আন্তর্জাতিক

সচিবালয়ে চিতাবাঘ!

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮

সচিবালয়ে চিতাবাঘ!

  অনলাইন ডেস্ক

প্রশাসনিক সদর দফতর সচিবালয়ে মন্ত্রী-আমলাদের উপস্থিতি থাকার কারণে সেখানে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা। সেই চৌকস নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সোমবার সচিবালয়ে ঢুকে পড়ে আস্ত চিতাবাঘ। বাঘ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো সচিবালয় এলাকায়।

এ ঘটনা ভারতের গান্ধীনগরে গুজরাট সরকারের সচিবালয়ে। সোমবার ভোরে সচিবালয়ে ঢুকে পড়ে একটি চিতাবাঘ। প্রথম দেখতে পান পুলিশের এক কনস্টেবল। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, বন্ধ দরজার তলা দিয়ে গলে সচিবালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকছে চিতাবাঘ। 

সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেই ভিডিও দেখে আঁতকে ওঠেন অনেক মন্ত্রী-আমলারাও। চিতার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন বন অধিদফতরের কর্মীরা। গোটা এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা। কোনও কর্মী বা নেতা-মন্ত্রীদের কাউকেই ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সোমবার ভোরে আচমকাই সিসিটিভির পর্দায় চোখ রেখে চমকে ওঠেন এক নিরাপত্তাকর্মী। সচিবালয় চত্বরের ভিতরেই যে অবলীলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এক শ্বাপদ। কখনও লনে দুলকি চালে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তো কখনও গ্রিলের ব্যারিকেডের নিচের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ছে অন্য দিকে। সঙ্গে সঙ্গে ওই নিরাপত্তা কর্মী বাকিদের ডেকে নেন। তারা সবাই ঘরে ঢুকে পড়ে বন অধিদফতরে খবর পাঠান।

খবর পেয়ে বন অধিদফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে চিতাবাঘটি গা ঢাকা দিয়েছে। বন অধিদফতরের কর্মীরা গোটা বিধানসভা চত্বরে কার্যত চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন বাঘটি ধরতে। আনাচে-কানাচে চিতা বাঘের খোঁজ চালাচ্ছেন। তবে পায়ের ছাপ দেখে বা অন্য কোনও সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি, চিতাবাঘটি জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে, নাকি এখনও সচিবালয় চত্বরেই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। 

সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে বন অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভবত খাবারের টানেই লোকালয়ে চলে আসে চিতাবাঘটি।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে চিতাবাঘ ঢুকে পড়ায় ঘুম ছুটে যায় পুলিশ কর্মকর্তাদেরও। তারা গিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন অধিদফতর গোটা বিধানসভা চত্বর নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সূত্র: আনন্দবাজার।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিজেপিতে বড় ধাক্কা...


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন

বিজেপিতে বড় ধাক্কা...

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

চার বছর ধরে ক্রমাগত সাফল্যের পরে বড়সড় একটা ধাক্কার মুখে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এবার চরম বিপর্যয় ঘটেছে।

মঙ্গলবার নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়-এই তিন রাজ্যই বিজেপিকে ছাড়তে হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। এই রাজ্যগুলোয় সরকার গঠনের পথে হাঁটছে কংগ্রেস। আর তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে একাধিপত্য দেখাচ্ছে স্থানীয় দুটি দল।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ২০১৪ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের কোনও প্রান্তে বিজেপি এত বড় ধাক্কা খায়নি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ধাক্কাটা এল হিন্দি বলয়ের সুবিশাল গেরুয়া দুর্গ থেকেই। মোদির শিবিরে অতএব বিষণ্ণতার ছায়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাস বাড়ল রাহুল বলয়ে।

পাঁচ রাজ্যের এই বিধানসভা নির্বাচন ছিল ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় ভোটযুদ্ধ। ‘দিল্লি দখলের সেমিফাইনাল’ হিসেবেই এই লড়াইকে ব্যাখ্যা করছিল রাজনৈতিক শিবির। সেই সেমিফাইনালের সামগ্রিক ফল যে কংগ্রেসের দিকে অনেকখানি ঝুঁকে পড়ল, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

সবচেয়ে চমকে দেওয়া ফলাফল ছত্তীসগঢ়ে। বিজেপি সে রাজ্যে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল ঠিকই, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহের বিরুদ্ধে ক্ষমতা বিরোধিতার হাওয়া প্রবল ছিল-এমন কথা প্রায় কোনও শিবিরই খুব জোর দিয়ে বলতে পারেনি। ভোটের আগে হওয়া অধিকাংশ জনমত সমীক্ষা এবং ভোটের দিন হওয়া অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছিল, চতুর্থ বারের জন্য রমন সিংহের নেতৃত্বে ছত্তীসগঢ়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তবে আসন কমতে পারে।

কিন্তু ছত্তীসগঢ়ে ভোটযন্ত্র খুলতেই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের আঁচ মেলা শুরু হয়। বিজেপির পরাজয় শুধু নয়, শোচনীয় পরাজয়ের ইঙ্গিত মেলা শুরু হয়।

৯০ আসনের বিধানসভায় ৬০-এর বেশি আসন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে কংগ্রেস। অর্থাৎ মধ্য ভারতের জনজাতি প্রধান রাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রাহুল গান্ধীর দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর দল জেসিসি এবং মায়াবতীর বিএসপির সম্মিলিত আসনসংখ্যা পৌঁছাতে চলেছে ১০-এর কাছাকাছি।

ফলাফল বোঝাল, হাওয়া কিছুটা হলেও ঘুরিয়েছে বিজেপি। বসুন্ধরা রাজের সরকারের বিরুদ্ধে যে বিপুল ক্ষোভের ইঙ্গিত ছিল, ফলাফলে তার সম্পূর্ণ প্রতিফলন নেই। নিঃসন্দেহে নিজেদের আসনসংখ্যা অনেকটা বাড়িয়ে নিয়েছে কংগ্রেস। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাতেও পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু রাজস্থানে বিজেপি যতগুলো আসন পেয়েছে, ততটাও অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল না।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের আভাস অবশ্য দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের রণাঙ্গন। মধ্যপ্রদেশে লড়াইটা যে এ বার কাঁটায় কাঁটায়, তা সব পক্ষই মানছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মধ্যপ্রদেশে ভোটগণনার প্রবণতা যে দিকে এগিয়েছে, তাতে আক্ষরিক অর্থেই কাঁটায় কাঁটায় লড়াই দেখা গিয়েছে।

একনাগাড়ে ১০৬ থেকে ১১৬-র মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে বিজেপি এবং কংগ্রেসের আসনসংখ্যা। কখনও বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে, ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছে। আবার কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যবধান কমাতে কমাতে বিজেপি-কে পিছনে ফেলে দিয়েছে কংগ্রেস। ভোট গণনার পশেষ লগ্ন পর্যন্ত সেই প্রবণতাই বহাল থেকেছে। তবে দুই দলই ১১৬-র নীচে থেমে যেতে পারে- এমন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ছোট দলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সরকার গঠনের খেলায়।

মায়াবতীর বিএসপি এবার মধ্যপ্রদেশে ৫টি থেকে ৭টি আসন পেতে পারে। গণনার গতিপ্রকৃতি তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। উচ্চবর্ণ, অনগ্রসর শ্রেণি ও সংখ্যালঘুদের দাবি-দাওয়া আদায়ের কথা বলে তৈরি হওয়া দল সপাক্স পার্টিও এগিয়ে রয়েছে অন্তত ৩টি আসনে।

এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া একমাত্র দক্ষিণী রাজ্য তেলঙ্গানায় ত্রিশঙ্কু বিধানসভার ইঙ্গিত দিয়েছিল বেশ কিছু সমীক্ষা। কিন্তু সব আভাস উড়িয়ে দিয়ে শাসক দল তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ধরে রাখছে।

গতবার অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রস্তাবিত তেলঙ্গানা অঞ্চলের ১১৯টি আসনের মধ্যে ৬৩টি জিতেছিল টিআরএস। পরে অন্যান্য দল ভেঙে বেশ কিছু বিধায়ক টিআরএস-এ যোগ দেন, ফলে তেলঙ্গানার শাসক দলের আসন সংখ্যা বেড়ে ৯০-তে পৌঁছায়।

এবার টিআরএস-এর টিকিটেই জয়ী হতে চলেছেন প্রায় সমসংখ্যক বিধায়ক। তেলুগু দেশম পার্টিকে সঙ্গে নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থা যথেষ্ট বেহাল কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দুর্গে।

হিন্দি বলয়ের কংগ্রেস শিবিরে যে উৎসবের মেজাজ, তা কিন্তু ধাক্কা খেয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতেও। উত্তর-পূর্বে কংগ্রেসের শেষ দুর্গ মিজোরাম হাতছাড়া হয়ে গেছে। গত দশ বছরের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দু’টিতেই তিনি পরাজয়ের মুখে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘নেডা’ জোটের শরিক দল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এনএনএফ) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করার পথে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'যৌন নির্যাতিতা মৃত হলেও গণমাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ নয়'


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

প্রতীকী ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

যৌন নির্যাতনের শিকার যেকোনও নারীর পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট।

ওই নারী মৃত হলেও তার নাম বা পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনাসহ আদালত মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইনজীবী নিপুন স্যাক্সেনার করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মদন বি লকুর, এস আব্দুল নাজির এংব দীপক গুপ্তর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

২০১২ সালে দিল্লিতে আলোচিত গণধর্ষণের এক মামলার বিষয়ে ওই আবেদন করেছিলেন স্যাক্সেনা।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গণমাধ্যম, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান নির্যাতিতের পরিচয় প্রকাশ না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা কোনও জনসমাবেশেও ওই ব্যক্তির নাম পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।

বাবা-মায়ের সম্মতি থাকলেও পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের শিকার নারীর পরিচয় প্রকাশ করতে পারবে না বলে সুপ্রিমকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

থাইল্যান্ডে 'প্রতীক্ষার' ভোট ২৪ ফেব্রুয়ারি


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে বিক্ষুব্ধরা- বিবিসি

  অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার।

মঙ্গলবার ওই তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি এ উপলক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণার  অনুমিতও দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে প্রায় চার বছর আগে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকারের নেতৃত্বে আসা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিবিসি বলছে, সবসময়ই গণতন্ত্রের কথা বলে আসছে সামরিক সরকার। এর মধ্যে কয়েক দফা নির্বাচনে তারিখ নির্ধারিত হওয়ার কথাও ছিল; তবে শেষ পর্যন্ত আর তা হয়ে উঠেনি।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচুত্যত করে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে সামরিক বাহিনী। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা দায়িত্বে আসেন বলে তখন জানিয়েছিলেন সেনাপ্রধান।

এরপর ২০১৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে নতুন একটি সংবিধান প্রণয়ন করে সেনাবাহিনী। পুরোনো সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধানে ভোটের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনে তারা।

ওই সংবিধান অুনযায়ী, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা গেলেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে সেনাবহিনী। সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর দেশটির অসংখ্য রাজনীতিবিদ আটক হয়েছেন। বন্ধ রয়েছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও।