শিল্প-বাণিজ্য

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনতে উপচেপড়া ভিড়

প্রকাশ : ১৫ আগষ্ট ২০১৯

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনতে উপচেপড়া ভিড়

  অনলাইন ডেস্ক

ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির গোশত সংরক্ষণের জন্য ক্রেতারা ছুটেছেন ফ্রিজের শো-রুমে। সেরা দামে সেরা মানের ফ্রিজ কিনতে ওয়ালটনের শো-রুমগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। গত কয়েকদিনে ওয়ালটনের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে চলেছে ব্যাপক বিক্রি। 

ওয়ালটন ফ্রিজ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ জানান, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে উল্লেখযোগ্য বিক্রি হয়েছে।  ঈদে ফ্রিজ বিক্রির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেছে। গত কোরবানি ঈদের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি হয়েছে। বার্ষিক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রাও ৮০ শতাংশ পূরণ হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, এবার ঈদে ফ্রিজ বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ওয়ালটনের। 

রাজধানীসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বাগেরহাট, বগুড়া, সিলেট, ফেনী, নরসিংদীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নিয়োজিত ওয়ালটনের প্লাজা ম্যানেজার, পরিবেশক ও অঞ্চল প্রধানরা জানান, ঈদের আগে ফ্রিজ বিক্রির উৎসব চলেছে। তাদের মতে, ঈদে সারাদেশে ফ্রিজের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ওয়ালটন পূরণ করেছে।

বিক্রির এই সাফল্যের পেছনে তারা যুক্তি দেখান- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ উৎপাদন, দামে সাশ্রয়ী, গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড, অসংখ্য যুগোপযোগী বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও মডেল, সহজ কিস্তি সুবিধা, ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির পাশাপাশি কম্প্রেসারে ১২ বছরের গ্যারান্টি সুবিধা এবং সর্বোপরি বিশাল সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক থাকায় ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের প্রতিই আস্থা রাখছেন গ্রাহকরা।

ঈদ উপলক্ষে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার বা লাখপতি হওয়ার সুযোগসহ নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার অথবা হাজার হাজার পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগ থাকায় ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে আশাতীত। ইতোমধ্যে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার ও লাখপতি হয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা।

ফেনীর একাডেমি রোড ওয়ালটন প্লাজা’র ম্যানেজার খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, গত কোরবানি ঈদের চেয়ে ফ্রিজের বাজার এবার বেশ চাঙ্গা। পছন্দের ফ্রিজ কিনতে ক্রেতারা ওয়ালটনকেই বেছে নিয়েছেন। এমনও হয়েছে, অনেকে পছন্দের ফ্রিজ ধরে দাঁড়িয়েও থাকছেন।

বাগেরহাটেও ব্যাপকহারে ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হয় বলে জানান কচুয়ার সরদার ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী এসএম এমদাদুল ইসলাম। এ অঞ্চলে তার অধীনে রয়েছেন ৬ জন সাব-ডিলার। তিনি বলেন, ওয়ালটন ফ্রিজ কিনতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোরুমে আসেন ক্রেতারা।

সিলেটেও একচেটিয়া ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হয় বলে জানান সেখানকার বিক্রেতারা। রাজধানীর শনির আখড়ায় ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ শোরুম ‘ইলেকট্রো ভিশন’ এ ফ্রিজ কিনেন স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী প্রায় সবার ঘরেই ওয়ালটন ফ্রিজ। সেসব ফ্রিজ সার্ভিসও দিচ্ছে ভালো। তাই, নিজেও ওয়ালটন ফ্রিজ কিনলেন।

রাজধানীর জিগাতলায় ওয়ালটন প্লাজা থেকে গত বৃহস্পতিবার একটি ডিপ ফ্রিজ কেনেন রুবি কাওসার। তিনি জানান, দেশে তৈরি ওয়ালটন ফ্রিজের মান অনেক ভালো, দামও কম। বাংলাদেশি হিসেবে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থার কথা জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জনায়, ফ্রিজ উৎপাদনকারী হিসেবে দেশে একমাত্র ট্রিপল এ রেটেড কোম্পানি ওয়ালটন। আছে বিএসটিআইয়ের ফাইভ স্টার এনার্জি সনদ। কোয়ালিটির জন্য আইএসও ৯০০১:২০১৫, পরিবেশের জন্য আইএসও ১৪০০১:২০১৫ এবং কর্মী নিরাপত্তা, গ্রাহক সুরক্ষায় ওএইচএসএএস ১৮০০১:২০০৭ সনদ পেয়েছে ওয়ালটন। পণ্যের উন্নত পারর্ফমেন্স নিশ্চিত করায় ওয়ালটন পেয়েছে ইএমসি (ইলেকট্রোম্যাগনেটিক কম্পার্টিবিলিটি) সার্টিফিকেট; যা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, চীনসহ উন্নত বিশ্বে আবশ্যকীয়।
আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করায় ওয়ালটন অর্জন করেছে সিবি (সার্টিফিকেশন বডি) সনদ। ইউরোপ, আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে আছে আরওএইচএস সনদ। রয়েছে এসএএসও (সৌদি এরাবিয়া স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন), ইএসএমএ (এমিরেটস অথরিটি ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অ্যান্ড মেট্রোলজি), ইসিএইচএ (ইউরোপীয়ান কেমিক্যাল এজেন্সি), জি-মার্ক (মিডল ইস্ট মার্কেট), সিই-মার্ক (ইউরোপীয় মার্কেট) ইত্যাদি সার্টিফিকেট।

জানা যায়, এবার ঈদে ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি করেছে ওয়ালটন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ। চলতি মাসেই তারা সাড়ে চার লাখ ফ্রিজ এবং এসির রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে। গত মাসে রপ্তানি হয়েছে ইয়েমেন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্রিজ বাজারে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান ব্র্র্যান্ড ওয়ালটন। পৃথিবীর আর কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যই দেশ-বিদেশে এতো দ্রুত গ্রাহকপ্রিয় হয়নি।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মন্তব্য


অন্যান্য