আইন ও বিচার

সাংবাদিক গৌতম হত্যা: আপিলের রায় ৩০ জানুয়ারি

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

সাংবাদিক গৌতম হত্যা: আপিলের রায় ৩০ জানুয়ারি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সমকালের ফরিদপুর ব্যুরোপ্রধান গৌতম দাস হত্যা মামলার আপিল আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করা হবে।

বিচারপতি একেএম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীব সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রায়ে ২০১৩ সালের ২৭ জুন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

মামলার দশ আসামির মধ্যে একজন আগেই মারা যান। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আসিফ ইমরান, আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কাজী মুরাদ, কামরুল ইসলাম আপন, সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রাজিব হোসেন মনা, আসাদ বিন কাদির, আবু তাহের মো. মোস্তফা ওরফে অ্যাপোল বিশ্বাস ও তামজিদ হোসেন বাবু। রায়ে আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন। উভয়পক্ষের আপিল আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি বুধবার শেষ হয়।

আদালতে দুই আসামি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও আবু তাহের মো. মোস্তফা ওরফে অ্যাপোলো বিশ্বাসের পক্ষে আইনজীবী হেলালউদ্দিন মোল্লা, এক আসামি তানজীর হোসেন বাবুর পক্ষে আইনজীবী আওলাদ হোসেন, চার আসামি আসিফ ইমরান, আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কামরুল ইসলাম আপন ও রাজীব হাসান মনার পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ আলী মোকাররম, আসাদ বিন কাদিরের পক্ষে আইনজীবী মো. আব্দুর রশীদ ও ওমর ফারুক এবং আসামি কাজী মুরাদের পক্ষে আইনজীবী শেখ বাহারুল ইসলাম শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন-অর রশীদ। তাকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাফী শাহজাহান, জহির আহম্মেদ ও জাহাঙ্গীর আলম।

ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় সমকালের ফরিদপুর ব্যুরোপ্রধান গৌতম দাসের ওপর ক্ষুব্ধ হয় তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মদদপুষ্ট ঠিকাদারগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী চক্র।

২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভোরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো অফিসে ঢুকে সাংবাদিক গৌতমকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নাজমুল হুদার জামিন


আরও খবর

আইন ও বিচার
নাজমুল হুদার জামিন

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯

নাজমুল হুদা -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

ঘুষ গ্রহণের মামলায় চার বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছেন মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। একই সঙ্গে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের দেওয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করে সোমবার এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে নাজমুল হুদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

পরে খুরশীদ আলম খান জানান, তার (নাজমুল হুদা) লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন। একইসঙ্গে জামিনও দিয়েছেন। এখন তার এ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে কারাগারে থাকা নাজমুল হুদার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

ঘুষ গ্রহণের মামলায় ৬ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নাজমুল হুদা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক এইচ এম রুহুল ইমরান। এরপর কারাগারে থেকেই তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে লিভ টু আপিল আবেদন করেন।

নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এই মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। ২০১৭ সালে তার সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালত যেদিন রায় গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ পায়। রায় অনুসারে গত ৬ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা


আরও খবর

আইন ও বিচার

১১ মামলার শুনানি পিছিয়েছে

মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা

নাশকতার মামলায় জামিন আবেদন

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে বারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম এ পরোয়ানা জারির পাশাপাশি আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিনও ধার্য করেন।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা করেন। আদালতে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর শুভ বিজয়া উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে খালেদা জিয়া বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।' খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করেছে এবং হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

গত বছরের ৩০ জুন এ মামলায় খাদেলা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের মাধ্যমে নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত আনার অভিপ্রায়ে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষাত্মকভাবে ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করেছেন। যা দণ্ডবিধির ১৫৩(ক) ও ২৯৫(ক) ধারার অপরাধ। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ২৩ জুলাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন মামলা বাদী।

১১ মামলার শুনানি পিছিয়েছে: হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টি মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার এসব মামলায় শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে এসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন মিয়া। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের জজ কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার ২টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি মামলা। ১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য।

নাশকতার মামলায় জামিন আবেদন: বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কুমিল্লার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টেও জামিন আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া। রোববার হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এর শুনানি হতে পারে।

২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-বিএনপির ডাকা অবরোধ চলাকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্টোল বোমা ছোড়া হয়। এতে আগুনে পুড়ে মারা যান আট যাত্রী। আহত হন আরও ২৭ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়


আরও খবর

আইন ও বিচার

হাইকোর্টের রুল

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

গত বছরের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাসের উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ মূল্য বাড়ানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করেন।

চার সপ্তাহের মধ্যে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন চেয়ারম্যান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ চারজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে মূল্য বাড়ানোর পর ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর