আইন ও বিচার

ঢামেক থেকে নবজাতক চুরির দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৯

ঢামেক থেকে নবজাতক চুরির দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন

  আদালত প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি করে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই মানবপাচারকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার তৃতীয় মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মঙ্গলবার এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন গাজীপুরের বোর্ডবাজার কুনিয়াপাচু এলাকার ঝর্ণা বেগম এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুলল্গার চাঁনমারা বস্তির মো. মানিক। সাজার পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে তাদের। 

রায় ঘোষণার সময় মানিক আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে। ঝর্ণা পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দারোয়ান আবদুল মতিন এবং বিশেষ আয়া (নার্স) শিলার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেন আদালত। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালের বিশেষ পিপি মাহমুদা আক্তার। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোকসেদ আলী আকন্দ। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগে ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার সবুজবাগ থানায় শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি ঝর্ণা, মানিক, শিলা ও মতিনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। আসামিরা তখন আদালত থেকে অব্যাহতিও পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পুলিশ খিলগাঁও থানার রামপুরা ওয়াপদা রোডের একটি বাড়ি থেকে এক নবজাতক শিশুসহ এক নারীকে আটক করে। ওই নারী আদালতে স্বীকারোক্তি দেন যে শিশুটি তার নিজের নয়। সেখানে আরও একটি শিশুর সন্ধানও মেলে। এরপর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঝর্ণা ও মানিক চুরি করে এনেছিলেন। তাদের সহায়তা করেন দারোয়ান মতিন ও আয়া শিলা।

পরে খিলগাঁও থানায় ২০০৬ সালের ১২ জানুয়ারি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নতুন করে মামলা হয়। মামলায় বলা হয়, ৮ থেকে ১০দিন বয়সী ছেলে নবজাতকসহ ঝর্না বেগমকে আটক করা হয়েছে। আসামি মানিক ও ঝর্ণা বেগম বাচ্চা দুটি চুরি করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে খিলগাঁও থানার এসআই আবুল খায়ের ঝর্ণা বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ২৬ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, নবজাতক দুটির প্রকৃত অভিভাবক পাওয়া যায়নি। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে মঙ্গলবার রায় দেন।

মন্তব্য


অন্যান্য