খুলনা

যশোরের সেই ধর্ষিতা শিশুর পাশে বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যশোরের সেই ধর্ষিতা শিশুর পাশে বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম

ছবি: সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে মা হওয়া ১১ বছরের শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে একাধিকবার গৃহকর্তা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার শিশুটি গত শনিবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।

বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের যশোর জেলার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রোববার তাকে দেখতে যান। এ সময়ে তারা ওই শিশুটিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। একইসঙ্গে ওই তার পরিবারের সদস্যদের আইনিসহ সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় আরো ছিলেন- জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফেরদৈসী বেগম, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের শামসুন নাহারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নার্গিস বেগম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম ও স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে ধর্ষিতা শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের আইনি সহায়তা দেওয়াসহ সার্বিক সব বিষয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 

সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, পুরো দেশটাই যেন এখন ধর্ষণের দেশে পরিণত হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে যতটুকু জানা যায় তার থেকেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে এসব নির্যাতিত নারী ও শিশুদের রক্ষায়, তাদের পাশে থাকার সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছি। দেশের জনগণের সরকার থাকলে এভাবে অরাজকতা সৃষ্টি হতো না। এই সরকার দেশের সব কিছুকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

ধর্ষিতা মেয়েটির বাবা জানান, মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা। তিনি মণিরামপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী ও তিনি আলাদা হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি যশোরে নানাবাড়িতে থাকতো। গত বছর তার মেয়েকে বাসায় কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করাবেন বলে যশোর থেকে মণিরামপুরে নিয়ে যান কিবরিয়া। শিশুটি তাকে নানা বলে ডাকতো। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি ফাঁকা থাকায় কিবরিয়া তার মেয়েকে প্রথম ধর্ষণ করে। পরে আরও কয়েকদফা তাকে ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়। তিন মাস আগে চিকিৎসক জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। ১ জুলাই মেয়েটির বাবা মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন।

মণিরামপুর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস বলেন, অভিযুক্ত কিবরিয়াকে ১ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। সে জেলহাজতে রয়েছে। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য