সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার: ড. শাহ্‌দীন মালিক

এক দল সংসদে থেকে নির্বাচন করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক দল সংসদে থেকে নির্বাচন করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না

  আবু সালেহ রনি

সংবিধান সংবিধান না করেই সুষ্ঠু ও সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আইনজীবী প্যানেলের আহ্বায়ক বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক। তবে তার মতে, এ জন্য সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। সেইসঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী দল থেকেও কয়েকজনকে স্থান দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখাতে হবে। দাবির ব্যাপারে কোনো পক্ষের অনড় অবস্থান দেশের জন্য সুখকর হবে না।

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ও আগামী সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সমকালের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক এসব কথা বলেন। নির্বাচনকালীন সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে গতকাল সোমবার বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সূত্র ধরেই ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় শাহ্‌দীন মালিকের সঙ্গে।

ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির একটি হচ্ছে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। এ দাবির সপক্ষে আইনগত ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণের জন্য কয়েকদিন ধরে ঐক্যফ্রন্ট ও আইনজীবী প্যানেলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক চলছে। তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলছে সংসদ ভেঙে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।

এ প্রসঙ্গে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, "দেখেন, এক দল সংসদে থেকে নির্বাচন করবে আর বিরোধী দল বা অন্যরা মাঠে থেকে নির্বাচন করবে, এতে তো নির্বাচনের জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' হবে না। অতএব যারা সংসদে আছেন তাদের সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্যান্য প্রার্থীর মতো এক কাতারে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কারণ সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদেই নির্বাচন প্রসঙ্গে দুটি বিকল্পের কথা বলা আছে। প্রথমটি হলো সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা যাবে। আর দ্বিতীয়টি হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা যাবে। দ্বিতীয় বিষয়টি ১২৩-এর ৩খ-তে স্পষ্ট বলা আছে।"

তার মতে, 'সংসদ ভেঙে দেওয়া অনেক দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রচলিত। ২০১৪ সালের আগে বাংলাদেশেও সব নির্বাচন সংসদ ভেঙে দিয়ে হয়েছে। তাই এ নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই। সংসদ ভেঙে দিলেও নির্বাচনকালীন সরকার দলীয় সরকারই থাকবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী ছাড়া নির্বাচনের মাঠে অন্য সবাই সমান থাকবে।'

'সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই' মন্তব্য করে প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই বিশিষ্ট আইনজীবী বলেন, 'বিদ্যমান সংবিধানের আলোকেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। কারণ, সংবিধানে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের বিষয় বলা আছে। আবার সংসদ ভেঙে দিলে পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো কী হবে, তাও সংবিধানে আছে।'

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'দলীয় সরকার না থাকলে নির্বাচন ভালো হবে। এ ধারণা থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তবে সেই দলীয় সরকার যাতে নির্বাচনে কম প্রভাব বিস্তার করে, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনিও চান না, একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হোক। এ জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেসব বিষয় প্রভাব রাখতে পারে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।'

জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে আগের সব সংলাপই ব্যর্থ হয়েছে, এবারের সংলাপের ভবিষ্যৎ কী দেখছেন- এমন প্রশ্নে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, 'সম্পূর্ণ আশাবাদী। এটা সফল হবে। কারণ দুটো। একটা হলো, অর্ধশতাব্দীর পথপরিক্রমায় রাজনীতিবিদরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপকস্ফ হয়েছেন। অতীতের সংলাপ সফল না হওয়ার চেয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দ্বিতীয়ত, সংলাপ সফল না হলে সবাই অশান্ত পরিবেশে পড়ব। সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের অশান্ত পরিবেশ ও বিরোধে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। অর্থাৎ অনেকেই কিছু সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবে। এটাও নিঃসন্দেহে রাজনীতিবিদরা সম্পূর্ণ বুঝতে পারবেন।' তার মতে, 'দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতিবিদরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটা সমাধানে আসবেন। এ সমাধান হয়তো সবার কাছে শতভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না, কিন্তু সব পক্ষই সংলাপ থেকে কিছু না কিছু সমাধান পাবে এবং কিছু না কিছু ছাড় দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে।'

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে সংলাপে যোগ দিয়েছে, আবার ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এ প্রশ্নে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, 'রাজনৈতিকভাবে বিএনপি কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ছিল। এবং রাজনীতির মাঠে তারা শক্তিশালীও হতে পারছিল না। এখন ঐক্য হওয়ায় ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ও বিএনপিসহ দুই পক্ষেরই সুবিধা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট হওয়ায় বিএনপিসহ সবাই কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এখন শক্তিশালী।'

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্ট ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন কোন মন্ত্রণালয়ের প্রসঙ্গ আলোচনায় রয়েছে- জানতে চাইলে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, '২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এখন প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাবের সঙ্গে আরও দুটি মন্ত্রণালয় বিরোধী দলকে ছেড়ে দেবেন- এমনটাই ভাবছি। এটা হতে পারে আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয়।'

দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সংলাপে সম্মতি দিয়েছেন, এটা রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে- এমন প্রশ্নে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, 'এটা দুইশ'ভাগ ইতিবাচক দিক। অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ফল। তাদের (আওয়ামী লীগে) দলের অনেকেই তো কয়েক মাস আগেও বলেছেন- কিসের সংলাপ, কিসের আলোচনা। সংলাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে তার সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কারণ নির্বাচন বয়কট, সংঘাত কারও জন্য সুখকর হবে না।'

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সকল রাজনৈতিক দলের দায়বদ্ধতা আছে


আরও খবর

সাক্ষাৎকার

রোকেয়া কবীর

  অনলাইন ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অল্প কিছুদিন বাকি। সব রাজনৈতিক দলই এখন ব্যস্ত নির্বাচনী প্রচারণা ও ইশতেহার নিয়ে। বিগত নির্বাচনগুলোতে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহারে নারী উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তারপরও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ থেকেই যাচ্ছে। নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনী ইশতেহার কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বেসরকারি সংস্থা ‘নারী প্রগতি সংঘ’-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন তাসলিমা তামান্না। 

সমকাল: নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহারে নতুন করে এবার আর কী যোগ করা উচিত?

রোকেয়া কবীর: নতুন কিছু বিষয় যোগ করা যেতে পারে। যেমন-উত্তরাধিকারে নারীদের সমান অধিকার প্রদান। সেই সঙ্গে নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৩-০৪ এ সমান অধিকারের যে বিষয়গুলো অপসারণ করা হয়েছে সেগুলো আবার যোগ করা। মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টাকে পূর্ণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা, বাজেটে একটা সুর্নিদিষ্ট অংশ নারীর জন্য বরাদ্দ করা, নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। নরীর প্রতি যে কোনো রকমের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি এবং কার্যক্রম রাষ্ট্র কিংবা অন্য যেই করুক না কেন, তাদের মনিটর করার জন্য একটা জাতীয় নারী কমিশন হওয়া দরকার বলে মনে করি। সব রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলো তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে বিষয়গুলো রাখবে— এটাই আমরা চাওয়া।

আরেকটা হলো, নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর সমান অধিকার বিরোধী যে কোনো রাজনীতি, রাজনৈতিক শক্তি এবং বক্তব্য যারা দেন তাদেরকে কোনো জোটেই যেন প্রশ্রয় দেওয়া না হয়। তাদেরকে প্রার্থী হিসেবেও যাতে না রাখা হয়— সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে।

বলা হয়, একাত্তরের যুদ্ধে ৫-৬ লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যাটা অনেক বেশি। সাধারণ পরিস্থিতিতেই প্রতিনিয়ত নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। আর ধর্ষণকে যখন যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে দেখা হয়েছে তখন যে কত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে তার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি। এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি সেই স্বাধীন দেশে যারাই রাজনীতি, ব্যবসা কিংবা এনজিও করবেন তাদের অবশ্যই রক্তের ঋণের একটা দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। আর সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা মূল্যবোধ। বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত একটা সমাজ। যে সমাজের কথা বঙ্গবন্ধু তার প্রত্যেকটা রাজনৈতিক বক্তব্যে বলেছেন। আন্তর্জাতিক ফোরামেও তিনি বলেছেন— 'সারা বিশ্বে দুটি পক্ষ আছে। একটা হলো শোষক আর আরেকটা শোষিত। আর আমি শোষিতের পক্ষে।' সুতরাং শোষণ, বৈষম্যহীন সমাজের যে অঙ্গীকার সেটার প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। 

সমকাল: নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আপনার আহ্বান কী?

রোকেয়া কবীর: দেশি, বিদেশি পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল— সবাই 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিয়ে কথা বলে ক্ষমতায় যাওয়ার সময় হলে। কিন্তু সরকার গঠন করলে সকল নাগরিকের জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তারা কীভাবে তৈরি করবেন— এটা ইশতেহারে থাকা উচিত। শুধু নারীর জন্য নয়, সমাজে অন্যান্য গোষ্ঠী যারা বৈষম্যের শিকার তাদের জন্যও সবার কাজ করা উচিত। আইনের আশ্রয় নেওয়ার সমান সুযোগ, গ্রাম-শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণও নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা উচিত। মূল কথা হচ্ছে— যুদ্ধাপরাধী এবং যারা ঘোষণা দিয়ে নারী ও অন্যান্য ধর্মগোষ্ঠীর সমান অধিকার স্বীকার করে না, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে বলে মনে করি না। নির্বাচিত হওয়ার পরে সকল নাগরিকের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' কীভাবে তৈরি করবেন সেটা তাদের ইশতেহারে সর্বপ্রথম ঘোষণা করতে হবে।

সমকাল: আমাদের দেশের পারিবারিক আইনগুলোতে এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিয়ে, বিয়ে বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব— সব ক্ষেত্রেই নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়গুলো কতটা যোগ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

রোকেয়া কবীর: বৈষম্যের বীজটা রোপন হয় পরিবার থেকে, সম্পদে সমান অধিকার না থাকার কারণে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যদি তা না করা হয় তাহলে সেটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না। পারিবারিক আইন এখনও ধর্মভিত্তিক রয়ে গেছে, এটা বৈষম্যমূলক। সকল নাগরিকের সমান অধিকার। নারীর জন্য সেই সমান অধিকার সমভাবে প্রযোজ্য। এটার প্রতি সব রাজনৈতিক দলের একটা দায়বদ্ধতা আছে। 

সমকাল: মনিটরিং ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালনা করা যায়?

রোকেয়া কবীর: মনিটরিংয়েরে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একটা ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন হলো নির্বাচন পরিচালনার জন্য। নির্বাচনের পর নির্বাচিতরা কী করবে কী করবে না, তা সাধারণত নির্বাচন কমিশনের আওতায় পড়ে না। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনসহ অন্যান্য  কমিশন এবং সুশীল সমাজ যদি নিয়মিত নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়গুলো সরকার বাস্তবায়ন করছে কি-না এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই দাবিগুলো নিয়ে কোন কথা বলছে কি-না, সেটাও মনিটর করে তাহলে একটা জবাবদিহিতা তৈরি হয়। এখানে জবাবদিহির কোনো সংস্কৃতি চালু না থাকায় বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয় না। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু, দলিত জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক পর্যায়ে যারা আছেন তাদের দাবিগুলো নিয়ে, সেটা ধর্মীয় কিংবা যৌন নিপীড়নজনিত যাই হোক না কেন, খুব বেশি রাজনৈতিক দল কথা বলে না। শুধুমাত্র কিছু কিছু মানবাধিকার সংস্থা, নারী উন্নয়ন সংস্থা এটা নিয়ে কথা বলছে। 

সমকাল: নারী উন্নয়ন বাস্তবায়নে কোন বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? 

রোকেয়া কবীর: '৭৫ এর পর দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি সমাজে প্রচণ্ডভাবে ডাল পালা মেলেছে। তাদের অর্থনৈতিক শক্তি এত বেশি, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নিয়মিত দেশে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িকতার বিপরীত চিন্তা ভাবনা প্রচার করছে সারাবছর ব্যাপী। এর বিপরীতে গণতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষতা, প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনার যে সংস্কৃতি, সমাজে সেটা গড়ে তোলার ঘাটতি রয়েছে। এখানে অর্থনৈতিক শক্তির একটা সীমাবদ্ধতা আছে বলে আমার মনে হয়। সরকার এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া।

সমকাল: ২০০৮ কিংবা ২০১৪ সালে নারী উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বেশ কিছু বিষয় ছিল। এর মধ্যে সম অধিকার, নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি, বৈষম্য বন্ধসহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নারী নির্যাতনকারীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে…।

রোকেয়া কবীর: ওই যে আগেই বললাম, যদি নারী বিষয়ক কমিশন হয় তাহলে এটা তারা মনিটরিং করতে পারবে। আমাদের বিচারব্যবস্থা, পুলিশের ব্যবস্থা বা নির্যাতনের বিষয়গুলো যারা দেখেন তারা সকলেই কমবেশি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার। নারীর প্রতি সহিংসতা যে সাংঘাতিক একটা ব্যাপার এটা তারা মনে করেন না। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বলতে শোনা যায়— 'সমাজে এটা হবেই। এগুলো নিয়ে বেশি নড়াচড়া করলে অসুবিধা হবে। মিটমাট করে ফেলেন।' গ্রামে যেসব মাতবররা সালিশ-নালিশ করেন তাদের মানসিকতার মতো অনেক সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও একই মানসিকতা কাজ করে। কেস নিয়ে যেসব আইনজীবী লড়বেন তাদের চিন্তা ভাবনাও তাই। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য যদি একটা কমিশন যদি থাকে তবে তারা এসব ইস্যু সামনে আনবে। সরকারি যে ব্যবস্থাপনাগুলো আছে, যেমন- আইন, বিচার, সংসদ অথবা পুলিশের ব্যবস্থাপনা, তারা এসব মনিটর করে রিপোর্ট জমা দেবে সংসদে। 

সমকাল: সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীদের সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনীহা দেখা যায়। বরং সংরক্ষিত আসনেই নারীদের মনোনয়ন দিতে দলগুলোর মধ্যে বেশি আগ্রহ দেখা যায়। নারীর ক্ষমতায়নে এ ধরনের উদ্যোগ কতটা যুক্তিসঙ্গত?

রোকেয়া কবীর: এটা দিয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন খুব একটা হবে না। কারণ সেসব নারীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে যারা দলের কথা শুনবে। সংরক্ষিত আসনে যারা মনোনীত হয়ে আসেন তারা সংসদে উত্তরাধিকার আইন, নারীদের সম অধিকার আইন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি নিয়ে কথা বলেন না। এখানে সরাসরি নির্বাচিত না হয়ে আসলে তারা কথা বলতে পারবে না। সেই সুযোগ করা দরকার। নির্বাচন কমিশনকে আমরা একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক নারীদের সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। নির্বাচন আরপিও সংশোধন করে যদি এটা রাখা হয় এবং কিছু আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় লটারির মাধ্যমে নারী প্রার্থীদের জন্য, তাহলে প্রত্যেকটা দল নারী প্রার্থী দিতে বাধ্য হবে। তখন যে দল থেকেই আসুক নারীই নির্বাচিত হবে এবং সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ হবে। জনগণের ভোটের শক্তিতে আসার ফলে জনগণের কাছে তার একটা দায়বদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। 

সমকাল: সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়ন তথা নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক কথাই উল্লেখ থাকে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তা কতটুকু বাস্তবায়ন হয় বলে আপনি মনে করেন?

রোকেয়া কবীর: যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ক্ষমতায় গিয়ে তারা কী কী করবেন সেটাই হলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার। কিন্তু সবসময়ই দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বক্তব্য আছে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাদের যে কর্মকাণ্ড তাতে অনেক পার্থক্য রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও শক্তি এবং চিন্তা-ভাবনার সীমাবদ্ধতা আছে। কারণ নির্বাচন এলে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে যেভাবে কথা বলা হয়, সরকার গঠন করার পরে ওই দলের নির্বাচনী ইশতেহার যা ছিল সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করছে সেটা ফলোআপ করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হয় না। যদি সেটা করে পত্র-পত্রিকায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া যেত তাহলে হয়তো সারা বছর রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরে একটা চাপ থাকতো। এটা শুধু সরকারি দল না, অন্যান্য দলের জন্যও জরুরি। 

সমকাল: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

রোকেয়া কবীর: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বাংলা ভাষাকে ধারণ করে রেখেছে বাংলাদেশ: গর্গ চট্টোপাধ্যায়


আরও খবর

সাক্ষাৎকার

গর্গ চট্টোপাধ্যায়

  অনলাইন ডেস্ক

গর্গ চট্টোপাধ্যায়। ইন্ডিয়ান স্টাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং ভাষা অধিকার আন্দোলনের কর্মী। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মস্তিষ্ক বিজ্ঞানে পিএইচডি করছেন। থাকছেন কলকাতায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮ উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছিলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়। এ সময় তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সমকালের মিছিল খন্দকার।  

সমকাল: আপনাকে প্রথমেই যে প্রশ্নটা করতে চাই, এই যে বাংলাদেশ বাংলা ভাষাকেন্দ্রিক রাষ্ট্র, অন্যদিকে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটা রাজ্য। আপনি কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, কলকাতা তথা বাংলা পুঁজি ও হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের শিকার। এখন এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষীরা কি এক ধরনের আঞ্চলিকতার মধ্যে পড়ে গেছে- আপনার কী মনে হয়?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: এ দেশে সংবিধান অনুযায়ী যেমন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, আবার পশ্চিমবঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ভাষার ভিত্তিতে ঘটিত রাজ্য রেনডম না। পশ্চিমবঙ্গ ভাষাভিত্তিক রাজ্য ঠিক আছে। ভারতের রাজ্যগুলো অধিকাংশই ভাষার ভিত্তিতে ঘটিত, প্রেক্ষিত কোথাও অনুপস্থিত নয়। কিন্তু আবার পশ্চিমবঙ্গে বাংলা এবং বাঙালি কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এটাও ঠিক। কারণ ওখানে পুঁজিবাজার, চাকরি বেশিরভাগই হিন্দিভাষী ও ইংরেজি জানাদের দখলে। এখন অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ যদি অন্য ভাষার মানুষের হাতে থাকে তবে আপনি কোনঠাসা হবেনই। 

সমকাল:
আচ্ছা। তাহলে ওখানে বাংলা ভাষাভাষী লেখকরা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন এর মাধ্যমে?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: তারা লিখছে। তবে পয়সাওয়ালা পাঠক ওই ধরনের বই পাচ্ছে না। কারণ তাদের মন ইংরেজি, হিন্দিতে চলে গেছে। আর এই শ্রেণী কিন্তু বাংলা ছাড়া বাঁচতে পারে। এইখানে যেহেতু অন্য ভাষার আগ্রাসন নেই তাই প্রেক্ষিত অনুযায়ী মূলধারার লোকজন মূলত বাংলা ভাষারই থেকে যাচ্ছে।

সমকাল:
এই যে ঢাকা লিট ফেস্ট নামে ইন্টারন্যাশনাল একটা ফেস্ট হচ্ছে। বাংলা ভাষার লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে আপনি এই ফেস্টটাতে বাংলা ভাষার লেখকদের প্রাধান্য কতটা বলে মনে করেন?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: কলকাতায়ও দু'টি লিট ফেস্ট হয়। সেই লিট ফেস্টের স্পন্সর বাঙালি না, বয়ানে বাংলা না, সেই লিট ফেস্টের দর্শন বাঙালি না, সেই লিট ফেস্টের ভবিষ্যৎ বাংলা না, সেই লিট ফেস্টের কল্পনা বাঙালি না। দিল্লিতে, বেঙ্গালুরুতে, চেন্নাইতে যে অর্থে লিট ফেস্ট হয়, কলকাতায়ও হচ্ছে ওই একই অর্থে। অর্থাৎ সেখানে যে মাটির প্রেক্ষিত সেইটা অনুপস্থিত। তার মানে যে, সেখানে বাংলায় সেশন হয় না তা নয়। প্রেক্ষিত আর সেশন হওয়ার তফাৎ আছে। এই যে সামনের যে ছেলেটা জিন্স প্যান্ট পড়েছে সে কিন্ত সাহেব হয়ে যায় নাই। কারণ তার প্রেক্ষিত বদল হয় নাই। ফলে এটা একটা আবরণ। আর ওখানে আমরা দেখি উল্টো। প্রেক্ষিতটাই নেই। এর মূল কারণ হচ্ছে সেখানে হিন্দি সম্রাজ্যবাদের চাপে ও নিপীড়নে বাংলা ও বাঙালি আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। আমরা যখন হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ বলি- এক্ষেত্রে সম্রাজ্যবাদ কোনো একমুখী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন না। এটা পুঁজির আগ্রাসন, এটা বাজারের আগ্রাসন, এটা রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন- সব রকম। অর্থাৎ আজকে এইখানে ঢাকা লিট ফেস্টে এসে যে স্পন্সর দেখবেন, পর পর যে স্টল বা তাঁবুগুলো করেছে- এসব কিছুর মালিক বাঙালি। এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশে বিদেশি মালিকানার কোম্পানি নাই। কিন্তু মূল বিষয়টা বাঙালির হাতে। বাংলাদেশ বাংলা ভাষাকে ধারণ করে রেখেছে। পুঁজি, বাজার, চাকরি- এই তিনে আমরা যদি ত্রিভূজ বৃত্ত আঁকি, সেখানে বাঙালি মালিকানা, দাপট এবং আধিপত্য যথেষ্ট এখানে। এইটা পশ্চিমবাংলার ক্ষেত্রে ভয়ংকরভাবে অনুপস্থিত। অনুপস্থিত হবার কারণে প্রেক্ষিত বাংলা থাকে না, বাঙালি থাকে না। টাকা আছে, সুদৃশ্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আছে, আমি হয়ত বলবো বাংলা একাডেমির থেকেও অনেক সুন্দর দেখতে জায়গাটা- সেই সেটিংয়ে লিস্ট ফেস্ট আছে। কিন্তু সেই লিট ফেস্টের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও তার বাঙালির কোনো হৃদয়ের সংযোগ নাই। 

সমকাল:
আপনি বলতে চাইছেন যে, ঢাকা লিস্ট ফেস্টের সঙ্গে বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ের সংযোগ আছে; ইন্টারন্যাশনাল এ ফেস্টের প্রেক্ষিত বাংলা- এটা  প্রতিফলিত হচ্ছে?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: সব জায়গায় প্রতিফলিত হচ্ছেই। যখন কোনো ধর্মীয় বা কোনো পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম হয় কিংবা কোনো উৎসব হয়, তখন তাঁবুগুলোর যে ডিজাইনগুলো করা হয় এইখানে যে তাঁবুগুলো তাতে সেই একই ডিজাইনে করা হয়েছে। মানে এর বেশভূষা সবকিছুতেই বাংলাদেশ প্রতিফলিত হচ্ছে। 

সমকাল:
এই ফেস্টে অনেক ইন্টারন্যাশনাল লেখক-শিল্পী এসেছেন, তাদের নিয়ে যেসব সেশন হচ্ছে তার বেশিরভাগই ইংরেজিতে। সেই সঙ্গে অনেক সেশন বাংলায়ও হচ্ছে। কিন্তু বাংলায় যে সেশনগুলো হচ্ছে, ইন্টারন্যাশনাল যারা অ্যাটেন্ড করেছেন তারা তো বাংলা জানেন না, আবার ওইসব সেশনে তাদের উপস্থিতিও থাকে না। তাহলে এই ফেস্টের মাধ্যমে কি আমাদের বাংলা লেখাপত্র তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: আমি বলবো, এই ধরনের লিট ফেস্টে যেখানে বাংলা আছে, ইংরেজি আছে, বাঙালি আছে, ইংরেজিতে লেখা লোকজন আছে- আসলে এই ধরনের জায়গায় দুটো জিনিস হয়- বাঙালি যায় বিশ্বের কাছে, আর বিশ্ব আসে বাঙালির কাছে। এই দুটো প্রক্রিয়া কিন্তু যুগপথ ঘটতে থাকে।

সমকাল:
বাংলা লেখাপত্র তাহলে কিভাবে ওদের সঙ্গে কমিউনিকেট করবে বা করতে পারে এই ফেস্টের মাধ্যমে?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: আসলে এক্ষেত্রে সবসময় যেটা হয়, সমাজে যে অংশ ইংরেজিতে পারদর্শী তারা এক্ষেত্রে সাঁকো হিসেবে কাজ করে। বৃহত্তর বাঙালি গণসমাজ এবং এই আন্তর্জাতিক বৃত্তটার মাঝে যে শ্রেণীকে আপনি গালি দিতে পারেন আবার চাইলে তাদের একটি সংযোগকারী সাঁকো হিসেবে দেখতে পারেন। এটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। যে কারণে আমরা দেখতে পারছি, এখানে আগামী প্রকাশনীর পাশেই জামিল কমিক্সের স্টল। এই আগামী প্রকাশনী আর জামিল কমিক্সের কাছাকাছি থাকাটার মাধ্যমে কিন্তু এক ধরণের সংহতিও গড়ে উঠছে।

পরের
খবর

৭ দফার একটি না মানলেও বিজয় ঐক্যফ্রন্টেরই


আরও খবর

সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকারে কাদের সিদ্দিকী

৭ দফার একটি না মানলেও বিজয় ঐক্যফ্রন্টেরই

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  শাহেদ চৌধুরী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের স্পষ্ট উচ্চারণ- সংলাপ ব্যর্থ হবে না। তিনি গতকাল সোমবার সমকালকে দেওয়া তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সরকার সাত দফার একটি না মানলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় হবে।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশবাসীর  মতো তারও প্রত্যাশা- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শতভাগ অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। আর সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্যই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দেশে সুস্থিতি ও শান্তি চাই। সম্মানী লোকের সম্মান চাই। ছোটদের প্রতি মায়া চাই। মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। আমার ভোট আমি দিতে চাই। যাকে পছন্দ তাকে দিতে চাই। ভোটে আমার ইচ্ছার প্রতিফলন চাই।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগে যোগদানের জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাহলে কেন আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন না- এর জবাবে তিনি বলেন, এখন ওটা আর না বলাই ভালো। এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার ভাষায়, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ১৯টি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। তিনি কোনো গণক নন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এমনটা মনে করেন। তার মতে, রাজনীতিই এখন মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অবস্থাও ভালো নয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গত ১০ বছরে মানুষকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। ভোটারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সরকারের আচরণে কখনও বোঝা যায়নি। আসলে আজকের আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়। আজকের আওয়ামী লীগ মতিয়া চৌধুরী, হাসানুল হক ইনু ও শাজাহান খানের। এই শাজাহান খানের লোকেরা দেশের মুখে চুনকালি মেখেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংকট নিরসনে চলমান সংলাপ সফল হবে বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন কাদের সিদ্দিকী। তার ভাষায়, কখনই কোনো সংলাপ ব্যর্থ হয়নি। ইনশাআল্লাহ চলমান সংলাপও ব্যর্থ হবে না। একই সঙ্গে সরকার সাত দফার একটি না মানলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় হবে। তিনি বলেন, 'আমি রাস্তার মানুষ। তাই আমাদের সঙ্গে কথা হয় না। আলোচনার জন্য রাজধানীর মতিঝিলে রাস্তায় বসেছিলাম। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী আলোচনাকে মূল্যহীন মনে করেছিলেন।

অবশ্য রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই বলে মনে করছেন খ্যাতিমান এই মুক্তিযোদ্ধা। তার মূল্যায়ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনও সংলাপ করতে চাননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্ত তার শরীরে আছে বলেই তিনি এমন দুঃসাহসিক কাজ করতে পেরেছেন। শেখ হাসিনা না হয়ে অন্য কেউ হলে এই সংলাপের সাহস করতেন না। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চান কি-না, জানতে চাইলে সাবেক এই এমপি বলেছেন, তিনি রাজনীতি করেন। তাই সব রাজবন্দির মুক্তি চান।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, জনতার সফলতাকে কেউ ব্যর্থ করতে পারে না। সেই জনতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে থাকলে প্রধানমন্ত্রী হারবেন। আর সেই জনতাকে সঙ্গে রাখতে পারলে প্রধানমন্ত্রী জিতবেন। অবশ্য সেই জনতা এখন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে রয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি। তার সোজাসাপ্টা কথা, সুস্থ রাজনীতির পাশাপাশি দেশে শান্তি, সমৃদ্ধি, মানুষের সম্মান ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নিশ্চিত করতেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তোলা হয়েছে।