স্বাস্থ্য

নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তের ওপর গুরুত্বারোপ

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তের ওপর গুরুত্বারোপ

   সমকাল প্রতিবেদক

পাঠ্যপুস্তকে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এবং মেন্সচুরাল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট (এমএইচএম) প্লাটফর্ম এর যৌথ উদ্যোগে নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনপিএস এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সৈয়দ মাহফুজ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ( আইইআর) পরিচালক প্রফেসর সৈয়দা তাহমিনা আখতার, টির্চাস ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর কানিজ সৈয়দা বিনতে সাবাহ, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মাশফিকা জামান সাটিয়ার। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের এর শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ইকবাল হোসেন, ইউবিআর অ্যালায়ান্সের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমীন ফায়াদ উবায়েদ, সিমাভি'র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহবুবা কুমকুম।

মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে এনসিটিবি এর বই এর আধেক্ষ্য বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন আইসিসিডিআরবি এর গবেষক ড. টিশান মাহফুজ এবং পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাসিক স্বাস্থ্য এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক গ্রেড অনুযায়ী প্রস্তাবিত বিষয় এবং প্রযোজনীয়তা সম্পর্কে উপস্থাপন করেন বিএনপিএস এর উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমী।

বক্তারা বলেন, মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত 'শারীরিক শিক্ষা' ও 'স্বাস্থ্য ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞান' বইয়ে বয়ঃসন্ধি, ঋতুস্রাব, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়গুলো আছে, তবে এক্ষেত্রে তথ্যের অপর্যাপ্ততা ও যুক্তিসিদ্ধ বিন্যাসের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, এছাড়া মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। অন্যদিকে মাসিক নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ও অসচেতনতার কারণে শিক্ষকরাও অনেক সময় পাঠদানের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোতে এড়িয়ে যান। তাই পাঠ্যক্রম পুনঃবিন্যাস এবং পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম পূর্ণবিন্যাস এবং পাঠ্যপুস্তকে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
সম্পৃক্ত যৌন শিক্ষা যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নে উদ্বুদ্ধকরণ বিদ্যমান পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলো থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়ক কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ দরকার যা মেয়েদের স্কুলে যেতে ও বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমাবেন যেভাবে


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

গোটা বিশ্বে হাজারো মানুষ এখন ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভূগছেন। সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, অ্যালকোহল কিংবা ধূমপান পান এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবপযাপান পদ্ধতির কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়লে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে শুরু থেকে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা প্রতিরোধ করা উচিত। কিছু ঘরোয়া উপায়ে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। যেমন-

১.  আপেল সিডার ভিনেগার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করতে দারুন কার্যকরী। যারা ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভূগছেন তারা এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চামচ করে আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে দিনে দুইবার পান করুন। এতে এই সমস্যা সহজেই দূর হবে। 

২. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় হলুদ যোগ করুন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হলুদ খেলে হজমপদ্ধতি উন্নত হয়।এজন্য নিয়মিত হলুদের তৈরি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। এছাড়া গরম দুধ কিংবা হালকা গরম পানির সঙ্গে সামান্য হলুদের গুড়া মিশিয়ে খেলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দুর করা যায়। 

৩. যাদের বয়স কিংবা উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি তারা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে আছেন। এ কারণে ফ্যাটি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। 

৪. নিয়মিত লেবু কিংবা লেবুর রস খেলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করতে দারুন কার্যকরী। সূত্র : হেলদি বিল্ডার্জড

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দাঁড়িয়ে পানি পান ক্ষতিকর যেসব কারণে


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

পানির অপর নাম জীবন। বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। পানি পান করলে শুধু তৃষ্ণাই মেটে না, সেই সঙ্গে শরীরে পানির  মাত্রা বা ভারসাম্যও বজায় থাকে। তবে সঠিক পদ্ধতিতে পানি পান না করলে অনেকসময় তা শরীরের জন্য বিপদজনক হতে পারে। বিশেষ করে অনেকেই তাড়াহুড়ার সময় দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী এভাবে পানি পানে অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। যেমন-

১. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে অনেকসময় স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখন উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে এভাবে পানি পান করলে উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। 

২. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের ভিতরে থাকা ছাঁকনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। তখন শরীরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় এবং শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

৩. দাঁড়িয়ে পানি পানে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে। ফলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৪. অনেকসময় দাঁড়িয়ে পানি পানে বুকের পেশীতে চাপ পড়ে। তখন আমাদের হৃদযন্ত্রের উপরেও চাপ সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

৫. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে তা আঘাত করে। পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত পাচক রসের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে হজমের নানা সমস্যা তৈরি হয়। গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ-এর মতো হজমের অসুখও হয়। 

পানি পানের কিছু সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। যেমন-

১. সবসময়ই বসে পানি পান করা উচিত 

২. এক ঢোঁকে না খেয়ে ছোট ছোট চুমুকে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর। 

পানি পানের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি মেনে চলতে পারলে সহজেই সুস্থ, সতেজ থাকা সম্ভব।সূত্র : জি নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কাশি রোগ নয়, উপসর্গ


আরও খবর

স্বাস্থ্য
কাশি রোগ নয়, উপসর্গ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯

প্রতীকী ছবি

  ডা. আবু রায়হান

কাশি কোনো রোগ নয়, এটি অনেক রোগের উপসর্গ। কফ হলো শ্বাসনালির রস, স্বাভাবিক অবস্থায় শ্বাসনালিকে ভিজিয়ে রাখাই এটির কাজ। কাশি হলে বুঝতে হবে শরীর সমস্যায় পড়েছে, সম্ভবত সেই সমস্যা শ্বাসনালিতে।

শ্বাসনালিকে পরিষ্কার করার জন্য আমরা কাশি দেই। নাক মুখের পেছন দিকটা এক, সেখান থেকে আলাদা হয়ে যায় শ্বাসনালি ও খাদ্যনালি। খাবার খাওয়ার সময় যাতে শ্বাসনালিতে না যায়, সেজন্য শ্বাসনালির শুরুতে একটি দরজা আছে। কাশির সময় সেই দরজা বন্ধ হয়। ফলে ফুসফসের ভেতরে চাপ বাড়ে। এই বাড়তি চাপে হঠাৎ দরজা খুলে গিয়ে ফুসফুসের বাতাস তাড়াতাড়ি বেরিয়ে কাশির আওয়াজ হয়।

বারবার কাশি, রাতে কাশি, কাশতে কাশতে বমি হয়ে যায়, কাশির সঙ্গে বুক, পিঠ, হাত ও পায়ে ব্যথা লাগাতার হলে তা চিন্তার বিষয়।

অনেক রোগে কাশি হয়। যেমন- শ্বাসতন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস সিওপিডি, আইএলডি, অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমা প্রভৃতি। যেসব কাজের পরিবেশ ধুলাবহুল এবং সেখানে যারা কাজ করেন, তাদের শ্বাসতন্ত্রের বড় ধূলিকণাগুলো নাকের পশমে আটকে পড়ে। তার চেয়ে ছোট কণাগুলো শ্বাসনালি কফের সঙ্গে বের করে দেয়। ছোট কণাগুলো ফুসফুসের বাতাসের থলিতে ঢুকে ঘায়ের সৃষ্টি করে।

কাশির সঙ্গে রক্ত গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, কাশি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।


লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন, প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালক, শ্যামলী ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট খবর