স্বাস্থ্য

বিএসএমএমইউয়ে নিয়োগ: আন্দোলনের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯ | আপডেট : ১০ জুন ২০১৯

বিএসএমএমইউয়ে নিয়োগ: আন্দোলনের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষা

  সমকাল প্রতিবেদক

চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার পদে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল পৌনে ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। ধাপে ধাপে ৮ জুলাই পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। এদিকে আন্দোলনকারীরা লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, ভর্তি পরীক্ষায় নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে। উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ কয়েকজন নিজেদের স্বজনদের নিয়োগ দিতে ফলাফল টেম্পারিং করেছেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এসব ঘটনার প্রমাণাদিও উপস্থাপন করা হয়। এরপরও পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার দাবি আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। 

তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত রোববার উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে দিনভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলে। এরই মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের কিছু চিত্র তুলে ধরে তা বাতিলের দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতেও রিট করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা মৌখিক পরীক্ষা প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শতাধিক চিকিৎসক জড়ো হয়ে আমরণ অনশনের ডাক দেয়। এক পর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলেও পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া বলেন, ফল প্রকাশের পরের দিন একজন বেশকিছু অভিযোগ করেন। তা যাছাই-বাছাই করে কোনো গ্রহনযোগ্যতা পাওয়া যায়নি। এরপরও তারা পরীক্ষা বাতিলের দাবি করে আসছে। কিন্তু পরীক্ষা বাতিলের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। 

তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে উসকানি পেয়ে অথবা হয়ত নিজেরাই কেউ কেউ এভাবে আন্দোলন করছে। সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। আদালতে রিট বিষয়ে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। এরপর আদালত থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসলে তা মেনে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ বিএসএমএমইউতে মেডিকেল অফিসার ১৮০ পদ এবং ডেন্টাল চিকিৎসকের ২০ পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় আট হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন। এরপর ১২ মে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পরপরই অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবিতে মিছিল বের করেন শতাধিক চিকিৎসক। এরপর বিভিন্ন সময় ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আসছেন তারা।

মন্তব্য


অন্যান্য