সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকারে এফবিসিসিআইর নতুন সভাপতি

দেশীয় পণ্য আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে চাই

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় পণ্য আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে চাই

শেখ ফজলে ফাহিম

  মিরাজ শামস

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বে গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ আজ রোববার দায়িত্ব নিচ্ছে। সংগঠনটির ২৪তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ ফাহিম বলেন, উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড। বিশ্ব এখন বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে, বাংলাদেশ একটি সাফল্যের প্রতীক। এ দেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, সিরামিকসহ অনেক খাত সম্ভাবনাময়। সারা বিশ্বে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশের জনশক্তি কাজ করছে। এফবিসিসিআইর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। এ যোগাযোগের মধ্যেমে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশি পণ্যকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরতে চান তিনি।

এফবিসিসিআইর সাবেক এই সিনিয়র সহসভাপতি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে এফবিসিসিআইর সমঝোতা স্মারকগুলো (এমওইউ) পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ সময় নির্দিষ্ট করে শেষ করতে হবে।

প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, এফবিসিসিআই বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নীতি পরামর্শ এবং সংশ্নিষ্টদের সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। দেশের পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং ব্যবসার পরিবর্তনশীল ধারাবাহিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ বিবেচনায় রেখে এফবিসিসিআই পাঁচটি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম অর্থনৈতিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন। যেখানে নীতি পরিকল্পনা এবং নকশার জন্য প্রশিক্ষণ দেবে এ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জ্যাকভ অ্যান্ড কার্ডোভা। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ রফতানি সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এফবিসিসিআই কারিগরি ভোকেশনাল শিক্ষা প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) চালু করেছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। এতে করে বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় ও খরচ কমবে।

তিনি বলেন, এফবিসিসিআইর আগের মেয়াদে সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ এফবিসিসিআই আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় (এফআইইউ) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করে। সংগঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আচরণগত অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো পাঠ্যক্রম তৈরি করা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্বাচলে এফবিসিসিআইকে জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে এফবিসিসিআই আইকন টাওয়ার নির্মাণের কাজ চলছে।

নতুন ভ্যাট আইনের বিষয়ে শেখ ফাহিম বলেন, গত ১৪ মে অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, এ আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না। ভ্যাট-ট্যাক্স না বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো হবে। এটা বাস্তবায়নের জন্য এনবিআর এবং এফবিসিসিআই যৌথ ওয়াকিং গ্রুপ গঠন করা হবে। কর ও ভ্যাটের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চলমান প্রক্রিয়ায় করহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও সুপারিশের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি আশা করেন যে, আগামী বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানি সহজ করতে পদক্ষেপ থাকবে। বাজেট আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে। বাজেট হবে জনমুখী ও ব্যবসায়ীবান্ধব। তার প্রত্যাশা, বাজেটে নিম্ন আয়কর ও করপোরেট কর থাকবে। দ্বৈত কর সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি বলেন, ভ্যাট ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি ও পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা ও সহজীকরণের সুযোগ আছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভ্যাট সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রস্তাবনা অনিয়মের সুযোগ করে দিতে পারে। সরকারি শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রগতিশীল নেতৃত্বের যে সেবা প্রদানের মানসিকতা রয়েছে, তা মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় না। এখানে সমন্বয় প্রচেষ্টা আরও সুসংহত করতে হবে।

তিনি বলেন, নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সংশ্নিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বাণিজ্য সংগঠনের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প গবেষণায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন ও কমপ্লায়েন্স বাড়াতে হবে। বাংলাদেশি এসএমই যাতে বিশ্বব্যাপী মূল্য সংযোজনের অংশ হতে পারে তার উদ্যোগ নিতে হবে।

এফবিসিসিআইর আগামী দিনে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সিংহভাগ অবদান ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের। এফবিসিসিআইর ৮৩টি চেম্বার এবং ৩৯৬টি অ্যাসোসিয়েশন দেশের এসএমই থেকে বৃহৎ খাতের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু কারিকুলাম এবং প্রশিক্ষকের স্বল্পতার কারণে বিশ্বমানের দক্ষতা উন্নয়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। এফবিসিসিআই এবং অন্যান্য সদস্য সংগঠনগুলোর দক্ষতা উন্নয়ন একটি চ্যালেঞ্জ। শীর্ষ সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধিতিতে নীতি পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক পথনকশার পরিকল্পনা করাও একটি চ্যালেঞ্জ।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে এফবিসিসিআইর পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। এর ফলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। কাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা উদীয়মান অর্থনীতির একটি বাস্তবতা। এ ব্যাপারে সবাই অবগত আছেন। তবে এগুলোর গঠনমূলক সমাধান সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা আর্থসামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশার থেকেও অধিক আন্তরিক। এফবিসিসিআই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পিপিপি সম্পৃক্ততাকে লক্ষ্য রেখে যে কাজ করে আসছে তার ধারবাহিকতা বজায় রাখবে।

মন্তব্য


অন্যান্য