আন্তর্জাতিক

প্রথমবারের মতো মৃত নারীর জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রথমবারের মতো মৃত নারীর জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম

  অনলাইন ডেস্ক

একজন মৃত নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর সেখানে সফলভাবে একটি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়েছে। এর আগে জীবিত নারীদের দান করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর শিশুর জন্ম হলেও, মৃত নারীর জরায়ু ব্যবহার করে শিশু জন্মের ঘটনা এই প্রথম।

এই সফলতা বন্ধ্যা নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বলছেন চিকিৎসকরা।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১০ ঘণ্টার অপারেশনের পর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ২০১৬ সালে ওই জরায়ুটি প্রতিস্থাপিত হয়। যার শরীরে সেটি স্থাপন করা হয়েছিল, তার শরীরে জন্ম থেকেই জরায়ু ছিল না।

এ পর্যন্ত জীবিত নারীদের শরীর থেকে ৩৯টি জরায়ু প্রতিস্থাপনের খবর পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মা তাদের কন্যাকে জরায়ু দান করেছেন। এরকম প্রতিস্থাপনের পর ১১টি শিশুর জন্ম হয়েছে।

তবে কোন মৃত নারীর শরীর থেকে নেয়া জরায়ুতে বাচ্চা জন্মের ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে যতোবার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটি ব্যর্থ অথবা গর্ভপাত হয়ে গেছে।

যার জরায়ু, তিনি ছিলেন মধ্য চল্লিশের একজন নারী, যিনি মস্তিষ্কে রক্তপাতে মারা যান। তার তিনটি সন্তান রয়েছে।

যে নারীর শরীরে জরায়ুটি স্থাপন করা হয়, তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, যেখানে যৌনাঙ্গ এবং গর্ভাশয় ঠিকভাবে কাজ করে না। তবে তার ডিম্বাশয় ঠিকঠাক ছিল।

চিকিৎসকরা সেখান থেকে ডিম্বাণু নিয়ে সম্ভাব্য পিতার ভ্রূণের সঙ্গে নিষিক্ত করে এবং সেটি হিমায়িত করে রাখে।

সেই নারীকে এমন ওষুধ দেওয়া হয় যা তার শরীরের রোগ ক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলে, যাতে জরায়ু প্রতিস্থাপনে কোন বাধা তৈরি না হয়। এর দেড় মাস পর থেকে তার মাসিক হতে শুরু করে।

সাত মাস পর নিষিক্ত ডিম্বাণুটি তার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক গর্ভধারণের পর সিজারিয়ান অপারেশনের পর তিনি আড়াই কেজি ওজনের একটি শিশুর মা হন।

ড. ডানি ইযেনবার্গ বলেন, জীবিত নারীদের শরীর থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপন ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি যুগান্তকারী ব্যাপার, যার ফলে অনেক নারী মা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু জীবিত দাতাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, এরকম দাতা দুর্লভ।

তিনি আরও বলেন, মৃত শরীর থেকে জরায়ু সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করতে পারাটা অত্যন্ত চমৎকার ব্যাপার। কিন্তু এই সফলতা আরো অনেক বেশি দাতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, খরচ কমাবে এবং জীবিত দাতাদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি হ্রাস করবে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

যাত্রীদের নিরাপদে নিয়ে পানিতেও চলে যে বাস


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

  অনলাইন ডেস্ক

সাধারণত শুকনো রাস্তায় চলে বাস। একটু পানি হলেই থেমে যায় এ যানবাহনের গতি। যদি এমন হয় যে বাস পানিতেও চলে আবার শুকনো রাস্তাতেও চলে। শুনতে অবাক লাগলেও এমন বাসও চলে বিশ্বের শহরে। 

এমনই বাস চালু হয়েছে জার্মানির হামবুর্গ শহরে। এলবে নদীর ধারেই এই শহর। শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই রিভারবাস। বাসটির ভাবনা প্রথম মাথায় আসে ফ্রেড ফ্রাঙ্কেন নামে এক ব্যক্তির। তিনিই চার বছর আগে এটি প্রথম চালু করেন।

মেরিটাইম ওয়ার্কার ফ্রেড বলেন, সিঙ্গাপুরে এমন একটি বিষয় নজরে এসেছিল তার। তারপর এই ভাবনা। হাঙ্গেরির একটি সংস্থার সহায়তায় তৈরি হয়েছে এই রিভারবাস।

প্রথম দু’মাসেই ৬৫০০ জন যাত্রী উঠেছিল বাসটিতে। বিপুল সাড়া মেলে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে। তিনি বলেন, এই হামবুর্গ শহরের মতো আরও সাতটি নদী তীরবর্তী শহরেও এই রিভারবাস চালু করার আবেদন এসেছে।

এই বাসের চালকের আসনের পাশে লাইফ জ্যাকেট, জয়স্টিক, রেডিও ইক্যুয়িপমেন্টসও রয়েছে। ২৮০ হর্সপাওয়ারের ছয় সিলিন্ডার ইঞ্জিনের বাসটির প্রযুক্তি অনেকটাই জাহাজ ভাসার প্রযুক্তির মতোই।

এই বাসের আসন কিন্তু একেবারেই আর পাঁচটা সাধারণ বাসের মতো। যাত্রা শুরু হলে প্রথমেই শহরটি ঘুরে দেখতে পারেন যাত্রীরা। তারপর কিছুক্ষণের বিরতি দেওয়া হয়। যাত্রীদের বলা হয়, আপনারা ছবি তুলতে পারেন বাস থেকে নেমে।

এই বাসের আসন কিন্তু একেবারেই আর পাঁচটা সাধারণ বাসের মতো। যাত্রা শুরু হলে প্রথমেই শহরটি ঘুরে দেখতে পারেন যাত্রীরা। তারপর কিছুক্ষণের বিরতি দেওয়া হয়। যাত্রীদের বলা হয়, আপনারা ছবি তুলতে পারেন বাস থেকে নেমে। 

এই বিরতিতে বাসটা নদীতে ভেসে বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত কি না, তা দেখা হয়। তারপরই বাসটি এলবে নদীর মধ্যে ভেসে বেড়ায় একটা স্টিমার বোটের মতোই। সবমিলিয়ে ৮০ মিনিটের মতো চড়া যায় এই বাসে।

৬৫ কি.মি প্রতি ঘণ্টা বেগে চলে এই বাসটি। ৩৬ আসনের এই বাসের ভাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দুই হাজার চারশ আট টাকা আর ৫-১৪ বছরের শিশুদের জন্য ভাড়া প্রায় ১, ৬৭৩ টাকা। সূত্র: আনন্দবাজার। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আস্থা ভোটে জিতলেন থেরেসা মে


আরও খবর

আন্তর্জাতিক
আস্থা ভোটে জিতলেন থেরেসা মে

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

  অনলাইন ডেস্ক

নেতৃত্ব নিয়ে শঙ্কার কারণে আস্থা ভোটের ডাক দিয়েছিল তার নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টি। সেই আস্থা ভোটে জয়লাভ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। খবর বিবিসির

বুধবার ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সে থেরেসা মে'র পক্ষে ভোট দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির ২০০ জন সংসদ সদস্য। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১১৭টি জন। 

আস্থা ভোটে জয় পাওয়ায় আগামী এক বছর দলের নেতৃত্বে আর কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে না থেরেসা'কে। অন্তত আরও এক বছরের জন্য কনজারভেটিভ পার্টির সংসদীয় প্রধানের পদ নিশ্চিত থাকলো তার।  

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইইউর সঙ্গে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন নিয়েও বেশ চাপে আছেন তিনি। ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার পর যে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা তিনি গেলাতে চাইছেন, তা দলের ভেতরেই তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরের
খবর

শাশুড়ি দিলেন ৪৫২ কোটি রুপির বাংলো


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

ঈশা আম্বানি- ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

এখন সবার নজর ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি কন্যা ঈশা আম্বানির বিয়ের দিকে। সপ্তাহখানেক হই-হুল্লোড়ের পর বুধবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ঈশা আম্বানি ও আনন্দ পিরামল। 

ইতিমধ্যে বলি ও হলি তারকাদের উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে এই বিয়েকে। তাই বিয়ের আদ্যপান্ত জানতে সবাই মুখিয়ে।

জি-নিউজ জানায়, বিয়ের আগে শাশুড়ির কাছ থেকে ঈশা আম্বানি পেলেন একটি দৃষ্টিনন্দন বাংলো। শাশুড়ির দেওয়া ওই বাংলোর দাম ৪৫২ কোটি রুপি। ৫ তলা বাংলোর মাপ ৫০ হাজার বর্গফুট। বাংলোটি তৈরিতে কাজ করে দেড় হাজার শ্রমিক।

বাড়ির ভেতরের মেঝেয় বসানো হয়েছে সাদা মার্বেল। 

ঈশা আম্বানির কাছে যদিও বিলাসবহুল বাড়ি নতুন কিছু নয়। ভারতের মুম্বাইয়ে মুকেশ আম্বানির বাড়ি অ্যান্টিলিয়া দেশে তো বটেই বিদেশেও আলোচনার বিষয়। তবে ঈশার নতুন ঠিকানাও কম সুন্দর নয়! 

এই সেই বাংলো 

বাংলোটি ছিল ইউনিভার মালিকানাধীন। ২০১২ সালে সেটি কেনে পিরামল গোষ্ঠী। সেই বাংলোটিই সংস্কার করে চকচকে করে তোলা হয়েছে। বিয়ের পর এই বাড়িতেই থাকবেন আনন্দ ও ঈশা। 

সংশ্লিষ্ট খবর