হলিউড

একদা এক আনন্দ রাজ্যে

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯

একদা এক আনন্দ রাজ্যে

  বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের আধুনিক সময়ের চলচ্চিত্রের গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিয়েছেন তিনি। গল্প বলার ধরন, সংলাপ, চরিত্র বিন্যাস ও নির্মাণসহ গোটা চলচ্চিত্রের ভাষাই বদলে গিয়েছে তার কল্যাণে। স্যাটায়ার, অ্যাকশন, রোমাঞ্চ আর অতীত-বর্তমানের দারুণ মেলবন্ধন ঘটাতে সিদ্ধহস্ত এই মানুষটি সিনেমা বানিয়েছেন হাতেগোনা, মোটে আটটি। তাতেই তিনি হয়ে উঠেছেন সর্বকালের সেরাদের একজন। বলছি, আমেরিকান পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা কুয়েন্টিন টারান্টিনোর কথা। টারান্টিনোর সিনেমার জন্য অধীর অপেক্ষা যেমন দর্শকদের, তেমনি তার সঙ্গে কাজ করতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরও ভীষণ আকাঙ্ক্ষা।

২০১৫ সালে 'দ্য হেটফুল এইট'-এর প্রায় চার বছর পর টারান্টিনো আসছেন তার নবম সিনেমা নিয়ে। আগামীকাল ২৬ জুলাই মুক্তি পেতে যাচ্ছে এ বছরের অন্যতম আলোচিত ও আকাঙ্ক্ষিত সিনেমা 'ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন হলিউড'। শুধু টারান্টিনো বলেই কথা নয়, এ সিনেমার পাত্রপাত্রীদের কয়েকজনের নাম শুনলেই চোখ কপালে উঠে যাবে! প্রধান নামগুলো শুনুন তাহলে- লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, ব্র্যাড পিট আর হার্লি কুইনখ্যাত মারগট রবি।

কমেডি-ড্রামা জনরার 'ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন হলিউড' সিনেমার গল্পটা সত্তর দশকের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের। এখনকার রঙিন হলিউড তখন সবেমাত্র কিশোর বয়স পার করছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত নবীন অভিনেতা রিক ডাল্টন এবং তার বন্ধু ক্লিফ বুথ অভিনয়ের রূপালি জগতে পা রেখেছেন। টেলিভিশনে কাজ করলেও সিনেমায় নামাই ছিল রিকের নেশা, আর তার সঙ্গে ছিল তারই বডি ডাবল হিসেবে কাজ করা ক্লিফ। রিক ডাল্টনের নায়ক হয়ে ওঠার গল্প, তখনকার হলিউডের জীবন, সত্তর দশকের আন্ডারগ্রাউন্ড শহুরে রাজনীতি আর শহরের নতুন জীবন এই সিনেমার প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে যে ঘটনাকে উপজীব্য করে 'ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন হলিউড'-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে সেটা বাস্তবে দুঃখজনক হলেও টারান্টিনো সেই ঘটনাকে দিয়েছেন কল্পনা আর আনন্দের নতুন প্রলেপ। রিক ডাল্টন এবং ক্লিফ বুথের প্রতিবেশী ছিলেন সে সময়ের আমেরিকান অভিনেত্রী শ্যারন ট্যাটে। যিনি ছিলেন আরেক বিখ্যাত পরিচালক রোমান পোলনস্কির স্ত্রী। সে সময়ের আলোচিত খুনি বাহিনী চার্লস ম্যানসনের গ্রুপের হাতে শ্যারন ট্যাটে তার নিজ বাসায় আরও চারজনসহ ১৯৬৯-এর আগস্ট মাসে নির্মমভাবে খুন হন। যদিও শ্যারন ট্যাটে খুন হন ভুলক্রমে। তবুও এ ঘটনা বেশ আলোড়ন তোলে। এই ঘটনার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই এই সিনেমা। যদিও সিনেমায় দেখা যাবে ট্যাটে খুন তো হননি বরং রিক ডাল্টন ক্লিফ বুথ ও ব্রুস লির সহায়তায় ম্যানসনদের ঘায়েল করেন। যদিও মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু ঘটবে ক্লিফ বুথের।

এ বছর মে মাসে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে 'ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন হলিউড'-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। তখন দ্য টাইমস আর দ্য গার্ডিয়ানের সিনেমাবোদ্ধারা বলেন, এটাই হয়তো টারান্টিনোর জীবনের সেরা সিনেমা। টারান্টিনো নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, 'আমি এই স্ট্ক্রিপ্ট নিয়ে গত ৫ বছর কাজ করেছি। আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে। ১৯৬৯ সালে আমার বয়স তখন সাত বছর। আমি লস অ্যাঞ্জেলেস আর হলিউডের এক গল্প বলতে চেয়েছি, সেই সময় আর হলিউডের সেই রূপটা এখন আর নেই।' এই সিনেমার মূল চরিত্র রূপায়ণে রিক ডাল্টনের চরিত্রে দেখা যাবে লিওনার্দো ক্যাপ্রিওকে। ব্র্যাড পিট থাকছেন ক্লিফ বুথের চরিত্রে। শ্যারন ট্যাটের ভূমিকায় আছেন রবি আর এ ছাড়াও আলপাচিনোকে দেখা যাবে রিক বা লিওনার্দোর ক্যারেক্টার এজেন্ট হিসেবে। চার্লস ম্যানসনের চরিত্র রূপায়ণ করবেন ড্যামন হেরিমেন, ব্রুস লির চরিত্রে মাইক মোহ, হলিউড তারকা স্টিভ ম্যাক্কুইনের চরিত্রে থাকছেন ডেমিয়েন লুইস, জে সাবরিংয়ের চরিত্রে এমিলে হারস আর ডাকোটা ফ্যানিং থাকছেন লিনেট ফ্রমের চরিত্রে। এ ছাড়াও লিউক পেরিকেও দেখা যাবে ১৯৬৮-এর ওয়েস্টার্ন সিরিজ 'ল্যান্সার'-এর মূল অভিনেতা স্কট ল্যান্সার চরিত্রে। 'ম্যানসন ফ্যামেলি কিলিং'-এর ৫০ বছর উপলক্ষে আগস্ট মাসের ৯ তারিখ ছবিটির প্রাথমিকভাবে মুক্তির তারিখ নির্ধারত হয়। পরবর্তী সময় তা এগিয়ে আনা হয় এ মাসের শেষে। কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেলে টারান্টিনোর অতীতের আনন্দরাজ্য ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল সবার প্রতি। 

মন্তব্য


অন্যান্য