জীবনশৈলী

শীতে সুস্থ থাকতে খেতে পারেন আমলকী

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

শীতে সুস্থ থাকতে খেতে পারেন আমলকী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকৃতিতে একটু একটু করে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতে নানা ধরনের অসুখ বিসুখ হানা দেয় শরীরে।এ কারণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা জরুরী। এক্ষেত্রে আমলকী হতে পারে দারুন ওষুধি। এতে থাকা ভিটামিন সি, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং সোডিয়াম শরীর চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।   

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমলকী রাখলে শরীরের নানা উপকার হয়। যেমন-

১. আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এক গ্লাস আমলকীর রসে পরিমাণ মতো আদা এবং মধু মিশিয়ে খেলে তা গলা ব্যথা কমায়।সেই সঙ্গে কফ এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমাতেও ভুমিকা রাখে। 

২. আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানও বের করে দেয়। 

৩. নিয়মিত আমলকী খেলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে।

৪. আমলকী হজমশক্তি বাড়ায়।

৫. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকী সংক্রমণের আশঙ্কা কমায়।  সেই সঙ্গে ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশির ভয়ও দূর করে। 

৬. আমলকীতে থাকা ক্রোমিয়াম রক্তে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার সুযোগ পায় না। এ কারণে এটি ডায়াবেটিসের জন্যও উপকারী।

৭. প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমলকী ক্যান্সার সেল বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

৮. আমলকীতে উপস্থিত একাধিক অ্যান্টি-এজিং উপাদান শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।  

৯. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায় আমলকী। 

১০. আমলকিতে এমন কিছু খনিজ এবং উপকারী ভিটামিন আছে, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ত্বকের পানির ঘাটতি দূর করে, সেই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদাও মেটায়। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সূত্র : বোল্ড স্কাই

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

থাইরয়েডের সমস্যার নানা উপসর্গ


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ হলো শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) উৎপাদন করা। শরীরের জন্য থাইরয়েড হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। এর থেকে কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলে তা শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিসম এবং বেশি উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিসম। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য না থাকলে তার কিছু লক্ষণ দেয়া দেয়। যেমন-

১. হঠাৎ করেই কোনও কারণ ছাড়া ওজন বেড়ে যাওয়াটা হাইপোথাইরয়েডিসমের সমস্যা হতে পারে। খাওয়ার পরিমাণ না বাড়ানো হলেও যদি হঠাৎ করে ওজন বাড়তে শুরু করে তাহলে তা থাইরয়েডের কারণে হতে পারে। আবার হঠাৎ করে যদি ওজন বেশি কমে যায় সেটাও  হাইপারথাইরয়েডিসমের কারণে হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।  

২. নিয়মিত শরীর অবসন্ন লাগার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিসম। সাধারণত শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি হলে এরকম হতে পারে। সারা রাত পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি সকালে অবসন্ন লাগে অথবা সারা দিন ধরে ঘুম ঘুম লাগে তাহলে সেটা থাইরয়েডের সমস্যার কারণে হতে পারে। 

৩. হাইপোথাইরয়েডিসম হলে অতিরিক্ত চুল পড়া, চুলের বৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। 

৪. থাইরয়েড হরমোনের অভাবে অর্থাৎ হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে গলা ফুলে উঠতে পারে। গলায় হাত দিয়ে কোনও অস্বাভাবিক ফোলা কিছু পেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

৫. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করাও হাইপারথাইরয়েডিসম-এর লক্ষণ হতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিসম হল শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরী হওয়া। সারাক্ষণ শরীরে অস্থির ভাব এবং বিশ্রামহীন বোধ হলে হাইপারথাইরয়েডিসমের সমস্যা হতে পারে।

৬. হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে ঘাম কম হয় এবং ত্বক তার প্রয়োজনীয় আদ্রর্তা পায় না। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। হাইপোথাইরয়েডিসমের রোগীদের মধ্যে নখ ভাঙ্গার বা নখে ফাটল ধরার প্রবণতাও বেশি দেখা দেয়। 

এসব লক্ষণ দেখা গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময় মতো থাইরয়েডের সমস্যা সনাক্ত করা গেলে তা নিরাময় সম্ভব। সূত্র : জি নিউজ  

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কম ঘুমে বাড়ে যেসব রোগের ঝুঁকি


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম অতি প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। সারাদিনের পরিশ্রমের পর ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেয়। সেই সঙ্গে দেহের অভ্যন্তরীন সব বৃদ্ধি ঘটায় এবং সেল পুনঃর্নিমান করে।ঘুম ভাল হলে কাজে শক্তি পাওয়া যায়। ঘুম শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।কিন্তু ঘুম কম হলে বা অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে শরীরে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়। যেমন-

আলঝাইমার : ঘুম ক্লান্ত মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে।সেই সঙ্গে মস্তিষ্কর সেলগুলোর ক্ষয় রোধ করে।কম ঘুমের কারণে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে শুরু করে। তখন ডিমেনশিয়া, আলঝাইমার-এসব রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়।গবেষণায় দেখা গেছে, আলঝাইমার রোগের অন্যতম কারণ ঘুম কম হওয়া। 

স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি : যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় কম ঘুমের সঙ্গে স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হলে শরীরে ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় যা শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। 

হৃদরোগের ঝুঁকি : সাধারণত জীবনযাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভাসের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘুম অনেক কম হয় তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।এছাড়া কম ঘুমের কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকিও অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। 

আত্মহত্যা প্রবণতা : কম ঘুমের কারণে মানসিক সমস্যা বাড়ে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্ট্যানফোর্ড ইউভিার্সিটি অব মেডিসিনে’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্পবয়সী এবং মধ্য বয়সীদের মধ্যে যাদের ঘুম কম হয় তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি থাকে।  

হজমে সমস্যা : গবেষণা বলছে, যারা ৬ ঘণ্টারও কম ঘুমান তাদের হজমশক্তিতে সমস্যা দেখা দেয়। 

মূত্রথলির ক্যান্সার : ‘দ্য জার্নাল ক্যান্সার এপিডিমেলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যাদের ঘুম কম হয় অন্যান্যদের চেয়ে তাদের ‘মূত্রথলির ক্যানসার’ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। 

এসব কারণে নিয়মিত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  সূত্র : ডেইলি হেলথ পোস্ট   

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

উচ্চ রক্তচাপ কমায় শীতকালীন যেসব সবজি


আরও খবর

জীবনশৈলী

  অনলাইন ডেস্ক

গোটা বিশ্বে দিন দিন উচ্চ রক্তচাপে ভোগা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।শুধু বয়স্ক নয়, আজকাল অনেক অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরাও এই রোগে ভূগছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না রাখা গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। জীবনযাপন পদ্ধতি, খাদ্যাভাসের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শীতকাল এমনই একটি ঋতু যে সময় প্রচুর শাকসবজি পাওয়া যায় যেগুলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যেমন-

গাজর : এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।নিয়মিত গাজর খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে।এটা রান্না, কাঁচা কিংবা জুস করে খেতে পারেন। 

বিট : এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।বিটে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি রয়েছে যা স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটরুটে থাকা নিট্রিক অক্সাইড রক্তচাপ শিথিল এবং প্রসারিত করতে সাহায্য করে। 

পালং শাক : এই শাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও লিউটেইন আছে। এই দুটি উপাদান রক্তচাপ কমায়। সেই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা ফলিক এসিড, ম্যাগনেমিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। পালং শাকে খুব কম পরিমাণে ক্যালরি থাকে। এ কারণে এটি ওজন কমাতেও বেশ কার্যকরী। 

মূলা : এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দারুন কার্যকরী। মুলা এমন একটি সবজি যা সালাদ, রান্না কিংবা স্যুপ বানিয়েও খেতে পারেন। 

মেথি : মেথি শাক এবং মেথি –দুটিতেই প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফাইবার উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।সূত্র : এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর