদল ব্যক্তির ওপর ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট ফিনল্যান্ডের গবেষকরা পরীক্ষা চালান। গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা নিয়মিত ডিম খান, তাদের রক্তে লিপিড প্রোফাইল এমন এক পর্যায়ে থাকে, যা সাধারণত যাদের কখনই ডায়াবেটিস হয় না, তাদের মধ্যে দেখা যায়।

টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাদ্যাভাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যারা টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ভুগছেন তারা শরীরে ইনসুলিন তৈরি করতে পারেন না, যা শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই দরকারি।অন্যদিকে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে দেহে ইনসুলিন তৈরি হলেও তা অপর্যাপ্ত।অর্থাৎ তাদের দেহে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকে।

ডিম নানা পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর এর প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে গবেষকরা এখনও ধাঁধায় রয়েছেন। 

যেমন- আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটা খুব ভালো। প্রতিটি ডিমে দশমিক ৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য দারুণ কার্যকরী। ডিমে থাকা পটাশিয়াম রক্তে সোডিয়াম, বায়োটিনের মাত্রা ঠিক রাখে। ফলে শরীরে ভাল পরিমাণে ইনসুলিন উৎপন্ন হয়। এতে  ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডও ভাল থাকে। এছাড়া এতে কম ক্যালরি থাকে এবং বহুমুখী পুষ্টি উপাদানের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ।

অন্যদিকে ডিমের বিপক্ষেও কিছু প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। এতে কোলেস্টেরল থাকায় বেশি পরিমাণে ডিম খেলে সুস্থ মানুষেরও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন রয়েছে। এটিও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। নতুন গবেষণাটিতেও ডিম গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীদের রক্তে এমন কিছু জৈব রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা রোগটির শঙ্কা বাড়ায়।

সবদিক বিবেচনা করে গবেষকরা বলছেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় ডিম খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দিনে একটি করে ডিম খাওয়াই ভালো। সূত্র: ডেইলি মেইল

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খেতে পারেন আদা


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

আদা সর্দি-কাশি সারাতে দারুন কাজ করে এটা অনেকেরই জানা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদায় এমন সব ঔষধি গুণ রয়েছে যা একাধিক রোগ-ব্যাধি মোকাবেলায় সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় ৮০ ক্যালরি এনার্জি, ১৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৭৫ গ্রাম ফ্যাট, ৪১৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৩৪ মিলিগ্রাম ফসফরাস রয়েছে। নিয়মিত আদা খেলে যেসব সমস্যা দুর করা যায়-

১. হজমের সমস্যা, বুক জ্বালা কিংবা গ্যাস কমানোর জন্য আদা অত্যন্ত কার্যকরী।

২. শরীরের নানা ধরনের ব্যথা নিরাময়ে আদা দারুনভাবে প্রভাব ফেলে। আদার রসে থাকা জিঞ্জেরল ব্যথার অসুখের মতোই কাজ করে। 

৩. মার্কিন গবেষকরা বলছেন, আর্থ্রাইটিস সমস্যা কমাতেও আদা কার্যকরী।  ৪. যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, ক্যানসারের কোষগুলির অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি রুখে দিতে পারে আদার রস।

৪. মাইগ্রেনের সমস্যার নিরাময়েও আদা দারুনভাবে কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিহিস্টামাইন, অ্যান্টিনসিয়া উপাদান মাথা-ধরার অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

৫. ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও দারুন কার্যকরী আদা। এটি ক্যালরি পোড়াতে ভাল কাজ করে। তাছাড়া আদার রস কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম করাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বিপাকক্রিয়া এবং ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আদার বেশ ভূমিকা থাকে। 

৬. ঠান্ডা-গরমে খুসখুসে কাশি বা সর্দির সমস্যা দূর করতে আদার রস খুবই কার্যকরী। খুসখুসে কাশিতে গলার ভেতরের অস্বস্তি কমাতে আদার জুড়ি নেই।

৭. একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াজনিত যে কোনও সংক্রমণ ঠেকাতে আদার রস খুবই কার্যকরী।

৮. বমি বমি ভাব কমাতে আদার কুচি মুখে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। সূত্র : জি নিউজ


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শীতে শিশুর গোসলে বাধা নেই


আরও খবর

জীবনশৈলী
শীতে শিশুর গোসলে বাধা নেই

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯

প্রতীকী ছবি

  ডা. আবু সাঈদ শিমুল

ঠাণ্ডা মানেই শিশুদের নিয়ে বাড়তি শঙ্কা, এই বুঝি বাচ্চার সর্দি হলো। শিশুর গোসল নিয়ে তো শঙ্কা আরও বেশি। কারণ শীতে গোসল করালে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন অনেকেই। আসলে কিন্তু সরাসরি ঠাণ্ডার কারণে বাচ্চাদের সর্দি হয় না। যদি ঠাণ্ডাতেই সর্দি হতো, তবে তো শীতপ্রধান দেশের শিশুরা বেশিরভাগ সময় অসুস্থই থাকত।

মূলত ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ভাইরাসের কারণে বাচ্চাদের সর্দি-কাশি বেশি হয়। তাই শীতে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার পাশাপাশি রোগ-জীবাণু থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। রোগ-জীবাণু বিশেষ করে ভাইরাস থেকে শিশুদের মুক্ত রাখার সহজ উপায় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আর পরিচ্ছন্ন রাখতে গেলে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। শীতে সোনামণির নিয়মিত গোসলে কোনো বাঁধা নেই।

শীতে বাচ্চা গোসলের পানিটা কুসুম গরম হওয়া বাঞ্ছনীয়। গোসল করানোর আগেই অবশ্য দেখে নেওয়া উচিত পানি বেশি গরম হয়ে গেল কি-না। এই পানিতে এন্টিসেপ্টিক বা অন্য কিছু দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গোসলের পর সর্ষের তেল দেওয়ারও দরকার নেই। অবশ্য আগে তেল মাখলে ক্ষতি নেই। বাচ্চাদের গোসলে বেশি সময় নেওয়া উচিত নয়। পাঁচ থেকে সাত মিনিটেই এটি সম্পন্ন করতে হবে। বড় বাচ্চারা যখন বাথরুমে ঢোকে তখন বের হতেই চায় না। তারাও যেন বেশি সময় না নেয়, সেটি খেয়াল রাখুন।

শীতে শিশুদের প্রতিদিন গোসল করানো গেলেও যদি শৈত্যপ্রবাহের কারণে খুব বেশি ঠাণ্ডা পড়ে, তবে ওই ক'টা দিন ঘনঘন গোসল না করালেও চলে। এ সময় গোসল না করিয়ে পাতলা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে শরীরটা ভালোভাবে মুছে দিন।

সদ্যজাত শিশুর জন্মের প্রথম দু'দিন গোসল করানো উচিত নয়। এর পর থেকে গোসল করাতে পারেন। অন্যদিকে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়েট্রিক্সের নির্দেশনা হলো, শিশুকে প্রথম বছরে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার গোসল করালেই চলে।

তবে প্রিমেচিউর বাচ্চা বা সময়ের বেশ আগেই যারা জন্ম নিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এবং যাদের জন্মের সময় ওজন কম ছিল তাদের ক্ষেত্রে গোসলের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাচ্চা অসুস্থ থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


লেখক: কনসালট্যান্ট  শিশু বিভাগ  মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিয়ের আগে যে বিষয়গুলো আলাপ জরুরি


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

বিয়ে জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক এ বন্ধনের মাধ্যমে দুইজন মানুষ বাকী জীবন একজন আরেকজনের সঙ্গী হয়ে থাকার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

বিয়ে নিয়ে সবার কত ধরনের পরিকল্পনাই না থাকে।নিমন্ত্রণ, খাবার আয়োজন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বর-কনের পরিবারে থাকে নানা আয়োজন। তবে বিয়ে যেহেতু সারাজীবনের ব্যাপার তাই যার সঙ্গে আপনি জীবন কাটাতে যাচ্ছেন বিয়ের আগে তার সঙ্গে কিছু বিষয় আলাপ করা জরুরি। তাহলে নতুন জীবনে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা কম হবে। 

যেমন-

১. সঙ্গীর আর্থিক অবস্থা কেমন সেটা জানা উচিত। যদিও একজনের বেতন বা আয় জিজ্ঞেস করাটা অনুচিত তারপরও বিয়ের আগে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া উচিত। কারণ আপনার সঙ্গী সংসারে কি পরিমাণ খরচ পরিচালনা করতে পারবেন সেটা আপনার জানা উচিত। দুইজনের কারও কোন ধরনের ঋণ কিংবা ব্যাংক লোন আছে কিনা সেটাও সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি আলাপ করুন। এ বিষয়গুলো আগে থেকে আলোচনা করলে দুজন দুজনকে সাহায্য করতে পারবেন।

২. পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টিও বিয়ের আগে আলোচনা করা উচিত। আপনারা ঠিক কতদিন পর বাচ্চা নেবেন এটা আগে থেকে আলোচনা করতে পারেন।কারণ ক্যারিয়ার নিয়ে প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু ভাবনা থাকে । এ কারণে এ বিষয়টাও আলোচনা করা জরুরী।

৩. আপনি ঠিক কোন ধরনের মানসিকতার কিংবা সঙ্গীর কাছে আপনার প্রত্যাশা কি সেটা হবু জীবনসঙ্গীকে জানানো উচিত। দুজনে আলাদা থাকবেন, না পরিবারের সবার সঙ্গে থাকবেন, এই বিষয়গুলোও সঙ্গীর সামনে স্পষ্ট করা দরকার। তা না হলে এটা ভবিষ্যৎ জীবনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

সংশ্লিষ্ট খবর