আইন ও বিচার

হাসপাতাল থেকে কারাগারে খালেদা জিয়া

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

হাসপাতাল থেকে কারাগারে খালেদা জিয়া

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসানো অস্থায়ী আদালতে নেওয়া হয়।

সেখানে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় দীর্ঘ দিন পর।

হুইল চেয়ারে করে হাজির খালেদা জিয়াকে এজলাসে হাজির করার পর শুনানি শেষে আদালত ১৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির কথা রয়েছে।

আদালতে শুনানির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি কালো এসইউভিতে বিএনপি চেয়ারপারসন নিয়ে আদালতের রওনা হয় পুলিলশ। সকালে হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালে একটি গাড়িতে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার এখন থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে হবে। বুধবার এজলাস স্থানান্তর সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইনমন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মামলার বিচার কার্যক্রম এখন থেকে ঢাকা মহানগর ১২৫ নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র দুর্নীতিমামলার শেষ দিকে বিচারও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই এজলাসে। বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থপিত এজলাসে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির মামলাটি শুনানি করেন।

তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করে দুদকের তৎকালীন সহকারি পরিচালক সাহিদুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার তিন আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেপের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর একই আদালতে খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে ৬ অক্টোবর থেকে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কক্ষে আছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড পান বিএনপি চেয়ারপারসন। ওইদিনই নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।


সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সাংবাদিক শিমুল হত্যার প্রধান আসামি মিরুর জামিন স্থগিত


আরও খবর

আইন ও বিচার

হালিমুল হক মিরু— ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সমকালের শাহজাদপুরের প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বরখাস্ত হওয়া মেয়র হালিমুল হক মিরুকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায় স্থগিত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিমুলের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা।

জামিন স্থগিত হওয়ায় আপাতত মেয়র মিরু মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন শিমুলের স্ত্রীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ৪ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মিরুকে স্থায়ী জামিন দেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন। গত ৮ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কোনো আদেশ না দিয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে সোমবার দিন ধার্য করে আবেদনটি পাঠিয়ে দেন। 

সোমবার আদালতে মেয়র মিরুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন। তাকে সহায়তা করেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল। শিমুলের স্ত্রীর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু এমপি ও মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

শিমুলের স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল সমকালকে বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (সিপি) দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বর আপিলটি দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আসবে। জামিন স্থগিতাদেশের পর স্বস্তি প্রকাশ করে শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বলেন, মেয়র জেল থেকে বের হলে যে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌর মেয়র মিরুর দুই ভাই মিন্টু ও পিন্টুর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের সহযোগীদের সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন, খবর সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকায় আনা পথে মারা যান তিনি। 

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নূরুন্নাহার খাতুন বাদী হয়ে মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার সহোদর মিন্টু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর গত বছর ২ মে শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। চার্জশিটে বলা হয়, মেয়র মিরুর গুলিতেই শিমুলের মৃত্যু হয়েছে। 

হত্যাকাণ্ডে মেয়র মিরুর লাইসেন্স করা শটগান ছাড়াও তার ভাই হাবিবুল হক মিন্টুর অবৈধ পাইপগান ব্যবহার করা হয়। মিরু ও মিন্টু দু'জনই ঘটনার দিন শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তবে গত পৌনে দুই বছরেও আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার বিচার শুরু হয়নি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

পুলিশের নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক পেজ-চ্যানেল নিয়ে সতর্কতা


আরও খবর

আইন ও বিচার

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে খোলা সকল ভুয়া ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও চ্যানেলকে সতর্ক করা হয়েছে।

রোববার পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সতর্কতা জানিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইং) সুদীপ্ত সরকার সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে খোলা সকল ভুয়া ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও চ্যানেলকে সতর্ক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওইসব ভুয়া পেজ সরিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজে পোস্টে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের নাম, লোগো বা পরিচয় ব্যবহার করে অননুমোদিতভাবে ও আনঅফিসিয়ালি খোলা ফেসবুক পেজ, চ্যানেল বা গ্রুপে প্রকাশিত সংবাদ বা পোস্টের কারণে নানারকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, অনিয়ন্ত্রিত এ সকল ফেসবুক গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের এডমিনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইং।

এতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে এ সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের অ্যাডমিনদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে যেন আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তারা তাদের গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের নাম পরিবর্তন করে। মনে রাখতে হবে, আনঅফিসিয়ালি ও অননুমোদিতভাবে খোলা এ সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের নামকরণে বাংলাদেশ পুলিশের নাম, লোগো বা পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, এ সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজ বন্ধ করে দেয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং, আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই যে, বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইংয়ের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কিত সংবাদ ও তথ্যাদি প্রকাশ ও প্রচার করা যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ও কার্যক্রমের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের এডমিনদেরকে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে এএসপি, মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইং, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর ফোন ০১৭৬৯৬৯১৫৮৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে যারা নাম ও বিবরণ পরিবর্তন করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইংয়ে সাথে সমন্বয় সাধন করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদও জানানো হয় বাংলাদেশ পুলিশের ওই ফেসবুক পোস্টে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মামলা বাতিলে মির্জা আব্বাসের আবেদন খারিজ


আরও খবর

আইন ও বিচার

মির্জা আব্বাস- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা বাতিলের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  রোববার এই আদেশ দেন।

আদালতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। 

আদেশের পর খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, এ আদেশের ফলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলতে আইনগত কোনো বাধা নেই। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। এতে তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮১ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এ বিচারাধীন।