স্বাস্থ্য

মাথায় টাক পড়ে কেন

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাথায় টাক পড়ে কেন

  ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান

চুলপড়া সমস্যা সব বয়সেই হতে পারে। কি পুরুষ কি নারী অথবা কিশোর-কিশোরী। চুলপড়া সমস্যা কোনো রোগ নয়। অন্য যে কোনো রোগ অথবা সমস্যা থেকে চুল পড়তে পারে।

মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস হচ্ছে পুরুষের চুলপড়া সমস্যার অন্যতম একটি ধরন। সাধারণত জিন ও পুরুষ সেক্স হরমোন হিসেবে খ্যাত টেস্টেসটেরনই এর জন্য দায়ী। এ ধরনের চুলপড়া সমস্যাকে এড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া বলা হয়। এ ধরনের চুলপড়া সমস্যা বুঝতে বা ডায়াগনসিস করতে খুব একটা সমস্যা হয় না। হেয়ারলাইন বা কপালের ওপরের অংশের চুল ফাঁকা হয়ে যায় এবং মাথার উপর ভাগের অংশে চুল কমে যায়। এ ক্ষেত্রে চুলপড়ার ধরন দেখেই বোঝা যায়  এটা হরমোনাল বা বংশগত কারণে হচ্ছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ হরমোনজনিত কারণে চুলপড়া সমস্যার কোনো ভালো চিকিৎসা নেই। কারণ হরমোন পরিবর্তন করে চুলপড়া সমস্যার চিকিৎসা যৌক্তিক নয়। তবে মেলপ্যাটার্ন বল্ডনেস বা পুরুষের চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্র্রেশন এ পর্যন্ত দুটি ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে। আশার কথা— এ দুটি ওষুধই এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে মিনক্সিডিল। মিনক্সিডিল হচ্ছে একধরনের লোশন বা সলিউশন যা সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হয়। এই ওষুধটি হেয়ার ফলিকিউল স্টিমুলেট করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়ায় আর একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি হচ্ছে ফিনাস্টেরাইড। এটা খাওয়ার ওষুধ। দৈনিক ১ মিলিগ্রাম করে এ ধরনের ওষুধ সেবন বাঞ্ছনীয়। এই ওষুধটি মিনক্সিডিল অপেক্ষা ভালো এবং চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুল গজাতেও কার্যকর।

একটি কথা মনে রাখতে হবে— শুধু ওষুধ দিয়েই চুলপড়া সমস্যার সমাধান হবে না। চুলপড়া সমস্যার প্রকৃত কারণ জেনে চিকিৎসার পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। আর রোগীকে আস্থাশীল করতে না পারলে রোগীও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই চুলপড়া সমস্যার চিকিৎসা যত বেশি জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি রোগীর আস্থা ও ধৈর্য। কারণ ধৈর্য ধরে যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।


লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অতিরিক্ত ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

কম ঘুম যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি বেশি ঘুমও স্বাস্থ্যহানির কারণ ঘটায়। 

ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যারা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমায় তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি যারা দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমায় তাদের চেয়ে বেশি। 

গবেষকরা ২১ টি দেশের অন্তত সাতটি প্রদেশে এই বিষয়ে গবেষণা চালায়। গবেষণায় তারা দেখেছেন যেসব প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘন্টার চেয়ে বেশি ঘুমান তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোকের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪১ শতাংশ বেশি। 

গবেষকরা বলছেন, বেশিক্ষন শুয়ে থাকার কারণে এসব লোকদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে।

গবেষনায় কম ঘুমে স্বাস্থ্যের কি ক্ষতি হয় সেটাও প্রমানিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, যারা প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি ৯ শতাংশ বেশি। 

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমের পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্র : এবিসিসেভেননিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় দারুচিনি


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

দারুচিনি গরম মসলা হিসাবেই পরিচিত। রান্নার স্বাদ বাড়াতে এর জুড়ি নেই। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক এই উপাদানটি কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ডায়াটারি ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং নানাবিধ ভিটামিনে ভরপুর। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে বিভিন্ন রোগ থেকে শরীর সু্স্থ থাকে।  

একাধিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত দারুচিনি খাওয়া শুরু করলে দেহের ভিতরে একদিকে যেমন উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কমতে শুরু করে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। 

নিয়মিত দারুচিনি খেলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে। শুধু তাই নয়, চোখের শুষ্কতা দূর করতেও দারুচিনি ভূমিকা রাখে। 

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সেলের কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু সেল শুকিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত দারুচিনি খেলে এর ভিতরে থাকা বেশ কিছু উপাদান নিউরনদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

দারুচিনিতে থাকা সিনেমেলডিহাইড নামক একটি প্রয়োজনীয় উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে দেয় যে কোনও ধরনের জীবাণু থেকে শরীর সুরক্ষিত থাকে। 

দারুচিনিতে থাকা একাধিক উপাকারী উপাদান রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। 

দারুচিনিতে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে পরিপূর্ণ দারুচিনি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনি শরীরে প্রবেশ করার পর বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যেগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একেবারে কমে যায়। সূত্র : বোল্ড স্কাই

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নীরব ঘাতক অস্টিওপরোসিস


আরও খবর

স্বাস্থ্য
নীরব ঘাতক অস্টিওপরোসিস

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

  ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগ একটি নীরব ঘাতক। হাড়ের ক্ষয়রোগ মানবদেহের বিভিন্ন হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে তা দুর্বল ও ভঙ্গুর করে। শরীরে সব সময় ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে স্বাভাবিক হাঁটাচলা, কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটিয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

হাড় গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ৪০ বছর বয়সের আগে হাড়ের বৃদ্ধি বেশি হয় আর ক্ষয় কম হয়। এর পর থেকে হাড়ের ক্ষয় বেশি হয়, বৃদ্ধি কম হয়। হাড়ক্ষয় নির্ভর করে ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হাড়ের ঘনত্বের সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ফসফেট, কোলাজেন ফাইবারের উপস্থিতির ওপর। তাই অল্প বয়সে স্বাস্থ্যসম্মত হাড়ের ঘনত্বের সঙ্গে পরিমাণমতো ক্যালসিয়াম, ফসফেট, কোলাজেন বুড়ো বয়সে অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সাধারণত মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, উচ্চতা অনুসারে যাদের ওজন কম, যারা নিয়মিত পরিমাণমতো ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সেবন করেন না, ধূমপান ও মদপান করেন, ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে, থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেশি হলে হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা বাড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডায়াবেটিক, লিভার ও কিডনি রোগে হাড়ের ক্ষয় রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

হাড়ক্ষয় রোগ প্রতিরোধের চেয়ে প্রতিকার উত্তম। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। নিয়মিত ব্যায়ামে হাড়ের শক্তি বাড়ে, হাড়ের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে জয়েন্টগুলো সচল রাখে। শরীরের ভারসাম্য ঠিক রেখে হাড়ক্ষয় কমায়।

হাড়ের প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়ামের জন্য নিয়মিত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। ভিটামিন ডি-এর ৯০ ভাগ উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো। তাই প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যের আলোয় থাকুন, পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ খান। এতে হাড় ভালো থাকবে। ধূমপান ও মদপান ত্যাগ করুন। কারণ, এতে হাড়ের ক্ষয় বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

হাড়ভাঙা রোধে বাথরুমের পিচ্ছিল ভাব দূর করুন। রাতে ঘরে মৃদু আলো জ্বালিয়ে রাখুন। অন্ধকারে চলাফেরা করবেন না। অতিরিক্ত ওজন বহন করবেন না। এ ছাড়া কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন, ভালো থাকুন।


লেখক: ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সংশ্লিষ্ট খবর