আন্তর্জাতিক

আসামে শুক্রবারও বন্‌ধ, এনআরসিতে বাঙালিদের নাম বাদের অভিযোগ মমতার

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

আসামে শুক্রবারও বন্‌ধ, এনআরসিতে বাঙালিদের নাম বাদের অভিযোগ মমতার

  মিছিল খন্দকার

আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের বাঙালি, অসমীয়া-ভাষী হিন্দু এবং বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী অধ্যুষিত আসাম রাজ্য। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-২০১৬ প্রত্যাহারের দাবিতে রাজ্যটিতে কয়েকদিন ধরেই চলছে আন্দোলন। গত দু'দিন ধরে এ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে চলেছে বন্‌ধ। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ, বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

আগামীকাল শুক্রবার আসামে আবারও বন্‌ধ ডেকেছে নৃতাত্ত্বিক সংগঠনগুলোর যৌথ মঞ্চ। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে শরণার্থী হয়ে আসা অমুসলিমদের শর্ত সাপেক্ষে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর এটা নিয়ে বিরোধিতার কারণেই চলছে এই আন্দোলন। আসামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসও বয়কট করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলছে দিল্লি, বেঙ্গালুরুতেও।

এদিকে আসামে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) তৈরির বিষয়ে অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তালিকা থেকে ইচ্ছা করে বাঙালিদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এনআরসি ব্যবহার করে আসামে ‘বাঙালি হঠাও’য়ে নেমেছে সরকার।

গত মঙ্গলবার ভারতীয় লোকসভায় (দেশটির জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ) প্রবল বিরোধিতার মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। ক্ষমতাসীন বিজেপি বাদে প্রায় সব দলই বিলটির বিরোধিতা করে। এদিকে রাজ্যসভায় (সংসদের উচ্চকক্ষ) গতকাল বুধবার বিলটি পাস হওয়ার কথা ছিল। এজন্য সভার মেয়াদ এক দিন বাড়ানোও হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর বিলটি গৃহীত হয়নি।

রাজ্যসভায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সংখ্যালঘু। ২৪৫ সদস্যের রাজ্যসভায় বিজেপির নিজস্ব সদস্যের সংখ্যা ৭৩। তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএর সদস্য ৮৮ জন। আর কংগ্রেসের সদস্য ৫০। ইউপিএর সদস্যসংখ্যা ৫৭। এর সঙ্গে বিজেপিবিরোধী তৃণমূল, সিপিএম, আরজেডিসহ অন্যান্য দল মিলে বিরোধী শিবিরের সদস্যসংখ্যা ১৫৬ জন। 

আর এই সংখ্যাগরিষ্ঠ শরিকেরাই বিলটির বিরোধী। এ কারণে রাজ্যসভায় বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই বিজেপি সরকার চাইছে, ৩১ জানুয়ারি বাজেট শুরু হলে বিলটি পাসের উদ্যোগ নেবে তারা।

আর এর বিরোধিতায় আসাম থেকে শুরু করে গোটা উত্তর–পূর্বাঞ্চল উত্তাল। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন বিজেপির জোট শরিক অসম গণপরিষদের তিন মন্ত্রী। এরপর তারা সারা আসাম ছাত্র সংস্থা (আসু) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই আসু হলো আসাম আন্দোলনের মূল সংগঠন। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ সবাকেই রাজ্যছাড়া করার দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনটি।

আসামের মোট জনসংখ্যা তিন কোটি ২০ লাখ। এর এক তৃতীয়াংশ মুসলিম। এদের বেশিরভাগই তাদের অভিবাসী পূর্বপুরুষদের সূত্র ধরে ব্রিটিশ শাসনের সময় এখানে স্থায়ী হয়েছেন। এ রাজ্যের লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও নাগরিকত্বের বিষয়টি বহুদিন ধরেই তাদের জন্যে উদ্বেগের কারণ।

আসামের বাংলাভাষী মানুষদের তাড়ানো প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৭৯ সাল থেকে। ওই সময় ছয় বছর ধরে চলা এক আন্দোলনের পর ১৯৮৫ সালে প্রতিবাদকারী তরুণদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি চুক্তি হয়। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যারা কাগজপত্র ছাড়া আসামে প্রবেশ করেছে তাদের বিদেশি বলে বিবেচনা করা হবে। এরপর রাজ্যের অধিবাসীদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করতে বলা হয়। 

প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এনআরসি কার্যক্রমে তাদের তথ্য-প্রমাণ দাখিল করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বিতর্কিত চূড়ান্ত খসড়া এনআরসিতে রাজ্যের ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ অবৈধ বিদেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর আসামজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন তারা। এ আপিলের সর্বশেষ সময় ছিল গত ৩১ ডিসেম্বর। এখন তারা অপেক্ষায় রয়েছেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।  

এ অবস্থায় আসামে সচেতনভাবে নতুন নতুন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব পাওয়া দুই থেকে তিন লাখের বিরুদ্ধে অসমিয়ারা সরকারের কাছে আপিল করেছে। এ দুই থেকে তিন লাখ মানুষের পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ফলে, আসামে বর্তমানে পুরোনো ৪০ লাখ নাগরিকত্ব হারানো মানুষের সঙ্গে আরও ১০ লাখ যুক্ত হয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে। অর্থাৎ রাজ্যে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজনের নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন অপমানকর পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসে আসামে প্রায় ২০ জন বাংলাভাষী আত্মহত্যা করেছেন।

নাগরিকত্বহারা মানুষদের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ বাংলাভাষী হিন্দু এবং ৪০ ভাগ বাঙালি মুসলমান। এ অবস্থায় নাগরিকত্বহারা হিন্দুদের তারা নাগরিকত্ব দিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করতে চাইছে বিজেপি। আইনটি পাশ হলে, এনআরসি থেকে বাদ পড়লেও আসামের হিন্দুরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে নাগরিকত্ব হারানো মুসলমানেরা আবেদন করতে পারবেন না। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আজ বারাণসী ঘাটে থামবে প্রিয়াঙ্কার নৌযাত্রা


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

গঙ্গা নদীতে প্রিয়াঙ্কার ১৪০ কিলোমিটার নৌযাত্রা

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এক অভিনব প্রচার শুরু করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। গঙ্গা নদীতে সোমবার থেকে ১৪০ কিলোমিটার নৌযাত্রা শুরু করেন ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক। 

ভারতের প্রয়াগরাজ শহরের মানাইয়া ঘাট থেকে তিন দিনের এই নৌযাত্রা আজ বুধবার থামবে নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্র বারাণসীতে।

বারাণসী ঘাটে পৌঁছার আগেই মোদিকে কটাক্ষ করে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ৭০ বছর ধরে ভারতে কিছুই হয়নি বলে যে প্রচার, তার মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। আর এই পাঁচ বছরে কৃষক হোক কিংবা যুব সমাজ—মোদি সরকারকে নিয়ে খুশি নয় কেউই। এবার তারা সবাই মিলে সরকার পাল্টাবে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া নৌযাত্রায় একাধিক জায়গায় গিয়ে থামেন প্রিয়াঙ্কা। গঙ্গার ধারে বাস করেন এমন মানুষদের সঙ্গে কথা বলে লোকসভা নির্বাচনে সমর্থন চান তিনি।

নৌপথে প্রিয়াঙ্কার যাত্রা শুরুর পর তার নৌকা যত এগোতে থাকে, ততই নদীর ধারে মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। ভিড়ের মধ্যেই নৌকা থামিয়ে গঙ্গার আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রিয়াঙ্কা। জানতে চান, তারা কেমন আছেন। যাত্রা শুরুর পর একে একে দমদমা ঘাট, সিরসা ঘাট, লক্ষ্মগ্রহ ঘাট এবং ভদোহী ঘাটে থামেন তিনি।

নদীর তীরের এলাকাগুলোতে রাজীব কন্যার অভিনব এই প্রচার ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ভারতে। তবে অনেকে আবার কটাক্ষ করেছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতী বলেন, এতো দিন গঙ্গা, রাম, হনুমান কিংবা গরিবের কথা ওদের মনে ছিল না। আমরাই এ নিয়ে বলতাম। তবে প্রিয়াঙ্কা এখন গরীবদের নিয়েও কথা বলছেন। এর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। গরীবদের নিয়ে উনি মোটেই চিন্তিত নন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন শুরু


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

ছবি: রয়টার্স

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের দাফন শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দাফন শুরু হয়।

আজ প্রথম দিনে সিরিয়া থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়া এক বাবা ও তার সন্তানকে দাফন করা হয়েছে। গত বছর শান্তিতে বসবাসের জন্য নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন খালেদ মোস্তফা (৪৪) ও তার ছেলে হামজা (১৬)। খবর বিবিসির

ক্রাইস্টচার্চে লিনউন্ড ইসলামিক সেন্টারের পাশে সমাধিস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

নিহত ৫০ জনের মধ্যে এখনও সবার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়নি। আজই হস্তান্তর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।  

বৃহস্পতিবার আরও কয়েকজনকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। লাশ শনাক্তকরণে দেরি হওয়ায় দাফন প্রক্রিয়াও দেরি হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

লাইভ ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪ হাজার বার: ফেসবুক


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

ক্রাইস্টচার্চে হামলা

লাইভ ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪ হাজার বার: ফেসবুক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা- বিবিসি

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে গুলি করে মানুষ হত্যার সময় হামলাকারী সেই দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে। ওই লাইভ ভিডিও মুছে ফেলার আগেই ৪ হাজার বার দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী ব্রান্টন ট্যারেন্ট অস্ট্রেলিয় নাগরিক। নিজেকে শ্বেত শ্রেষ্টত্ববাদী হিসেবে অভিহিত করেন ২৮ বছরের ব্রান্টন। মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ জন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাকে।

ফেসবকু বলছে, ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিওটি ছিল ১৭ মিনিটের। হামলাকারী ফেসবুক যখন সেটি লাইভ করেন তথন প্রায় ২০০ জন সেটি দেখছিলেন। এর মধ্যে একজন ভিডিওটি শেষ হওয়ার ১২ মিনিটের মাথায় এ নিয়ে রিপোর্ট করেন। হামলার মূল ভিডিওটি মুছে ফেলার আগে সেটি দেখ হয় ৪ হাজার বার।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে খবরটি পৌঁছার আগেই অবশ্য ভিডিওটি কপি করেন কেউকেউ। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুতই বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি মুছতে শুরু করে ফেসবুক।

বিবিসি জানায়, মাত্র ১২ ঘন্টায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ওই লাইভ ভিডিওটির ১২ লাখ কপি ব্লক এবং তিন লাখ কপি মুছে দেয়। ভিডিওটি নিয়ে নিউজিল্যান্ড পুলিশের সঙ্গে ফেসবুক কাজ করছে বলে জানা গেছে। 

ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস সোন্দ্রেবাই বলেন, ফেসবুকে কোথাও ভিডিওটি রয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে কাজ করে যাচ্ছি। 

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বেলা দেড়টার দিকে এক স্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হামলায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সংশ্লিষ্ট খবর