খুলনা

ঈদের কেনাকাটা ঘিরে খুলনায় ব্যাপক যানজট

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯

ঈদের কেনাকাটা ঘিরে খুলনায় ব্যাপক যানজট

ঈদকে কেন্দ্র করে যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে- সমকাল

  খুলনা ব্যুরো

ঈদকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরীতে প্রতিদিন ব্যাপক যানজট হচ্ছে। ইজিবাইক ও রিকশার কারণে নগরীতে এখন পথ চলাই দায়। যানজটের কারণে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিরসন করতে পারছে না বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

ঈদ সামনে রেখে খুলনা যেন পরিণত হয়েছে রিকশা ও ইজিবাইকের নগরীতে। হাজার হাজার ইজিবাইকের কারণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী নগরীতে লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজার। আর লাইসেন্সধারী ইজিবাইক রয়েছে প্রায় দুই হাজার। লাইসেন্সের জন্য নতুন করে আবেদন করেছে আট হাজার ২২৮টি ইজিবাইকের মালিক। তবে এর বাইরেও লাইসেন্সবিহীন কয়েক হাজার রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এ ছাড়া ঈদ সামনে রেখে নগরীর পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকে ইজিবাইকে করে লোকজন নগরীতে আসছে।

নগরীর কয়েকটি রুটে বাস চলাচল করলেও নগরবাসীর প্রধান বাহন হচ্ছে রিকশা, ইজিবাইক ও মাহিন্দ্র। ঈদের কারণে গাড়ির চাপ বেড়েছে। অদক্ষ চালকদের কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত যানজট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। 

নগরীর শান্তিধাম মোড়, ফারাজীপাড়া ফুলমার্কেট মোড়, ফেরিঘাট মোড়, পাওয়ার হাউস মোড়, ডাকবাংলো মোড়, হাদিস পার্কের মোড়, খুলনা থানার মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, ধর্মসভা মোড়, সিমেট্রি রোড, রূপসা ট্রাফিক মোড়, ময়লাপোতা মোড়, মৌলভীপাড়া মোড়, স্যার ইকবাল রোড মোড়, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, গল্লামারী মোড় ও সাত রাস্তার মোড়ে যানজট হচ্ছে। নগরমুখী যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে যানজট।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, নগরীতে রিকশা, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রসহ তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ করে ইজিবাইকের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

নগরীর ফারাজীপাড়া ফুলমার্কেট মোড়ে পথচারী জাকির হোসেন ও আবদুল্লাহ আল জুবায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক কনস্টেবল মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু তারা রোদের সময় পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়ে বসে থাকেন অথবা ছায়ায় গিয়ে দাঁড়ান। সে কারণে একবার যানজট শুরু হলে তা ছাড়াতে অনেক সময় লেগে যায়।

এ ব্যাপারে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনের জন্য ডাকবাংলো মোড় ও কয়েকটি সড়ককে ওয়ানওয়ে করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত সংখ্যক ট্রাফিক সার্জেন্ট ও কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা না করে সে বিষয়টি তারা তদারকি করছেন। যানজট নিরসনে তারা তিন শিফটে সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য