আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করা হচ্ছে না থাই রাজকুমারীর

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করা হচ্ছে না থাই রাজকুমারীর

রাজকুমারী উবোলরাতানা মাহিদল— রয়টার্স

  অনলাইন ডেস্ক

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে লড়তে একটি রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া হচ্ছে না রাজকুমারী উবোলরাতানা মাহিদলের।

রাজকুমারীকে মনোনয়ন দেওয়া 'থাই রাকসা চার্ট পার্টি'র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজার ইচ্ছানুযায়ী তারা রাজকুমারী উবোলরাতানা মাহিদলের মনোনয়ন বাতিল করবে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্ন তার বোন উবোলরাতানাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করার পর থাই রাকসা চার্ট পার্টির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো।

৬৭ বছর বয়সী উবোলরাতানা রাজাকানিয়া স্রিভাধনা বর্নাভাদি মাহিদল ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদেজের বড় সন্তান উবোলরাতানা ১৯৭২ সালে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের পর রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে তিন সন্তানের জননী উবোলরাতানা দেশে ফিরে রাজকীয় জীবনযাপন শুরু করেন।

আগামী ২৪ মার্চ দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। গত পাঁচ বছরের সেনাশাসনের পর এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রে ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যিনি সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসেন। সেনাপন্থি পালাং প্রচারাত পার্টির প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এই নির্বাচনে প্রায়ুথ চান-ওচার বিরুদ্ধে লড়তে প্রধানমন্ত্রী পদে রাজকুমারী উবোলরাতানাকে মনোনয়ন দেয় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা মিত্র রাজনৈতিক দল 'থাই রাকসা চার্ট পার্টি', যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা। কেননা থাইল্যান্ডের ঐতিহ্য অনুযায়ী, রাজপরিবারের সদস্যরা সব সময় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলেন।

থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্ন— এএফপি

রাজকুমারীকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্নের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া, যেখানে রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে রাজকুমারীকে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।

থাইল্যান্ডের সব টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, 'যদিও সে (উবোলরাতানা) লিখিতভাবে সব ধরনের রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করেছে, তবে তারপরও সে চাকরি সাম্রাজ্যের একজন সদস্যের মর্যাদা নিয়েই জীবনযাপন করছে।'

এতে আরও বলা হয়, 'রাজপরিবারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো সদস্যের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা, তা যেভাবেই হোক না কেন, সেটাকে থাই জাতির ঐতিহ্য, প্রথা ও সংস্কৃতির বিরোধিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, আর তাই এটাকে ভীষণভাবে অনুপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।'

সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, রাজপরিবারের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।

রাজার পক্ষ থেকে আসা এই বিবৃতির পর উবোলরাতানা মাহিদলকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেওয়া 'থাই রাকসা চার্ট পার্টি'র পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাজার ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং রাজা ও রাজপরিবারের অন্য সদস্যের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেই তারা রাজকীয় যেকোনো নির্দেশ পালন করবে।

আরও পডুন

মন্তব্য


অন্যান্য