খুলনা

স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর কারামুক্ত ইসলাম

প্রকাশ : ০৯ আগষ্ট ২০১৯

স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর কারামুক্ত ইসলাম

স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর পরিবারের মাঝে মোহাম্মদ ইসলাম- সমকাল

  যশোর অফিস

স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সেই মোহাম্মদ ইসলাম (৪৯) এবার কারামুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি। ইসলাম ১৯ বছর বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। কারাগারে তাকে এদিন গ্রহণ করতে আসেন বাবা আবদুল আজিজ মৃধাসহ পরিবারের চার সদস্য। তবে স্ত্রী মালা ও ছেলে মিলন এ সময় উপস্থিত ছিলেন না।

ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। মালার বাড়িও একই গ্রামে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় মৌলভির মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি জন্ম নেয় ছেলে মিলন। কিন্তু সেই স্ত্রী ও সন্তানকে অস্বীকার করেন ইসলাম। এ ঘটনায় মালার বাবা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত ইসমালকে যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সাজা দেন। 

হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও এ রায় বহাল রাখেন। ২০১৫ সালের ১৭ মে তাকে ঝিনাইদহ থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ভালো কাজের জন্য অর্জিত রেয়াতসহ ১৯ বছর ১৭ দিন কারাভোগ করেছেন তিনি। এর মধ্যে মূল সাজা খেটেছেন ১৪ বছর ছয় মাস ২৯ দিন। তার অবশিষ্ট সাজা ১০ বছর ১১ মাস ১৪ দিন। তার আগেই তিনি মুক্তি পেলেন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব বলেন, আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে গত ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দু'পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১ আগস্ট তাদের বিয়ের কাবিন জমা দিয়ে আপিল রিভিওর আবেদন করা হয়। এরপর আপিল বিভাগ ইসলামকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু নওশাদ বলেন, জেল কোড অনুযায়ী ইসলাম ও মালার বিয়ে হয়।

মুক্তির পর অশ্রুসিক্ত চোখে মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বন্দি ছিলাম। মুক্তি পেয়ে খুবই খুশি। স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাতে চাই। মামলা-সংক্রান্ত কাজে স্ত্রী ও সন্তান ঢাকায় রয়েছে জানিয়ে ইসলাম আরও বলেন, তারা ঢাকা থেকে সরাসরি বাড়িতে আসবে।

ইসলামের বাবা আবদুল আজিজ মৃধা বলেন, ছেলের জামিনে মুক্তি পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আগামী দিনে সবাইকে নিয়ে চলতে চাই।

মন্তব্য


অন্যান্য