আইন ও বিচার

জামিন পেলেন না নাজমুল হুদা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯

জামিন পেলেন না নাজমুল হুদা

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

ঘুষ গ্রহণের মামলায় দণ্ডিত হয়ে বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে জামিন দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। 

পাশাপাশি তার জামিন ও দণ্ড স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে) আবেদন শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।  আগামী ১৩ জানুয়ারি ওই দুটি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। 

মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এই আদেশ দেন।

আদালতে নাজমুল হুদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সিগমা হুদা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। 

পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা লিভ টু আপিল দায়েরের পাশাপাশি জামিন চেয়েছিলেন। কিন্ত চেম্বার আদালত জামিন না দিয়ে তার লিভ টু আপিলটি শুনানির জন্য ১৩ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দিন ধার্য করেছেন।

ঘুষ গ্রহণের মামলায় গত ৬ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নাজমুল হুদা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক এইচ এম রুহুল ইমরান। এরপর কারাগারে থেকেই তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে লিভ টু আপিল আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ঘুষ গ্রহণের মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাপ্তহিক পত্রিকা 'খবরের অন্তরালে'র জন্য মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা। পরে ওই মামলার রায়ে ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত নাজমুল হুদাকে সাতবছরের কারাদণ্ড ও আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেন। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট। পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর খালাসের ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টে ফের পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টে ওই মামলার পুনঃশুনানি নেওয়া হয়। আপিল বিভাগের আদেশে পুনঃশুনানির পর ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে নাজমুল হুদার সাজা কমিয়ে চার বছর কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী সিগমা হুদার কারাগারে থাকাকালীন সময়কে সাজা হিসেবে গণ্য করে রায় দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিচারিক আদালত যেদিন এই রায় গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। 

পরে গত বছরের ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ পায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে আত্মমর্পণ করেন নাজমুল হুদা।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ফেনীতে ব্যাংকের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মামলা


আরও খবর

আইন ও বিচার

  নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

ঢাকা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ঘটনায় ব্যাংক ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেছেন। ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব ও আবদুল সামাদকে মামলার প্রধান আসামি কর হয়।

ঢাকা ব্যাংক ফেনীর পাঁচগাছিয়া সড়ক শাখা থেকে গ্রাহকের ইউজার হ্যাক করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত হয়। গত কয়েক দিনে ১৫ জন গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। ব্যাংকে একটি তদন্ত দল অনুসন্ধান শুরু করেছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আক্তার হোসেন জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব ও আবদুল সামাদকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ঘটনায় এ মামলা করা হয়। আসামিরা ১৫টি অ্যাকাউন্টের ইউজার আইডি হ্যাক করে ভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা হস্তান্তর করে তা উত্তোলন করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, তদন্ত দল অন্যান্য অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করছে। তদন্তে আরও অনিয়ম বের হয়ে এলে মামলা সংযুক্ত করা হবে। আসামি গোলাম সাঈদ রাশেব বর্তমানে পলাতক।

ফেনী থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলাটি ৪০৯ ধারায় অর্থ আত্মসাৎ ধারায় গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন থানায় রাশেবের ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেলেই তাকে আটক করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আবারও পেছাল নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি


আরও খবর

আইন ও বিচার

 ১ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য

আবারও পেছাল নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯

খালেদা জিয়া -ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের ওপর শুনানির তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ১ এপ্রিল ঠিক করা হয়েছে। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান মঙ্গলবার নতুন এদিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার এ মামলার শুনানির জন্য দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হুইলচেয়ারে মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে এজলাস কক্ষে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। শুরুতেই দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, খালেদা জিয়া ছাড়া সব আসামির চার্জ শুনানি শেষ হয়েছে। গত তারিখে তারা চার্জ শুনানি করতে সময় নিয়েছেন। তারা শুরু করলে মামলার কার্যক্রম শেষ করা যাবে।

এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জব্দ আলামতের কপি না থাকায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি পেছানোর জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বারবার আবেদন করেও মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। আদালত আদেশ দেওয়ার পরও কপি পাওয়া যায়নি। তাই প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি।

আদালত বলেন, আবেদন তো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এ সময় দুদকের পিপি কাজল বলেন, চার্জ শুনানি করতে চার্জ শুনানির আলামত লাগে? আর যেসব পেপার ছিল তা দিয়েছি। চার্জ শুনানি হোক, চার্জ গঠন হওয়ার পর তারা ওই কাগজ পাবেন। তিনি বলেন, মামলার বয়স ১২ বছর। আইন অনুযায়ী চার্জ শুনানির আগে অব্যবহূত কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করা যায় না।

তখন বিচারক আইনজীবী মাসুদ তালুকদারকে উদ্দেশ করে বলেন, চার বছর ধরে চার্জ শুনানি চলছে। এতদিনেও আপনারা আবেদন করেননি কেন? আর যে আবেদন দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এ আদালত তো দেশের সর্বোচ্চ কোর্ট না। এখানে সবকিছু করা যায় না।

বিচারক মাসুদ তালুকদারের কাছে জানতে চান, তারা খালেদা জিয়ার পক্ষে চার্জ শুনানি করবেন কি-না?

মাসুদ তালুকদার বলেন, কাগজ পেলে আমরা শুনানি করব। এরপর খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা একটি গ্রাউন্ডলেস মামলা। কাগজগুলো পেলে দেখানো যাবে। এজন্য শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন তিনি। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সময় মঞ্জুর করে শেষবারের মতো আগামী ১ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সময় জব্দ করা আলামতের কপির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

এদিন জার্মানিতে চিকিৎসাধীন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার অপর আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী তাকে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার, নারায়ণগঞ্জ অথবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান।

শুনানির পর খালেদা জিয়া তার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চান, মামলায় দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে কি-না? জবাবে আইনজীবীরা জানান, মামলার সব কাগজপত্র পাওয়া গেলে অব্যাহতির আবেদন করা হবে।

মঙ্গলবার আদালতে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে খালেদা জিয়াকে আদালত কক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আলাপ করতে দেখা যায়। এরপর খালেদা জিয়াকে এজলাস কক্ষ থেকে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জাহালমকে নিয়ে চলচ্চিত্র: নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে দুদকের আবেদন


আরও খবর

আইন ও বিচার

  সমকাল প্রতিবেদক

'ভুল আসামি' হয়ে ২৬ মামলায় তিন বছর কারাভোগ করা জাহালমকে নিয়ে চলচ্চিত্র-নাটকসহ এ জাতীয় কিছু নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় হলফনামা দিয়ে এই আবেদন করা হয়।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে বুধবার আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওইদিনই জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের কয়েক ঘণ্টা পরই কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। আবু সালেক নামে একজনের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ২৬টি মামলা রয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটেন টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালম। পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্ট তাকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। এর পরই জাহালমের জীবনের গল্প নিয়েই চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান মারিয়া তুষার নামের এক নির্মাতা। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে নাম নিবন্ধনও করেছেন এই পরিচালক। জাহালমের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ছবির নাম ঠিক করেছেন 'জাহালম'। এ পর্যায়ে গতকাল জাহালমকে নিয়ে চলচ্চিত্র ও নাটকসহ এ জাতীয় কিছু নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনটি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর