আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে ঘণ্টায় একজনের আত্মহত্যা

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯

পাকিস্তানে ঘণ্টায় একজনের আত্মহত্যা

  অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানে প্রতিদিন প্রায় ১৫-৩৫ জন আত্মহত্যা করেন। সেই হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় একজনের বেশি স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব মতে, ২০১২ সালে প্রতি লাখে ৭ দশমিক ৫ জন আত্মহত্যা করেন। সেবছর প্রায় ১৩ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। ২০১৬ সালে এই হার কমে প্রতি লাখে ২ দশমিক ৯ জন আত্মহত্যা করেন। সেবছর প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে আত্মহত্যার হার কমেছে। কিন্তু তারা কেন আত্মহত্যা করছে তার কারণ অজানা।  

আত্মহত্যার কারণ জানতে ডন ডটকম ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনলাইনে একটি জরিপ চালায়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের আত্মহত্যা সম্পর্কে তারা কী ভাবছে বা যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, কেন করেছেন সে বিষয়ে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা জানানোর জন্য বলা হয়। 

এই জরিপে মোট ৫ হাজার ১৫৭ জন অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে পুরুষ শতকরা ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ, নারী ২৭ দশমিক ৩০ শতাংশ ও অন্যান্য দশমিক ২০ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৮-৪০ বছরের মধ্যে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগ পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচি তিনটি শহরের বাসিন্দা। 

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, শতকরা ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগতভাবে কোনো না কোনো আত্মহত্যাকারীকে চেনেন। 

আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এমন কাউকে চেনেন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪৩ শতাংশ।

অংশগ্রণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪৫ শতাংশ জানান, তারা আত্মহত্যা করবেন বলে ভেবেছেন। কিন্তু কখনও চেষ্টা করেননি। 

শতকরা ৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।  

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪৫ শতাংশ জানান, তাদের পরিচিতজনরা আত্মহত্যা করবে বলে তাদের জানিয়েছে। 

মানসিক অসুস্থতা, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বেশিরভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে বলে জরিপে উঠে এসছে। এছাড়া ডিভোর্স হওয়ার পর অনেকে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার কারণেও আত্মহত্যা করছেন। 

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মহত্যাকে ‘সব দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির পথ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আবার অনেকে বলছেন, আত্মহত্যা দুর্বলতার পরিচয়। 

জরিপে পাওয়া তথ্যমতে, সামাজিকভাবে কোনো সহায়তা না পাওয়া বা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণেই পাকিস্তানে প্রতিদিন কেউ না কেউ আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছেন। তারা অন্যের সঙ্গে তাদের হতাশা বা সমস্যাগুলো ভাগাভাগি করছেন না। কারণ তারা ভাবছেন, সহায়তার জন্য তারা কাউকে পাশে পাবেন না। 

আর এভাবেই দেশটিতে কেউ না কেউ স্বেচ্ছায় প্রতিদির মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিচ্ছেন। 


মন্তব্য


অন্যান্য