আইন ও বিচার

শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না: খালেদা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না: খালেদা

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে খালেদা জিয়া- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

নাইকো দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। তাকেও আদালতে হাজির করা উচিত। তিনি বলেন, 'আমি শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করি। তাহলে এখন শুধু আমার একার বিচার হচ্ছে কেন? শেখ হাসিনাকেও কেন আদালতে আনা হচ্ছে না?'

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

আদেশের পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি সেখানেই থাকবেন। এর আগে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে এক মাস অবস্থান করেন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে বিএসএমএমইউ থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এর পর তাকে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, খালেদা জিয়া বর্তমানে অনেকটা সুস্থ। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এখনও 'দারুণ অসুস্থ'। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাকে জেলখানায় আনা হয়েছে।

সকালেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে একজন কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, এক মাস চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য তাকে আবারও হাসপাতালে আনার প্রয়োজন মনে করলে কিংবা কারাগারে গিয়ে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা বললে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার মন্তব্য খণ্ডন বিচারকের: বুধবার আইন মন্ত্রণালয় নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে মামলার কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এ মামলায় উচ্চ আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তাই আমরা চার্জ শুনানি শুরু করতে পারি।

এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, মামলায় মওদুদ আহমদের পক্ষে চার্জ শুনানি চলমান আছে। তিনি হাইকোর্টে রিভিশন করেছেন। আমাদের চার্জ শুনানি মওদুদ আহমদের শুনানি শেষ হওয়ার পর হবে। আমরা আজ মুলতবি চেয়েছি। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, আমার রিভিশন মামলা এখনও বিচারাধীন। কোনো আদেশ পাইনি। তাই আমিও মুলতবি চাচ্ছি।

জবাবে কাজল বলেন, ২০০৮ সালের ৫ মে থেকে এ মামলায় চার্জ শুনানি শুরু হয়। আজও শেষ হয়নি। মওদুদ আহমদের জন্যই শুনানি ঝুলে আছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত এজাহার, চার্জশিট, প্রসিডিংসহ অনেক বিষয়ই তারা চ্যালেঞ্জ করেছেন। কিন্তু কোনো আদেশ আনতে পারেননি। তাই এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।

এর পর মওদুদ আহমদ আদালতের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এখানে তো মামলার বিচারকাজ চলার মতো পরিবেশ নেই। বসার জায়গা নেই। ওয়াশরুম নেই। এরপর বিচারক বলেন, যেহেতু উচ্চ আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ নেই, তাই সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করা হলো। চার্জ শুনানি শুরু করুন। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, বেশি সময় থাকতে পারব না। সুপ্রিম কোর্টে মামলা রেখে এসেছি। জবাবে বিচারক বলেন, আপনি যত দেরি করবেন, আপনার নেত্রীকেও তত সময় বসে থাকতে হবে। আপনি বিলম্ব করলে তার কষ্ট হবে। তাই আপনি যত তাড়াতাড়ি শেষ করবেন, খালেদা জিয়া তত তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন। তার তত কষ্ট কম হবে। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, জানলাম, আজই তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে এখানে আনা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

শুনানির একপর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত। একজনকে সেভ করার জন্য আরেকজনকে বলি দেবেন, এটা ঠিক না। এ সময় বিচারক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাকে এখানে হাজির করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।

শুনানির সময় মামলার অপর আসামিদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। জামিনে থাকা অপর আসামি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এই মামলার আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০০৮ সালের মে মাসে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

জয়নুলের প্রতিবাদ: আদালতকে অবহিত না করেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রেফতার


আরও খবর

আইন ও বিচার

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে সমকালকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. শাহজাহান।

তিনি জানান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে ইষ্কাটনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল।

সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এর আগে দুপুরে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহাবুব এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত রফিকুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ পায় তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০০১ সালের ৭ এপ্রিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামে এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করতে নোটিশ জারি করে।

ওই বছরের ১০ জুনের মধ্যে বিবরণী দাখিল করতে বলা হলেও তিনি তা করেননি। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ লিয়াকত হোসেন উত্তরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার পর ওই বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। আদালত ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত বছরের ১৪ নভেম্বর রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

পরের
খবর

বিএনপি নেতা রফিকুলের ৩ বছরের কারাদণ্ড


আরও খবর

আইন ও বিচার

আদালতে রফিকুল ইসলাম মিয়া -ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহাবুব এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত রফিকুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ পায় তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০০১ সালের ৭ এপ্রিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামে এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করতে নোটিশ জারি করে। ওই বছরের ১০ জুনের মধ্যে বিবরণী দাখিল করতে বলা হলেও তিনি তা করেননি।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ লিয়াকত হোসেন উত্তরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ওই বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। আদালত ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত বছরের ১৪ নভেম্বর রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ


আরও খবর

আইন ও বিচার

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়। 

এর আগে এ মামলায় ১৫ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই করেন দুই বিচারপতি। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় সাড়ে ৮০০ পৃষ্ঠার রায় লেখার  কাজ শেষে গত বৃহস্পতিবার রায়ের কপিতে সই করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মো. মোস্তফা জামান ইসলাম।

গত ২২ আগস্ট সাত খুন মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সারা দেশে আলোচনার ঝড় উঠে।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, এই চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিরা যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাতে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সুপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। আর্থিক লেনদেন হয়েছে নূর হোসেনের সঙ্গে। নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। তার সঙ্গে ছিলেন তারেক সাঈদ, আরিফ ও মাসুদ রানা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কিছু উশৃঙ্খল র‌্যাব সদস্যের কারণে এ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ম্লান হতে পারে না। কিন্তু এ ঘটনায় বাহিনীর কতিপয় সদস্যের শয়তানি প্রবৃত্তি মানবসভ্যতার মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। যে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে, আসামিদের হেফাজতে তাদের মৃত্যুযন্ত্রণা ছিল ভয়াবহ ও অকল্পনীয়। র‌্যাব সদস্যরা এতটাই নির্দয় ছিলেন যে, তাদের হত্যার পর তলপেট ছুরি দিয়ে কেটে মরদেহ বস্তাবন্দি করা হয়। প্রতিটি বস্তার সঙ্গে ১০টি ইট বেঁধে দেওয়া হয়, যাতে লাশ নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ নৃশংসতায় প্রতীয়মান হয়, তারা কতটা নির্দয় ছিলেন।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন পাঁচ বাহিনীর সাবেক ১৬ কর্মকর্তা, সদস্যসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর