আন্তর্জাতিক

বাইরে রক্তগঙ্গা, ভেতরে দূতাবাস উদ্বোধন

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৮

বাইরে রক্তগঙ্গা, ভেতরে দূতাবাস উদ্বোধন

  অনলাইন ডেস্ক

একদিকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন হচ্ছিল। অন্যদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে মহামিছিলে অংশ নিয়ে হাজারো ফিলিস্তিনি গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের সুরক্ষিত সীমান্তবেড়া অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত করা এলাকায় প্রত্যাবর্তনে হামাসের নেতৃত্বে ওই মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল।  

এভাবে সোমবার একদিকে যখন মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন হচ্ছিল, অন্যদিকে তখন ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ মিছিলে স্নাইপার দিয়ে গুলি চালাচ্ছিল ইসরায়েলি সৈন্যরা। ইসরায়েলের এ হামলায় অন্তত ৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। ইসরায়েলের এ হামলায় আহত হয়েছে ২ হাজার ৭০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর এক দিনে এত বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। হতাহত ব্যক্তিদের স্মরণে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

মিসর অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে হত্যা করছে। তুরস্কও এই ঘটনাকে হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জেইদ বিন রাদ জেইদ আল হুসেইন বলেছেন, এমন জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

এদিকে ঘটনার পরপরই জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় যা ঘটছে তাকে বর্বরোচিত আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমে দু'লাখ ইহুদির জন্যে বসতি গড়ে তুলেছে দেশটি। অবশ্য আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ।

এক সময় জেরুজালেমে বহু দেশের দূতাবাস ছিলো। কিন্তু ১৯৮০ সালে ইসরায়েল জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করার পর দেশগুলো সেখান থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নেয়। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের ঘোষণার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প, জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা। নেতানিয়াহু এটিকে ইসরায়েলের জন্য একটি 'গৌরবময়' দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, জেরুজালেমই যে ইসরায়েলের রাজধানী এটি স্বীকার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে ব্যর্থতা দেখা গেছে। তবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্য শান্তির ব্যাপারে অনেক তিনি আশাবাদী। সূত্র: বিবিসি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নিজের রক্ত দিয়ে তৈরি ময়েশ্চারাইজার মাখেন ভিক্টোরিয়া!


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

ভিক্টোরিয়া বেকহাম— ফাইল ছবি/রেক্স

  অনলাইন ডেস্ক

গত শতকের নব্বইয়ের দশকে মেয়েদের ব্যান্ডদল 'স্পাইস গার্লস'-এর সদস্য হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে ফ্যাশন ডিজাইনার ও ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত তিনি। তার আরেকটি পরিচয়— তিনি ইংল্যা্ংন্ডের সাবেক ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহামের স্ত্রী।

হ্যাঁ, কথা হচ্ছে ভিক্টোরিয়া বেকহামকে নিয়েই। এই ৪৪ বছর বয়সেও যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ বিশ্ব। কিন্তু এই বয়সেও এমন সৌন্দর্যের রহস্য কী? সম্প্রতি সেই কথা জানিয়েছেন ভিক্টোরিয়া নিজেই জানিয়েছেন।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ভিক্টোরিয়া তার ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য যে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন তার ছবি দিয়েছেন। আর এই ময়েশ্চারাইজার কী দিয়ে তৈরি জানিয়েছেন সেই কথাও।

তিনি জানিয়েছেন, তার রক্ত থেকেই তৈরি করা হয়েছে এই ময়েশ্চারাইজার। আর এই কাজটি করেছেন তার চিকিৎক বারবারা স্ট্রাম।

ইনস্টাগ্রামে ভিক্টোরিয়া তার জন্য তৈরি করা ময়েশ্চারাইজারের ছবি পোস্ট করেছেন

বেকহামপত্নী বলেছেন, ড. বারবারার তৈরি করা বিশেষ এই ময়েশ্চারাইজার তার ত্বকের জ্বালা রোধ করে ও ত্বকে কোষের পুনরুৎপাদনে সহায়তা করে।

এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করায় তার ত্বক আগের তুলনায় অনেক নরম ও পরিষ্কার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ভিক্টোরিয়া।

তিনি আরও জানান, বিশেষ এই ময়েশ্চারাইজার তৈরিতে মোট খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ পাউন্ড। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়া বেকহামের জন্য তৈরি করা বিশেষ ময়েশ্চারাইজারের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সূত্র: এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খেতেই থাকবো'


আরও খবর

আন্তর্জাতিক

  অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা কেসি কিংয়ের বয়স ৩৪ বছর। ওজন ৭০০ পাউণ্ড বা ৩১৭ কেজি। তারপরও ওজন কমানোর এতটুকু আগ্রহ নেই। বরং মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত খাওয়ার ইচ্ছাই জানালেন তিনি।

জর্জিয়ার বাসিন্দা কেসি সিংয়ের ঘুম ভাঙে বেলা ১২টায়। এর কিছুক্ষণ পরেই তার ক্ষিদে পায়। খাবার খেয়েই তিনি বিছানায় শুয়ে হয় টেলিভিশন দেখেন না হয় ভিডিও গেম খেলেন। এরপর আবার খাওয়া এবং ঘুম। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার জীবন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল টিএলসির এক রিয়েলেটি শোতে কেসি সিং জানান, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি খেতেই থাকবেন।

জানা গেছে, কেসি যখন বিছানায় শুয়ে ভিডিও গেম খেলেন তখন কোনো পোশাকও পরেন না। এ ব্যাপারে কেসি বলেন, ‘জর্জিয়ায় অনেক গরম। আমার পোশাকগুলোও অনেক আটসাট হয়। তাই আমি কাপড়চোপড় না পরেই বাড়িতে থাকি। আর এভাবে থাকলেই আরামবোধ হয়।’

জানা গেছে, গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর কেসি কয়েকটা রেস্টুরেন্টে কাজ করেছিলেন। কিন্তু এক সময় ফাস্ট ফুড খেতে খেতে তার ওজন এতটাই বেড়ে যায় যে তার পক্ষে পরিশ্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাও বিরক্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

কেসি তখন বাবার সঙ্গে তার বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। আর তার দিন কাটতে থাকে ফাস্ট ফুড খেয়ে এবং ভিডিও গেম খেলে। প্রতিদিন তার খাদ্য তালিকায় পিৎজা, চিকেন, জাপানি খাবার, বার্গার– এসবই বেশি থাকে। এমন খাবার খেতে পেরে কেসি বেশ খুশিও।

কেসি বলেন, ‘কাজ ছাড়ার পর ভার্চুয়াল জগতেই আমি আরামবোধ করি। এখানে কেউ আমাকে দেখছে না। কেউ আমার ওজন নিয়ে কথা বলে না। এটাই আমার কাছে বাইরের পৃথিবী।’

জানা গেছে, কেসির চাচাতো ভাইবোনেরাও অতিরিক্ত স্থূলতায় ভূগছেন। সূত্র: মিরর

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এই ছিল খনি শ্রমিকের কপালে!


আরও খবর

আন্তর্জাতিক
এই ছিল খনি শ্রমিকের কপালে!

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

প্রতীকী ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে কয়লা খনিতে আটকা পড়া এক শ্রমিকের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নৌবহিনীর ডুবুরিরা ওই মরদেহ শনাক্তের পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১৪ শ্রমিকের সঙ্গে গত রোববার এ অবৈধ খনিতে আটকা পড়েন এই শ্রমিকও। খনির খুব গভীরে এক পর্যায়ে পাশ্ববর্তী নদী থেকে পানি প্রবাহ শুরু হতে থাকে। এতেই ঘটে বিপত্তি।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, পানির নিচে ব্যবহার করা যায় এমন একটি যন্ত্র প্রথমে ১৬০ ফুট নিচে থাকা শ্রমিকের মরদেহ শনাক্ত করে। এখন চিকিৎসকের পরামর্শে তা সঠিক প্রক্রিয়া মেনে ওপরে উঠিয়ে আনা হবে।

এক শ্রমিকের মরদেহ শনাক্ত হলেও অন্য শ্রমিকদের কপালে আসলে কি ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে বিবিসি বলছে।

দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ২০০ উদ্ধারকারী কর্মী তৎপরতা শুরু করেন। খনি খুড়ে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি হেলমেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অন্যদের খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ধরনের খনিতে যেসব শ্রমিক কাজ করেন; তাদের অধিকাংশই পাশ্ববর্তী রাজ্য থেকে অর্থাভাবে এসে জড়ো হন। এদের বেশিরভাগের জন্যই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

সংশ্লিষ্ট খবর