সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার: ড. শাহ্‌দীন মালিক

এক দল সংসদে থেকে নির্বাচন করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক দল সংসদে থেকে নির্বাচন করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না

  আবু সালেহ রনি

সংবিধান সংবিধান না করেই সুষ্ঠু ও সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আইনজীবী প্যানেলের আহ্বায়ক বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক। তবে তার মতে, এ জন্য সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। সেইসঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী দল থেকেও কয়েকজনকে স্থান দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখাতে হবে। দাবির ব্যাপারে কোনো পক্ষের অনড় অবস্থান দেশের জন্য সুখকর হবে না।

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ও আগামী সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সমকালের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক এসব কথা বলেন। নির্বাচনকালীন সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে গতকাল সোমবার বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সূত্র ধরেই ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় শাহ্‌দীন মালিকের সঙ্গে।

ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির একটি হচ্ছে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। এ দাবির সপক্ষে আইনগত ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণের জন্য কয়েকদিন ধরে ঐক্যফ্রন্ট ও আইনজীবী প্যানেলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক চলছে। তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলছে সংসদ ভেঙে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।

এ প্রসঙ্গে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, "দেখেন, এক দল সংসদে থেকে নির্বাচন করবে আর বিরোধী দল বা অন্যরা মাঠে থেকে নির্বাচন করবে, এতে তো নির্বাচনের জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' হবে না। অতএব যারা সংসদে আছেন তাদের সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্যান্য প্রার্থীর মতো এক কাতারে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কারণ সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদেই নির্বাচন প্রসঙ্গে দুটি বিকল্পের কথা বলা আছে। প্রথমটি হলো সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা যাবে। আর দ্বিতীয়টি হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা যাবে। দ্বিতীয় বিষয়টি ১২৩-এর ৩খ-তে স্পষ্ট বলা আছে।"

তার মতে, 'সংসদ ভেঙে দেওয়া অনেক দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রচলিত। ২০১৪ সালের আগে বাংলাদেশেও সব নির্বাচন সংসদ ভেঙে দিয়ে হয়েছে। তাই এ নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই। সংসদ ভেঙে দিলেও নির্বাচনকালীন সরকার দলীয় সরকারই থাকবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী ছাড়া নির্বাচনের মাঠে অন্য সবাই সমান থাকবে।'

'সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই' মন্তব্য করে প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই বিশিষ্ট আইনজীবী বলেন, 'বিদ্যমান সংবিধানের আলোকেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। কারণ, সংবিধানে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের বিষয় বলা আছে। আবার সংসদ ভেঙে দিলে পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো কী হবে, তাও সংবিধানে আছে।'

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'দলীয় সরকার না থাকলে নির্বাচন ভালো হবে। এ ধারণা থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তবে সেই দলীয় সরকার যাতে নির্বাচনে কম প্রভাব বিস্তার করে, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনিও চান না, একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হোক। এ জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেসব বিষয় প্রভাব রাখতে পারে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।'

জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে আগের সব সংলাপই ব্যর্থ হয়েছে, এবারের সংলাপের ভবিষ্যৎ কী দেখছেন- এমন প্রশ্নে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, 'সম্পূর্ণ আশাবাদী। এটা সফল হবে। কারণ দুটো। একটা হলো, অর্ধশতাব্দীর পথপরিক্রমায় রাজনীতিবিদরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপকস্ফ হয়েছেন। অতীতের সংলাপ সফল না হওয়ার চেয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দ্বিতীয়ত, সংলাপ সফল না হলে সবাই অশান্ত পরিবেশে পড়ব। সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের অশান্ত পরিবেশ ও বিরোধে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। অর্থাৎ অনেকেই কিছু সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবে। এটাও নিঃসন্দেহে রাজনীতিবিদরা সম্পূর্ণ বুঝতে পারবেন।' তার মতে, 'দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতিবিদরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটা সমাধানে আসবেন। এ সমাধান হয়তো সবার কাছে শতভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না, কিন্তু সব পক্ষই সংলাপ থেকে কিছু না কিছু সমাধান পাবে এবং কিছু না কিছু ছাড় দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে।'

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে সংলাপে যোগ দিয়েছে, আবার ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এ প্রশ্নে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, 'রাজনৈতিকভাবে বিএনপি কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ছিল। এবং রাজনীতির মাঠে তারা শক্তিশালীও হতে পারছিল না। এখন ঐক্য হওয়ায় ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ও বিএনপিসহ দুই পক্ষেরই সুবিধা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট হওয়ায় বিএনপিসহ সবাই কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এখন শক্তিশালী।'

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্ট ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন কোন মন্ত্রণালয়ের প্রসঙ্গ আলোচনায় রয়েছে- জানতে চাইলে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, '২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এখন প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাবের সঙ্গে আরও দুটি মন্ত্রণালয় বিরোধী দলকে ছেড়ে দেবেন- এমনটাই ভাবছি। এটা হতে পারে আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয়।'

দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সংলাপে সম্মতি দিয়েছেন, এটা রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে- এমন প্রশ্নে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, 'এটা দুইশ'ভাগ ইতিবাচক দিক। অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ফল। তাদের (আওয়ামী লীগে) দলের অনেকেই তো কয়েক মাস আগেও বলেছেন- কিসের সংলাপ, কিসের আলোচনা। সংলাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে তার সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কারণ নির্বাচন বয়কট, সংঘাত কারও জন্য সুখকর হবে না।'


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই


আরও খবর

সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাজবংশী রায়

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সহায়তা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আশা করি শুধু পদোন্নতি, পদায়ন এসব বিষয় নিয়ে বিএমএ এবং স্বাচিপ থাকবে না। বরং জনগণের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় অংশ কমিউনিটি ক্লিনিক। এটির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) পাশাপাশি একজন করে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী এবং স্বাস্থ্য সহকারী কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ৩০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরনো মডেলের কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিবর্তে নতুন মডেলের ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কমিউনিটি এসব ক্লিনিকের প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে এই মডেল অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। সুতরাং বলা যায়- কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

হাসপাতালে বরাদ্দ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জাহিদ মালেক বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা হবে। প্রয়োজন নেই, এমন কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হবে না। ক্রয়ের পদ্ধতি সরকার প্রণীত নিয়মনীতির শতভাগ প্রয়োগ করা হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। সংশ্নিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাহিদা পাঠাবে। যার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক সেবা পাচ্ছে। সরকার চায়, এটি মানসম্মতভাবে অব্যাহত থাকুক। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানও নিয়মমাফিক চলতে হবে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সবকিছু নিয়মমাফিক আছে কি-না, যন্ত্রপাতি সঠিক আছে কি-না, এসব দেখার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আনা চার্জগুলো মনিটর করা হবে। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে কি-না তা দেখতে হবে। যদি আইন অনুযায়ী সেগুলো না চলে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনে অনেক রকম বিধান আছে, সেগুলোর মধ্যে জেল-জরিমানা এবং সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এসব পদক্ষেপ ধাপে ধাপে গ্রহণ করা হবে।

গ্রামের কর্মস্থলে চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকছেন না- এটি বেশ পুরনো অভিযোগ। গ্রামের কর্মস্থল, বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের ধরে রাখার পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধরে রাখতে উৎসাহিত করা হবে। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেমন, উপজেলায় চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের এখন গাড়ি দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় গাড়ি দেওয়া হবে। তাদের ওপর থাকবে জোরালো মনিটরিং। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকেও যেসব চিকিৎসক পুরোদমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের খুঁজে বের করা হবে।

মেডিকেল শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠান এই জনবল তৈরি করেন, তাদের সক্ষমতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে আগে। সে জন্য সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনেকগুলো বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজ আছে, যেগুলো সত্যিকার অর্থে মানসম্পন্ন নয়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে মেডিকেল কলেজ পরিচালনা করছে। এগুলো নিয়মনীতির আওতায় আনা হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নমূলক যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, আরও গতি সঞ্চার করে সেগুলোকে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা মন্ত্রী হিসেবে তার আশু টার্গেট। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে যেসব প্রকল্প ও সেবার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোও দ্রুত শুরু করবেন তিনি। বিশেষ করে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে ক্যান্সার হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট গড়ে তোলা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি প্রকল্পও চলমান আছে। এটি সম্প্রসারণ করে পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল হবে। বিশ্বের কোথাও এতবড় হাসপাতাল নেই। ঢামেক হাসপাতাল হবে অত্যাধুনিক মানের। যেখানে সব ধরনের চিকিৎসা, গবেষণা, শিক্ষা, নার্সিং শিক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকবে। এটি দ্রুততম সময়েই শুরু করা হবে। একইসঙ্গে সরকারি নতুন পাঁচটি মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। আরও ৫-৬টি মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ চলছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের কাজও দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হবে।

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কী কী বিষয় প্রয়োজন তা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। সরকারি খাতে যে মানবসম্পদ আছে, তার সঠিক বিন্যাস করতে হবে। স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কোথায় কতজন সার্জন প্রয়োজন, কতজন গাইনি, চর্ম ও যৌন, অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ের চিকিৎসক প্রয়োজন, বর্তমানে এসবের কোনো সঠিক অনুপাত নেই। এই আনুপাতিক বিন্যাস নির্ণয় ও নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসক ও নার্সের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বর্তমান পদ্ধতিতে হাসপাতাল পরিচালকের নার্সের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নার্সের পদোন্নতি, বদলি কোনো কিছুর জন্যই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন হয় না। এটি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে ন্যস্ত রয়েছে। এর ফলে কোনো কর্মী কথা না শুনলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কিছু করার থাকে না। এ ক্ষেত্রে সমন্বয় আনা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কোন কাজটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছি। এ জন্য এই খাতকে জোরালো সুপারভিশন ও মনিটরিং ব্যবস্থার মধ্যে আনাই তার প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে কোনো চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তা বের করা যাবে। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে আছে কি-না, নতুন কোনো যন্ত্রপাতি লাগবে কি-না, ওষুধ আছে কি-না তা তাৎক্ষণিকভাবেই জানা যাবে। এভাবে অনেক আর্থিক অপচয় ও দুর্নীতি-অনিয়মও বন্ধ করা যাবে।

গত পাঁচ বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাইছেন স্বাস্থ্য খাতকে জনবান্ধব খাতে পরিণত করতে। তিনি বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকেও নজরদারির আওতায় আনা হবে। পুরনো প্রকল্পের কাজে গতি আনার পাশাপাশি ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রকল্প নিয়ে তা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। বেসরকারি অনেক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে, সেগুলোকে তিনি সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চান বলে জানিয়েছেন।

জনগণের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতে চান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে করেন, জোরালো 'সুপারভিশন' ও 'মনিটরিংয়ের' মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ আছে, তাও বন্ধ হবে। মনিটরিং টিম ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি মনিটর করা হবে।


পরের
খবর

তথ্য ও গণমাধ্যম খাত হবে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সহায়ক শক্তি


আরও খবর

সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার : তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

তথ্য ও গণমাধ্যম খাত হবে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সহায়ক শক্তি

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহেদ চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গণমাধ্যমবান্ধব ও গণমাধ্যম বিকাশে সহায়ক সরকার বলে অভিহিত করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, দ্রুত বিকাশমান তথ্য ও গণমাধ্যম খাত হবে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সহায়ক শক্তি। তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি প্রতিরোধ করবে, তেমনি চার সামাজিক ব্যাধি মাদক, ভেজাল, জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করবে।

সমকালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বেই গোটা জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক উন্নয়নের সোপান তৈরি হচ্ছে। সৎ এবং সাহসী রাজনীতিক হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত জননেত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছেন। তিনি জনগণের ভোটে চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে শতভাগ সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দুর্নীতির পাশাপাশি মাদক, ভেজাল, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, একমাত্র বিএনপির দৃষ্টিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলেও দেশ-বিদেশের সবাই এই নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে। ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দিত করছেন। সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় এই নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশজুড়ে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া। গত ১০ বছরে দেশ বদলে গেছে। স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত। মাথাপিছু আয় ৬০০ থেকে ২০০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশ এখন ক্ষুধামুক্ত। দারিদ্র্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। কুঁড়েঘর এখন কবিতায়, বাস্তবে নেই। খালি পায়ের মানুষ চোখে পড়ে না। ছেঁড়া কাপড় পরিহিত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আকাশ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম চেনা যায় না। হাতিরঝিলে গেলে মনে হয়, এ যেন বিদেশ. আধুনিক কোনো দেশের ভূখণ্ড। কোনো জাদুর ছোঁয়ায় এভাবে দেশ বদলে যায়নি। শেখ হাসিনার জাদুকরি নেতৃত্বের কারণেই গত ১০ বছরে দেশে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আর মানুষ শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখেই আবারও বিপুলভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়ী করেছে।

এই ১০ বছরে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ওই সময়ে বিএনপি উন্নয়নের বিরুদ্ধে গিয়ে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করেছে। রাজনীতির নামে দিনের পর দিন হরতাল ডেকে মানুষকে অবরুদ্ধ করেছে। পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়েছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করেছে। এসব কারণেই গত নির্বাচনে মানুষ বিএনপিকে প্রচণ্ডভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ও চট্টগ্রাম-৭ আসনে তিনবারের এমপি ড. হাছান মাহমুদ গত নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তিনি ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির মনোনয়নে জয়ী সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করলে সেটা জনগণকে অপমান করার শামিল হিসেবেই বিবেচিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রামের মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেছেন, সংসদে সংখ্যা বড় বিষয় নয়। বিএনপির আটজন সদস্য চাইলেই সরকারের ক্রটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দিয়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সংসদকে প্রাণবন্ত করতে পারেন। কিন্তু বিএনপি তাদের নেতিবাচক রাজনীতির ধারাবাহিকতা আগামী দিনের রাজনীতিতে অব্যাহত রাখলে জনগণের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে। এটা বিএনপিকে আরও সংকটে ফেলবে, যা আওয়ামী লীগ কখনও প্রত্যাশা করে না।

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা বিএনপির জন্য আত্মহননের সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ব্রাসেলসের ব্রিজ ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বেলজিয়ামের লিমবার্গ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এবার সংসদে না এলে সেটাও বিএনপির জন্য আত্মহননের কাছাকাছি সিদ্ধান্ত হবে। গণফোরামের দুই নেতা মৌলভীবাজার-২ আসনের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান শপথ গ্রহণের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। সবার প্রত্যাশা, বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও তাদের পথ অনুসরণ করবেন। সংসদে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের বিপক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করবেন।

প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়াসহ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, জাতীয় পার্টি আগের সরকারে থেকেও বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু ওই সময়ে জাতীয় পার্টিকে পুরোপুরি বিরোধী দল হিসেবে মেনে নিতে জনগণের কষ্ট হচ্ছিল। এবার ওই সমস্যা নেই। আর জাতীয় পার্টি এবার কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা নিলে তাদের সাংগঠনিক অবস্থান রাজপথেও প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করে আসা ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৪ দল একটি রাজনৈতিক পল্গ্যাটফরম, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জোট। এই জোট থাকবে। মৌলিক ইস্যুতে ১৪ দলের ঐক্য ও সংহতি আগের মতোই অটুট থাকবে। তবে বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের। ১৪ দলের অন্য শরিক রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে নেই। সুতরাং তারা আগের মতো এবারও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেছেন, বিশ্বে কোনো সরকারের পক্ষেই শতভাগ নির্ভুল কাজ করা সম্ভব নয়। এটা স্বাভাবিক। এর সমালোচনাও হতে পারে। তাই বলে সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে সাংঘর্ষিক কিছু দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। আওয়ামী লীগ সরকার সবাইকে নিয়ে দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতিবাচক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সবাইকে নিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করতে চাইছেন। এ জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতির অবসান প্রত্যাশা করছেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সব দল উপজেলা নির্বাচনে আসুক, এটা আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা। বিএনপিও উপজেলা নির্বাচনে আসবে। সেটা না হলে বিএনপির অনেকেই আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইস্ট ওয়েস্ট এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করে আসা হাছান মাহমুদ আরও বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করা হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত থাকবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন গত সংসদে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ড. হাছান মাহমুদ।

পরের
খবর

ঢাকা নিয়ে পরিকল্পনা আছে বাস্তবায়ন নেই


আরও খবর

সাক্ষাৎকার
ঢাকা নিয়ে পরিকল্পনা আছে বাস্তবায়ন নেই

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ড.ইশরাত ইসলাম

  তাসলিমা তামান্না

ড. ইশরাত ইসলাম অধ্যাপনা করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে। তিনি জাপানের কিয়োটোর রিৎসু মেকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ২০০৮ সালে। নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি ভূমিকম্প, ঢাকার জলাভূমির ভবিষ্যৎ, পরিবেশসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও কাজ করেছেন। সমকালের সঙ্গে তিনি নগর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ  করেছেন- তাসলিমা তামান্না

সমকাল :ঢাকা দেশের রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর। তারপরও বসবাসের দিক দিয়ে এটি বিশ্বের অনুপযোগী শহরের মধ্যে এগিয়ে আছে। ঢাকার এ অবস্থার কারণ কী?

ইশরাত ইসলাম :ঢাকা হচ্ছে জাদুর শহর। যতই সমস্যা থাকুক, এখানে মানুষ জীবিকার সন্ধানে আসে। তবে এই শহরটা সবার ভালোবাসার শহর কি-না, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কারণ যখনই একটা ছুটির সময় হয়, তখনই সবাই যার যার শিকড়ের কাছে চলে যায়। 

সমকাল :জীবিকার টানে এলেও শহরটাকে ভালোবাসতে পারে না কেন? অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠার কারণেই এটি কি আকর্ষণ তৈরি করতে পারছে না?

ইশরাত ইসলাম :অনেক সময় ঢাকাকে অপরিকল্পিত শহর বলা হয়। কিন্তু ১৯৫৯ সাল বা তার আগে ১৯১৭ সালে স্কটিশ পরিকল্পনাবিদ স্যার প্যাট্রিক গেডেস ঢাকা শহরের পরিকল্পনার কথা বলে গেছেন। ১৯৫৯-এ ঢাকার মাস্টার প্ল্যান, ১৯৯৫-এ স্ট্রাকচার প্ল্যান, এর পর ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান হয়েছে। আরেকটা পরিকল্পনা শেষের পথে। এ কারণে এটাকে অপরিকল্পিত শহর বলা ঠিক হবে না। এর মূল সংকট পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হয় না। 

সমকাল : পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ কী? 

ইশরাত ইসলাম :পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু টুল্‌স বা হাতিয়ার লাগে। ট্যাক্সেশন নীতি, আইনের প্রয়োগ; এগুলো ঠিকমতো না হলে পরিকল্পনা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হবে না। পরিকল্পনায় যা বলা হয়, তা পূরণ করতে হলে আইনের সাহায্য নিতে হবে। দেশে জলাধার আইন আছে, কিন্তু এর কোনো প্রয়োগ নেই। ঢাকা শহরের বেশিরভাগ বাড়িঘর নিয়মকানুন মেনে তৈরি হয়নি। অথচ ইমারত বিধিমালা, বিল্ডিং কোড আছে। এখন পর্যন্ত যেসব পরিকল্পনা হয়েছে সবই কিন্তু আইনগত দলিল। সেই পরিকল্পনা পালন করা না হলে, সেটা আইন লঙ্ঘন। কিন্তু এ জন্য কেউ দোষী হয়নি, কারও সেভাবে শাস্তিও হয়নি। আইন ভাঙা যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। সবাই ধরে নিয়েছে- এভাবেই বিষয়গুলো চলতে থাকবে। 

সমকাল :আইন না মানার সংস্কৃতির পেছনে একটি কারণ কি আবাসনের ওপর তীব্র চাপ? ঢাকা শহরমুখী জনস্রোতের চাপ কমানোর উপায় কী? 

ইশরাত ইসলাম :বিকেন্দ্রীকরণই এর প্রধান উপায়। মানুষ সেখানেই আসবে, যেখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকবে। প্রধানত কাজের সুবিধার জন্যই মানুষ ঢাকা আসছে। উন্নত শিক্ষা, ভালো স্বাস্থ্যসেবা পেতেও সবাইকে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। অথচ দেশে ৬৪টি জেলা আছে। সেখানে কত মানুষ আছে, কী ধরনের সুবিধা দিলে তারা ঢাকায় আসবে না, এগুলো গবেষণার বিষয়। 

সমকাল :শহরে যেসব প্লট বরাদ্দ করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও ধনীদের জন্য। শহরে তো দরিদ্র মানুষও বসবাস করছে। তাদের আবাসনের জন্য কী ব্যবস্থা হতে পারে? 

ইশরাত ইসলাম :ঢাকায় কিছু ছিন্নমূল মানুষ আছে। তবে বেশিরভাগই কোনো না কোনো ব্যবস্থা করে কোথাও থাকছে। যেমন- গার্মেন্টে কাজ করা একটা মেয়ে আরও দু'জন মেয়ের সঙ্গে একটা ঘরে থাকছে। রুমের আকৃতি হয়তো ১০ ফুট বাই ১০ ফুট। অর্থাৎ তার জায়গার চাহিদা খুবই কম। দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমাদের আবাসন খাত এই সামান্য জায়গাও সুলভ করে তুলতে পারছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিক আবাসিক এলাকার চেয়ে বস্তিতে প্রতি বর্গফুটে ভাড়া বেশি। আবার যে বস্তিতে তারা ভাড়া থাকছে, সেগুলো হয়তো কেউ একজন দখল করে আছে। জমিটা সরকারের হলেও সরকারি কোষাগারে সেই ভাড়াটা যাচ্ছে না। অথচ এই জমিগুলো থেকেই কিছু প্রকল্প করা যায়, যেগুলো হবে ভাড়াভিত্তিক। গার্মেন্ট কিংবা শিল্প-কারখানার সঙ্গেও এই ব্যবস্থাগুলো হতে পারে। অফিসগুলো কিছু ডরমিটরি ভাড়া নেবে তাদের কর্মচারীদের জন্য। এর পর কর্মীর সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়ি ভাড়াটা কেটে নিতে পারে। এ ধরনের প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ ও সদিচ্ছা দরকার। 

সমকাল :আমরা তো বরং ভাড়া আবাসনের চাহিদা মেটানোর বদলে প্লট বরাদ্দভিত্তিক প্রকল্প বেশি দেখছি।

ইশরাত ইসলাম :সরকারি উদ্যোগে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের প্লট দেওয়া সরকারের বন্ধ করা উচিত। এ ব্যবস্থায় গরিব মানুষের জমি নিয়ে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে জমিটা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই অনৈতিক। উন্নত দেশে সরকার প্রথম বাড়ির জন্য ঋণ সুবিধা দেয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারের ক্ষেত্রে মালিককে উচ্চ কর দিতে হয়। আমাদের এখানে যার জমি আছে. তার আবার ফ্ল্যাটও আছে। এক ব্যক্তি ১০ কাঠার বেশি জমির মালিকানা নিতে পারবে না, নিলেও উচ্চ পরিমাণে কর দিতে হবে- এমন নিয়ম করা গেলে একজনেরই এত জমি-বাড়ি থাকত না। করপোরেট হিসাবেও জমির একটা পরিমাণ ঠিক করা দরকার। জমিটা কিনে ১০ বছর রেখে বিক্রি করে যত টাকা আয় হয়, তার একটা বড় অংশ কর পরিশোধ করার নিয়ম থাকলে সবার জমি কিনে ব্যবসা করার প্রবণতা কমত। 

সমকাল :ভাসানটেকে তো নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প করা হয়েছিল। কিন্তু এগুলোর অধিকাংশই যাদের পাওয়ার কথা, তারা পায়নি। এর সমাধান কী? 

ইশরাত ইসলাম :ভাসানটেক প্রকল্প কাদের জন্য করা হয়েছিল- এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। একজন সাধারণ মানুষ ৫০০ বর্গফুটের একটা ফ্ল্যাট কিনতে পারে না। ওই মানুষটার জন্য চার লাখ টাকা জোগাড় করাও কঠিন। তার সামর্থ্যের সীমা অনুযায়ীই আবাসনের জোগান দেওয়া উচিত। সে হয়তো বাড়িটা ভাড়া নেবে। এমন প্রকল্পের আওতায় বাড়িটা কাকে দেওয়া হচ্ছে, সে কোথা থেকে এসেছে- এই তথ্যগুলোর জন্য আলাদা মনিটরিং সেল দরকার। 

সমকাল : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইশতেহারে এবার 'আমার গ্রাম-আমার শহর' শিরোনামে বিশেষ অঙ্গীকারে গ্রামে শহরের সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ইশরাত ইসলাম :গ্রামে শহরের সুবিধা দিতে গিয়ে যদি গ্রামকেই শহর করে ফেলা হয়, সেটা আমাদের চাওয়া নয়। গ্রামের মানুষদের পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা- এ সুবিধাগুলো দিতে হবে। গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত বা বিপণনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষকের ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই থেকে যায়। গ্রামে যদি কিছু শিল্প-কারখানা বা হিমাগারের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে মানুষ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারবে। গ্রামের মানুষ তাদের প্রয়োজনে স্বচ্ছন্দে শহরে আসবে। নিজেদের উৎপাদন দিয়ে শহরকে সহযোগিতা করবে। গ্রাম-শহরের মধ্যে একটা বিনিময় থাকবে। 

সমকাল :নতুন ঢাকার কথা আমরা অনেক সময় বলে থাকি। পূর্বাচলে নতুন শহর তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এতে মূল ঢাকার চাপ কতখানি কমবে বলে মনে করেন? 

ইশরাত ইসলাম :পূর্বাচলে ১০ লাখ মানুষের থাকার জন্য নকশা করা হয়েছে। ওই এলাকার ঘনত্ব অনুযায়ী সেখানে তিন বা চারতলার বেশি ভবন হওয়া উচিত নয়। ওখানে যদি পাঁচ কাঠার প্লটে আট-দশতলা করা হয়, তাহলে অনেক মানুষ ওখানে থাকবে। তখন যে সুবিধাগুলো এখানে দেওয়া হয়েছে, সেটা আবার ওখানকার জনসংখ্যার জন্য অপ্রতুল হয়ে যাবে। পূর্বাচলের আশপাশে এখন প্রচুর বেসরকারি আবাসন আসছে। সেখানে যে রাস্তা করা হচ্ছে এখনকার বাস্তবতায় সেটা যথেষ্ট মনে হতে পারে। কিন্তু ওখানে যখন সবাই থাকা শুরু করবে, তখন আশপাশের ডেভেলপাররা পূর্বাচলের সুবিধাটা নিতে চাইবে। পরিবহন ব্যবস্থা, ভূমি ব্যবহার, পূর্বাচলের বাইরে কতগুলো প্রজেক্ট আছে, কত মানুষ থাকবে এবং রাস্তাগুলোর ওপর কেমন চাপ পড়বে- ওগুলো নিয়ে আরও গবেষণা করা দরকার। কারণ সবাই নিজের অংশটা নিয়েই গবেষণা করে। কিন্তু সব প্রকল্পের সম্মিলিত ফলাফল কী হবে, সেটা নিয়ে কেউ ভাবে না। 

সমকাল :সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইশরাত ইসলাম :ধন্যবাদ।

সংশ্লিষ্ট খবর