আন্তর্জাতিক

প্রত্যর্পণ বিলটি এখন 'মৃত': ক্যারি ল্যাম

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯

প্রত্যর্পণ বিলটি এখন 'মৃত': ক্যারি ল্যাম

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম

  অনলাইন ডেস্ক

গণবিক্ষোভের মুখে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলটিকে ‌'মৃত' বলে অভিহিত করেছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম। খবর বিবিসির।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই বিলটি নিয়ে সরকারের  কাজ করাটা ছিল 'সম্পূর্ণ ব্যর্থতা'। 

তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী এই বিলটিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করে তিনি কিছু বলেননি। 

সংবাদ সম্মেলনে ল্যাম বলেন, সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ এবং সরকার আইন পরিষদে প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করবে কি না, তা নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাই আমি এখানে আবারো বলছি, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। বিলটি মৃত।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, ২০২০ সালে বর্তমান আইন পরিষদের মেয়াদ শেষে বিলটি বাতিল হয়ে যাবে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের থেকে চীনের কাছে হংকংয়ের হস্তান্তরের পর থেকে বিতর্কিত এই বিলটিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখেছে এশিয়ার এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রটি। 

বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, বন্দি প্রত্যাবর্তনের এই আইন পাস হলে তা হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে৷

ব্যাপক গণআন্দোলনের মধ্যেই ক্যারি ল্যাম জানিয়েছিলেন, প্রত্যর্পণ বিলে কোনো কাটছাঁট করা হবে না। এরপর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে হংকং। বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

হংকং সরকার মধ্য জুনে প্রস্তাবিত বিলটি স্থগিত করার পরও প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলতে থাকে। 

১ জুলাইতে প্রতিবাদকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে হংকংয়ের পার্লামেন্ট অবরোধ করে রাখার এক পর্যায়ে পার্লামেন্টের কেন্দ্রীয় চেম্বারে ঢুকে পড়ে ভাংচুর চালায়। অনেক বিক্ষোভকারী ল্যামের পদত্যাগও দাবি করেন।

হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি৷ 

প্রসঙ্গত, গত বছরের এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত এই বিলটি তৈরি করা হয়৷ তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিয়োগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনো চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না৷

প্রস্তাবিত বিলে এরকম পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন অপরাধীকে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে৷ কিন্তু চীন এই আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের উপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি সেখানে এক রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে৷ ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারা ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ 

পাশাপাশি তাইওয়ান জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেননা পরবর্তীতে চীন এটিকে কাজে লাগাতে পারে৷ 

বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কোন বন্দিকে ফেরত পাঠানোকে নিরাপদ মনে করছেন না তাইওয়ান এবং হংকংয়ের সাধারণ মানুষ৷


মন্তব্য


অন্যান্য