সাক্ষাৎকার

বিশেষ সাক্ষাৎকার: ডা. রশিদ-ই মাহবুব

স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

  রাজবংশী রায়

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকে গত কয়েক বছর বাংলাদেশ বেশ উন্নতি করলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি জনমুখী করা যায়নি বলে মনে করেন চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা পেতে সাধারণ মানুষ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন; কিন্তু তা দূর করতে সরকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ভোগান্তি কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই মাহবুব এসব কথা বলেন।

প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ইউনিট প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন চান এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, সরকারকে এখন এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, সিওপিডিসহ অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতা সুচিকিৎসার নিশ্চিত করার পথে প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে বিএমএর সাবেক সভাপতি বলেন, পাবলিক খাতের সেবার চাহিদা জনগণের মধ্যে বেশি। কিন্তু এখানে বাজেটের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ এবং ব্যয় হওয়া অর্থ- এ দুটির হিসাব করলে দেখা যায়, ৬৭ শতাংশ অর্থ মানুষ তার নিজের পকেট থেকে ব্যয় করে। বিষয়টি সরকারকে দেখতে হবে। সরকারকে বিনিয়োগ বাড়ানো কিংবা ভর্তুকি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করতে হবে।

সরকারি ও বেসরকারি কোনো স্বাস্থ্য খাতই জনবান্ধব নয় উল্লেখ করে রশিদ-ই মাহবুব বলেন, সরকারি খাতে যে অবকাঠামো আছে, তা যথেষ্ট নয়। সরকারি হাসপাতালে ৪২ হাজার এবং বেসরকারি খাতে সমসংখ্যক শয্যা ধরা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সরকারি হাসপাতালগুলো বেশিরভাগই ভবনসর্বস্ব। কোনো জায়গায় ভবন নেই, আবার কোনো কোনো জায়গায় পর্যাপ্ত জনবল নেই। কিছু কিছু জায়গায় রোগীদের অতিরিক্ত ভিড়ে সেবাদান প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হচ্ছে। আবার বেসরকারি খাতে যতটুকু সেবা আছে, তা অত্যন্ত উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিত্তবান ব্যক্তিরাই মূলত ব্যয়বহুল এ সেবা নিতে পারেন। তা ছাড়া বেসরকারি খাত জনবান্ধব নয়। পাঁচতারা মানের হাসপাতালগুলোতে কিছু ব্যবসা হয়। কিন্তু দেশের আনাচে-কানাচে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যে হাসপাতাল-ক্লিনিক গড়ে উঠেছে সেগুলোর ওপর কোনো মনিটরিং নেই। অবৈধ পন্থায় এগুলো বছরের পর বছর ধরে চলছে। এসব হাসপাতালে মানুষ সুচিকিৎসা পায় না।

সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কী কী বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন- এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এ জন্য চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিকস, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো থাকতে হবে। এর কোনো একটির ঘাটতি হলে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অথচ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে- প্রায় সব উপাদানেই কম-বেশি ঘাটতি রয়েছে।

দেশের জরুরি চিকিৎসার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. রশিদ-ই মাহবুব। বলেন, কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি কোথায় চিকিৎসা নেবেন, তা জানেন না। সরকারি-বেসরকারি যত হাসপাতাল আছে, সেগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা এখনও তেমন শক্তিশালীভাবে গড়ে ওঠেনি। জরুরি বিভাগগুলোতে কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। থাকলে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা পেত।

সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রশিদ-ই মাহবুব। তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি নামে সরকারের চলমান প্রকল্পটি এখনও কোনো দৃশ্যমান ফ্রেমে আসেনি। টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলায় একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের সর্বশেষ কী অবস্থা, সে সম্পর্কে কেউ জানেন না। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে অবকাঠামো ও জনবল প্রয়োজন তা দেওয়া হয়নি। সরকারি অর্থে ওই প্রকল্প চলছে। তার মানে, সরকারি টাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সেবাগ্রহণের জন্য ভিড় বাড়তে পারে, কিন্তু তাতে তো সেবার পরিধি বাড়ছে না।

চিকিৎসা শিক্ষার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে রশিদ-ই মাহবুব বলেন, বর্তমান চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব কলেজে পাঠদানের শিক্ষকের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে বেসিক বিষয়গুলো পড়ানোর মতো শিক্ষক নেই। এর পরও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অনেক মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একদিকে শিক্ষক নেই, অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এতে মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি এমন যে, চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু বই পড়ে জ্ঞানার্জন করানো হয়। কিন্তু বাস্তব প্রায়োগিক জ্ঞানার্জনের তেমন ব্যবস্থা নেই। প্রায়োগিক দক্ষতা ছাড়া শুধু জ্ঞানার্জন করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এসব চিকিৎসকরা ডিগ্রি সম্পন্ন করে চিকিৎসাসেবায় কতটুকু অবদান রাখতে পারবেন, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। আবার যতজন চিকিৎসক ডিগ্রি নিয়ে প্রতিবছর বের হচ্ছেন, সেই সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকনিশিয়ান, প্যারামেডিক্স, নার্সসহ চিকিৎসাসেবার সহযোগী পর্যায়গুলো পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ চিকিৎসাসেবা একটি দলগত বিষয়। তাই চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত সব আনুষঙ্গিক বিষয়ের সমন্বয় করতে হবে।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষক বিশেষ করে মৌলিক বিষয়ের শিক্ষকদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বে পদায়নের বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. রশিদ-ই মাহবুব জানান, এটিকে তিনি সমর্থন করেন না। একদিকে মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট, অন্যদিকে শিক্ষকদের ডিজি, এডিজিসহ পরিচালকের বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়েছে। এটি সরকারের দ্বিমুখী নীতি। এটি হতে পারে না। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালক পদে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরই প্রশাসনিক এসব দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া উচিত। তারা স্বাস্থ্য প্রশাসনে কাজ করবেন। অন্যদিকে, শিক্ষকরা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এমনই হওয়ার কথা।

গ্রামের কর্মস্থলে চিকিৎসকরা থাকতে চান না- এটি বেশ পুরনো অভিযোগ। চিকিৎসকরা কেন গ্রামে থাকতে চান না? কীভাবে গ্রামে চিকিৎসকদের ধরে রাখা যায়?- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, অন্য চাকরিজীবীরা গ্রামে গেলেও চিকিৎসকরা যেতে চান না। কিন্তু কেন চান না, সেটির তো নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। সরকার কি কখনও এটি জানার চেষ্টা করেছে? বরং তাদের জোর করে গ্রামে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। এটি ব্লেম গেমে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসক ভিকটিম হয়েছেন। তারা জনগণের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। কেউ যদি গ্রামে কাজ করার পরিবেশ না পান কিংবা ভবিষ্যৎ দেখতে না পান, তা হলে যেতে চাইবেন কেন? আবার সব চিকিৎসক তো সরকারি অর্থে পড়াশোনাও করেন না। অনেকে পড়াশোনা করেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে। তাই জোর করার বদলে তাদের উদ্বুদ্ধ করে কর্মস্থলে রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় বিশেষ করে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বিভিন্ন সময় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়- এসব দুর্নীতি বন্ধ করতে আপনার পরামর্শ কী?- এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কেনাকাটায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়বে। মূল কথা, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক বিশ্বে অন্যান্য দেশের কাছে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও অন্যান্য দেশকে এই মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে রশিদ-ই মাহবুব বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক একটি বড় ভূমিকা পালন করছে, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এটি একজন প্রোভাইডারের হাতে ন্যস্ত করে রাখা হয়েছে। যার চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে কোনো মৌলিক জ্ঞানই নেই। এ ধরনের ব্যক্তিকে দিয়ে কতদিন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাবে? এসডিজি অর্জন করতে গেলে তো এতে চলবে না। তাই পেশাদার জনশক্তির বিষয়ে ভাবতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে এখনই যদি চিকিৎসা চাওয়া হয়, সেটি দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে এটি পরিকল্পনায় রাখতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক এখন ট্রাস্ট করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দে এ কমিউনিটি ক্লিনিক চলবে। কিন্তু সরকার কখনও পরিবর্তন হলে তখন বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে কি-না, তার নিশ্চয়তা নেই। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। তাই সরকার পরিবর্তন হলে এটি অব্যাহত থাকবে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দেশের ওষুধ খাত অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানোর পরও বিশ্বের প্রায় দেড়শ'র ওপর বিভিন্ন দেশে ওষুধ রফতানি করা হচ্ছে। যদিও গত কয়েক বছরে ওষুধের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

ওষুষের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে কী করণীয়?- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, ওষুধের মূল্য নাগালে রাখতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় অনেকাংশে কমত। একজন ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করেন ৬৭ শতাংশ। এ ব্যয়ের ৪৪ শতাংশই চলে যায় ওষুধ ক্রয়ে। গত কয়েক বছর ওষুধের দাম হু-হু করে বেড়েছে। ওষুধের এই মূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারই দায়ী। কারণ ১৯৯২ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ওষুধের মূল্য বাড়িয়েছে। সরকারকে এ বিষয়টি অবশ্যই দেখতে হবে।

আগামী ২০৩০ সালে মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে করণীয় কী- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএমএর সাবেক এই সভাপতি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) স্বাস্থ্যের যে উপাদানগুলো ছিল, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) কিন্তু একই উপাদান নেই। কমিউনিক্যাবল রোগের সমস্যাগুলোর সমাধান, মা ও শিশুমৃত্যুর বিভিন্ন সূচকসহ নিরাপদ পানি সরবরাহ করা, টিকাদান কর্মসূচি এমডিজিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসডিজিতেও এই বিষয়গুলো সেভাবে থাকবে না। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থাপনাকে এসডিজিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিওপিডিসহ নন-কমিউনিক্যাবল ডিজিজ বা অসংক্রামক ব্যাধি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ রোগগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো- এগুলো সারাজীবন বহন করে চলতে হয়। সুতরাং এ রোগগুলো হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই রোগগুলো মোকাবেলায় আমরা কতটুকু প্রস্তুত? অসংক্রামক রোগ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউ এখন বেশি প্রয়োজন হবে। তবে আইসিইউ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মোট শয্যাসংখ্যার কমপক্ষে চার শতাংশ আইসিইউ প্রয়োজন হবে। কিন্তু আইসিইউ চালু করলেই তো হবে না। এর সঙ্গে জনবল গুরুত্বপূর্ণ। নিউরো ও কার্ডিয়াক সিওপিডি রোগীকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারকে এ জন্য দ্রুত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য