স্বাস্থ্য

বিশ্বে প্রতি ৪ জনের একজন থ্রম্বোসিসে মারা যান

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৮

বিশ্বে প্রতি ৪ জনের একজন থ্রম্বোসিসে মারা যান

  অনলাইন ডেস্ক

কোনো কারণে শরীরের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে তাকে থ্রম্বোসিস বলে। বিশ্বে প্রতি ৪ জনের মধ্যে একজন থ্রম্বোসিস জটিলতায় মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিন কেউ না কেউ থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন কিংবা পঙ্গুত্ববরণ করছেন।

বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বারডেম অডিটরিয়ামে এক সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস পালন করেছে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগ।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে রোগের কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, হৃৎপিন্ডে কৃত্রিম ভাল্ভ লাগালে বা ব্লকজনিত কারণে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। অনেকের ঘাড়ে অতিরিক্ত হাড় থাকার কারণে ওই হাড় রক্তনালীতে চাপ দেয়। তখন রক্তনালী স্ফিত হয়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। পেটের বা বুকের রক্তনালী স্ফিত হয়ে রক্ত জমাট হতে পারে। 

বিমানে যারা নিয়মিত ইকনোমি ক্লাসে চলাচল করেন তাদের নড়াচড়া কম হওয়ায় থ্রম্বোসিস হতে পারে। এছাড়া পায়ে প্লাস্টার লাগানো, বড় অপারেশন, গর্ভবতী মা, অনেক বেশি মুটিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় একভাবে শুয়ে থাকা এ রোগের জন্য দায়ী বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। 

থ্রম্বোসিস প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ জরুরি উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানান, থ্রম্বোসিস প্রতিরোধের প্রথম শর্ত সচেতনতা। এজন্য দীর্ঘসময় এক স্থানে স্থির না থেকে নড়াচড়া করার জন্য পরামর্শ দেন তারা। এ রোগে আক্রান্ত হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা পেলে রোগী সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যেতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের বোর্ড অব ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদর রহমান, সিইও প্রফেসর ডা. এম এ রশিদ, বাংলাদেশ ভাসকুলার সোসাইটির সভাপতি ডা. নরেশ চন্দ্র মন্ডল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিএম মকবুল হোসেন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএমজি সাকলায়েন। 


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সাইনাসের সমস্যা কমবে ঘরোয়া উপায়ে


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

অনেকেরই সাইনাসের সমস্যা আছে। এই সমস্যা তীব্র হলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, সারাক্ষণ নাক-মাথায় ভারী ভাব, এমনকি ব্যথার কারণে জ্বরও চলে আসে। একটু অনিয়ম হলেই এই সমস্যা বাড়তে পারে।

মুখের হাড়ের ভেতরে যে ফাঁপা, বায়ুভর্তি জায়গা থাকে, তার ভিতরের ঝিল্লিতে কোনও রকম বাধা এলে বা জ্বালা করলে সেখান থেকেই সাইনোসাইটিসের সমস্যা শুরু হয়।

যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের সারা বছরই সাবধান থাকা প্রয়োজন। সমস্যা বেশি হলে কখনও কখনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা হতে পারে। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরন করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন-

১. সাইনোসাইটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এক কোয়া রসুন ও এক চামচ মধু যোগ করুন। এই দুটি উপাদানেই একাধিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে কফজনিত অসুখ ঠেকাতে এগুলোর জুড়ি নেই। এক কোয়া রসুনের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে খেলে সাইনাসের আক্রমণ ঠেকাতে পারবেন অনেকটাই।

২. সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে স্যাঁতসেঁতে বা অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া ক্ষতিকারক। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে, এমন জায়গায় থাকুন।

৩. সাইনাসের সমস্যায় মাঝেমধ্যে নাকে গরম ভাপ নিন। বিশেষ করে একটু ঠাণ্ডার প্রবণতা বাড়লে নিয়মিত গরম ভাপ নিন। এতে নাক পরিষ্কার থাকবে। 

৪. আদা, মধুর মিশ্রণ জমে থাকা কফ পরিষ্কারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মধুর অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ক্ষমতা শরীর গরম রাখে। আদা প্রাকৃতির ভাবেই অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল। এই দুই উপাদানের মিশ্রণ প্রতি দিন খেতে পারলে সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

৫. নিয়মিত গরম পানীয় খান। চা-কফি খেলে তাতে চিনি বাদ দিয়ে মধু খান। সাইনাসের সমস্যা হলে গরম স্যুপও খেতে পারেন। 

৬. গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ভাল করে নিংড়ে নিন। এ বার এই তোয়ালে মুখের উপর দিয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। এতে অনেকটা আরাম পাবেন।

৭. সিগারেটের ধোঁয়া, বডি স্প্রে, ধুলোবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। এ সব সাইনোসাইটিসের সমস্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সূত্র : আনন্দবাজার

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ইউরিনে ইনফেকশন হলে কী করবেন


আরও খবর

স্বাস্থ্য
ইউরিনে ইনফেকশন হলে কী করবেন

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

ইউরিন ইনফেকশন একটি পরিচিত সমস্যা। পুরুষের তুলনায় নারীদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মানুষের শরীরের দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি ইউরিনারি ব্লাডার (মূত্রথলি) এবং ইউরেথ্রা (মূত্রনালি) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। আর এই রেচনন্ত্রের যে কোনও অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয় তাহলে সেটাকে ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ বলা হয়। ইউরিন ইনফেকশন হলে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ পায়। যেমন-

১. প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হয়।

২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হয়ে যায়

৩. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়

৪. একটু পর পর প্রস্রাবের বেগ অনুভব করলেও ঠিক মতো প্রস্রাব হয় না

৫. তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা হয়

৬. বমি ভাব বা বমি হয়

৭. সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব বা কাঁপুনি দিয়ে ঘন ঘন জ্বর আসে

ইউরিন ইনফেকশন এমনই এক সমস্যা যা একবার হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘন ঘন ওষুধ না খেয়ে বরং ঘরোয়া কিছু প্রতিকারের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। যেমন-

১. ইউরিন ইনফেকশন হলে অনেক চিকিৎসকই রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি মুত্রথলি ভাল রাখে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালা ভাব কমাতে সহায্য করে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতেও সহায়তা করে ভিটামিন সি। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

২. প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে প্রসাবে হলুদ ভাব দেখা গেলেই দেরি না করে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। 

৩. আনারসে ব্রোমেলাইন নামক উপকারী এনজাইম থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত রোগীদের সাধারণত ব্রোমেলাইন সমৃদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রতিদিন এক কাপ আনারসের রস খান।

৪. ইউরিন ইনফেকশন হলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব এটি নিরাময় করা উচিত। আধা চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস পানিতে ভাল করে মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা ভাব অনেকটাই কমে যাবে। সূত্র : জি নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শীতকালে গরম পানিতে গোসল কতটা স্বাস্থ্যকর?


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

শীতকালে অনেকেই নিয়মিত গোসল করতে চান না। আর গোসল করলেও গরম পানি ব্যবহার করেন। অনেকেই মনে করেন ঠাণ্ডার ভয়ে গোসল না করার চেয়ে গরম পানিতে গোসল করাই ভাল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা্। 

শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায় এমনিতেই ত্বকের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ খুব কম থাকায় ত্বকও শুষ্ক হয়ে যায়। শীতকালে বাতাসের অতিরিক্ত শুষ্কতার প্রভাবে ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ, শুষ্ক আর নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়ায় নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করার ফলে ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। প্রতিদিন গরম পানিতে গোসল করার কারণে হজমেরও নানা সমস্যা হতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা।

গবেষকদের মতে, শীতকালে ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে গোসলের পানি হালকা গরম হলে ক্ষতি নেই। তবে এমন পানি দিয়ে গোসল করলে গোসলের সময় কমিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় বেশি ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল না করাই ভাল। সূত্র : জি নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর