স্বাস্থ্য

শিশুর দাঁত ক্ষয় হলে করণীয়

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শিশুর দাঁত ক্ষয় হলে করণীয়

  ডা. কামরুল হাসান (রিয়াদ), সিনিয়র লেকচারার, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা

অনেক বাচ্চারই দেখা যায় তাদের উপরের চোয়ালের সামনের দিকের চারটি দাঁত ক্ষয় হয়ে কালো হয়ে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ভেঙে গেছে। এ অবস্থার জন্য দায়ী বিশেষ এক ধরনের দন্তক্ষয়।

কখন হয়?

সাধারণত জন্মের পর এক বছরের মধ্যেই বাচ্চার সামনের দিকের দাঁত ওঠে। ওই বয়স থেকেই এটা হতে পারে। সাধারণত ২-৫ বছরের বাচ্চাদের এটা দেখা যায়।

কাদের হয়?

যেসব বাচ্চা বটল ফিড করে বা ফিডারে খায় এবং রাতে ঘুমের মধ্যে যেসব বাচ্চার ফিডারে খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের এটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অনেক সময় যেসব বাচ্চা ঘুমের মধ্যে বুকের দুধ খায়, তাদেরও এটা হতে পারে।

কেন হয়?

রাতে ঘুমের মধ্যে ফিডারে খেলে দুধের একটা আস্তরণ সামনের ওপরের চারটা দাঁতের বাইরের দিকে পড়ে। দীর্ঘ সময় এটা থাকলে স্ট্রেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া গ্রুপ এটা ভেঙে এসিড তৈরি করে, যা দন্তক্ষয় করে। এ ছাড়া অনেক সময় ফিডারে দুধের সঙ্গে চিনি, সিরাপ ইত্যাদি মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ানো হয়; অনেকে বাচ্চাদের মুখের চুষনিতে মিষ্টি জাতীয় কিছু লাগিয়ে দেন, যা এ ধরনের দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিসকে আরও ত্বরান্বিত করে।

লক্ষণ

 -বাচ্চার বয়স ১.৫-৬ বছর।

 -উপরের চোয়ালের সামনের চারটা দাঁত আক্রান্ত হয়।

 -বাচ্চার রাতে ঘুমের মধ্যে খাওয়ার (ফিডার বা বুকের দুধ) অভ্যাস থাকে।

 -এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে উপরের চোয়ালের সামনের দাঁতের বাইরের দিকে বাদামি বা কালো দাগ দেখা যায়।

 -বাচ্চা যদি কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যস্ত হয়, তবে যেদিকে কাত হয়ে ঘুমায় সেদিকের পেছনের দাঁতগুলোতেও এই বিশেষ দন্তক্ষয়ের শুরু হয়।

প্রতিকার

এ অবস্থায় ক্ষয়ের পরিমাণ কম হলে ফিলিং করলেই হয়। যদি ক্ষয় অনেক গভীর হয় তবে পালপেকটমি (বাচ্চাদের বিশেষ রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট) অথবা এক্সট্রাকশন (দাঁত ফেলা) করা যেতে পারে। আর যদি ক্ষয় হতে হতে দাঁতটি ভেঙে যায় সে ক্ষেত্রে এক্সট্রাকশন হলো একমাত্র চিকিৎসা। তাই লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গে ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হন।

প্রতিরোধ

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই কিছু বিষয়ে একটু খেয়াল করে মেনে চললে এই সমস্যা থেকে সহজেই নিস্কৃতি পাওয়া যায়।

-বাচ্চার মুখে প্রথম দাঁত আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়মিত সকালে ও রাতে ব্রাশ করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমদিকে টুথপেস্ট ছাড়াই শুধু ব্রাশ ব্যবহার করুন।

-ফিডারে খাওয়ানো যথাসম্ভব পরিহার করুন। চামচ দিয়ে খাওয়াতে পারেন।

-রাতে ঘুমের মধ্যে খাওয়ানো পরিহার করুন।

 -বাচ্চার খাবারে বা চুষনিতে চিনি, সিরাপ বা মধু মিশিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

 -প্রতিবার ফিডারে খাওয়ানোর পর বাচ্চাকে পানি খেতে দিন, যাতে দাঁতের ওপর থেকে দুধের আস্তরণ ধুয়ে যেতে পারে।

 -রাতে খাওয়ানোর পর পানি খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্কার ভেজা নরম কাপড় দিয়ে দাঁত এবং মাড়ি ভালো করে মুছে দিন।

 -পরিস্কার আঙুল দিয়ে মাঝে মাঝে বাচ্চার মাড়ি আলতো ম্যাসাজ করে দিন।

 -প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার ডেন্টাল সার্জনের কাছে আপনার বাচ্চার মুখ ও দাঁতের নিয়মিত চেকআপের জন্য নিয়ে যান। অবশ্যই মুখ ও দাঁতের চিকিৎসায় বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউই ডাক্তার নয়।

মন্তব্য


অন্যান্য