স্বাস্থ্য

ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯

ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

  অনলাইন ডেস্ক

ত্বকের এমন কিছু সমস্যা আছে, যা অবহেলা করলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আপনি। মানুষের ত্বকের নানা স্তর এতোই স্পর্শকাতর যে অসতর্কতার ফলে ছোট কোনো প্রদাহ বা র‌্যাশ থেকেও হতে পারে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ।

কী কী সতর্কতা অবলম্বন করলে ত্বকের ক্যানসার থেকে রক্ষা পেতে পারি আমরা- আসুন জেনে নিই-

১. দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরি করা বন্ধ করুন। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি হলেই সতর্ক হোন। যখনই রোদে বেরোবেন শরীরের খোলা অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আপনার ত্বকের উপযুক্ত সানস্ক্রিন নির্বাচন করুন। ত্বকে দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি কড়া সূর্যালোক লাগলে তা চামড়াকে পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ক্যানসারও ডেকে আনতে পারে।

২. কাউকে কাউকে পেশার প্রয়োজনে চড়া মেকআপ নিতে হয়। কেউ আবার সব সময়ই চড়া মেকআপ নিয়ে থাকেন। পেশার প্রয়োজনে ঘন ঘন চড়া মেকআপ নিতে হলে বাড়ি ফিরেই ভালো করে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আর অকারণেই চড়া মেকআপ ব্যবহার করে থাকলে সচেতন হোন। মেকআপের কেমিক্যাল উপাদান ত্বকের কোষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ত্বকের উপর এসব কেমিক্যাল আস্তরণ ক্যানসার ডেকে আনে। ঘন ঘন ব্লিচ করার প্রবণতাও কমান। একান্ত ব্লিচ করাতে হলে তিন মাস পর পর করান। আস্থা রাখুন ঘরোয়া উপায়ে ত্বক চর্চার ওপর। 

৩. ত্বকের ক্ষেত্রে নিয়মিত চেকআপ তো করা হয়ই না, এমনকি বড় কোনো সমস্যায় না পড়লে আমরা চিকিৎসকের কাছে যাই না। কিন্তু এই অবহেলার কারণে রোগ বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করান। ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো দাগ বা প্রদাহ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।


সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আয়োডিনের অভাবে হাইপোথাইরয়েডিজম


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  ডা. মনিলাল আইচ

যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা যায়। নবজাতকের মধ্যে থাইরয়েড গ্লান্ড তৈরি না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম হয়। এ ছাড়া চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থাইরয়েড গ্লান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থাইরয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে।

থাইরয়েড গ্লান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে থাইরয়েড গ্লান্ড নষ্ট হয়ে যায়। অটোইমিউনো রোগে এ ধরনের সমস্যা হয় যার ফলে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজম হলে অবসাদগ্রস্ত হওয়া, সঙ্গে অলসতা, ঘুম ঘুম ভাব হয়। ওজন বেড়ে যায়, কণ্ঠস্বর খসখসে হয়ে যায়, শীত শীত ভাব দেখা যায়, চুল পড়তে শুরু করে, ত্বক ঠাণ্ডা ও খসখসে হয়, স্মৃতিশক্তি কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়, ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হতে পারে, গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে, কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজমে শিশুর ব্রেইনের বিকাশ হয় না, ক্ষুধামন্দা শুরু হয় ও পিরিয়ডের সমস্যা হতে পারে।

এ সমস্যা দূর করার জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রুকলি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, বেশি করে খনিজ লবণসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করা ছাড়াও শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এর ফলে শরীরে এমনকি থাইরয়েড গ্রন্থিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। তবে হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।


লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, নাক, কান ও গলা বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শিশুর ডায়রিয়া-জ্বরে করণীয়


আরও খবর

স্বাস্থ্য

প্রতীকী ছবি

  ডা. আবু সাঈদ শিমুল

শীতের শেষে বসন্ত চলছে। ঋতু পরিবর্তনের মিশ্র আবহাওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময়ে শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও জ্বর খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা হলে বুঝবেন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসজনিত এই ডায়রিয়ায় কোনো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন নেই।

অনেকে এ সময়ে মায়ের খাওয়া-দাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন, যা একেবারে ঠিক নয়। কেউ কেউ বুকের দুধ বন্ধ করে লেকটোজেনমুক্ত দুধ দেন। এটিও ঠিক নয়। মূলত এ ডায়রিয়ার চিকিৎসা হলো খাবার স্যালাইন। প্রতিবার অল্প অল্প করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

শিশুর বয়স দুই বছরের কম হলে ১০ থেকে ২০ চামচ করে এবং দুই থেকে ১০ বছরের মধ্যে হলে ২০ থেকে ৪০ চা চামচ করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এর বেশি বয়সের শিশু যে পরিমাণ খেতে পারবে সে পরিমাণ স্যালাইন দেবেন।

তবে খুব বেশি বমি হলে, স্যালাইন বা অন্যান্য খাবার খেতে না পারলে, অতিরিক্ত জ্বর থাকলে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে কিংবা ১৪ দিনের বেশি ডায়রিয়া স্থায়ী হলে শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, ভালো থাকুন।


লেখক: কনসালট্যান্ট, শিশু বিভাগ, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রোববার সরকারি সব হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। 

এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রোগীরা হাসপাতালের আউটডোরে এ সেবা পাবেন। একইসঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতিমধ্যে জারি করেছে। সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও জরুরি ও আন্তঃবিভাগীয় সেবা অব্যাহত থাকবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। 

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রোববার রাজধানীর মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে 'বাংলাদেশে শিশু স্বাস্থ্যের অগ্রগতি' শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।