স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য খাতের ৮৫ কোটি টাকা নিয়ে তোলপাড়

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ভেস্তে গেল লোপাটের আয়োজন

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য খাতের ৮৫ কোটি টাকা নিয়ে তোলপাড়

  রাজবংশী রায়

স্বাস্থ্য খাতে ৮৫ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে তোলপাড় চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট ঠিকাদারের সঙ্গে মিলে সরকারি পাঁচ হাসপাতালের নামে এই টাকা লোপাটের সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে সিন্ডিকেটটির এই অপতৎপরতা ভেস্তে যায়। জড়িত থাকার অভিযোগে এক উপসচিবকে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দের ৮৫ কোটি টাকা লোপাটের জন্য পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে এক খাতের টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর করার অনুমোদনও বাগিয়ে নেয় এ সিন্ডিকেট। যদিও যেসব হাসপাতালে অর্থ বরাদ্দের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোর সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ সম্পর্কে কিছুই জানত না।

চলতি অর্থবছরের ৩০ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঁচটি সরকারি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পুনঃউপযোজনের প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। উপসচিব রেহানা ইয়াসমিন ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চলতি বছরের ১৪ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। সংশ্নিষ্ট পাঁচটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে- রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পাঁচশ' শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, আড়াইশ' শয্যার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং আড়াইশ' শয্যার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল।

এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ খাতে ৩২৫২১০৫ কোডে ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে সচিবালয় ৪১১২৩১৫ নম্বর কোডে ২০ কোটি টাকা পুনঃউপযোজন  করে একই প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে সচিবালয় ৪১১২৩১৫ নম্বর কোডে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি খাতে ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৫ কোটি টাকা, মুগদা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ২০ কোটি টাকা এবং ২৫০ শয্যার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ২০ কোটি টাকা পুনঃউপযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ৩২৫২১০৫ নম্বর কোডে চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ খাতে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে টাকা কেটে সচিবালয় ৪১১২৩১৫ নম্বর কোডে ১০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এ টাকা ২৫০ শয্যার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পুনঃউপযোজন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে অন্ধকারে রেখে মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র এ ঘটনা ঘটায়। বিষয়টি জানার পর তিনি এই বরাদ্দ প্রত্যাহারের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি চিঠি দিয়ে ওই অর্থ প্রত্যাহার করে নেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুস সামাদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, প্রশাসনিক প্রয়োজনে অর্থ বিভাগের আগের সম্মতি নির্দেশক্রমে প্রত্যাহার করা হলো। উল্লেখিত পুনঃউপযোজনকৃত টাকা থেকে কোনো বিল দাবি করা যাবে না এবং এ বাবদ কোনো বিল পরিশোধ করা যাবে না। এ আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে যারা : নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আমলাদের একটি সিন্ডিকেট ৮৫ কোটি টাকা লোপাট করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঠিকাদার মিঠু যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৮৫ কোটি টাকা পুনঃউপযোজন করে অন্য খাতে নেওয়া হয়েছিল। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও এই ঠিকাদারের নাম এসেছে। ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকার সময় উত্থান ঘটে আলোচিত এ ঠিকাদারের। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সিন্ডিকেট করে একসঙ্গে তিন থেকে চার বছরের টেন্ডার করে যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নেন তিনি। এ সময় কোনো কোনো হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছিল। আবার কোনো কোনো হাসপাতালে নির্ধারিত যন্ত্রপাতির বদলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছিল।

মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঠিকাদার স্বাস্থ্য খাতের কাজকর্মে পিছিয়ে পড়েন। যদিও গত সরকারের আমলে টেন্ডার করে রাখায় এই মেয়াদের প্রথম দুই বছর বরাদ্দ পেতে তাকে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু দুই বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যাপারে জানতে ঠিকাদার মিঠুকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পাঁচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য : মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরে তিনি যন্ত্রপাতি কেনার কোনো চাহিদা পাঠাননি। এ নিয়ে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়াও হাসপাতালে হয়নি। কে বা কারা এ ধরনের বরাদ্দ দিয়েছেন সে সম্পর্কেও তিনি জানেন না। যদিও ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ বাতিলের চিঠি পেয়েছেন।'

প্রায় একই কথা বলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায়। তিনি সমকালকে বলেন, 'যন্ত্রপাতির চাহিদা ছিল; কিন্তু টাকার বরাদ্দ পাইনি। তবে সেটা বছরের প্রথম দিকে। এই অর্থবছরে কোনো চাহিদা দেইনি।'

দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আমির আলী সমকালকে জানান, বরাদ্দ দেওয়া আবার তা বাতিলও হওয়া- এ দুটির কোনোটি সম্পর্কেই জানেন না তারা। গত অর্থবছরের মে-জুন মাসে তারা একটি চাহিদা দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি অর্থবছরে বিশেষ করে আগস্টে কোনো চাহিদা দেননি। তিনি বলেন, এক অর্থবছরের টাকা আরেক অর্থবছরে দেওয়া সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদন দেয়, তাহলে সম্ভব।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উল্লেখিত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কোনো চিঠি দেননি।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আমিন আহমেদ খান সমকালকে বলেন, তিনি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি এখনও কিছু জানেন না।

সচিব ও উপসচিবের বক্তব্য : স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। সমকালের পক্ষ থেকে তার কাছে পাঁচটি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন খাতে পুনঃউপযোজনে সম্মতি প্রত্যাহারের বিষয় তুলে ধরা হয়। এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সচিব বলেন, বিষয়টি তার মনে নেই। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তা পুনঃউপযোজনের জন্য স্বাক্ষর করেছেন, বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

ওই উপসচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেই- এমন তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য চাওয়া হলে সিরাজুল হক খান বলেন, তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, তিনি কোথায় আছেন। অথবা ওই শাখায় যিনি আছেন তার কাছে জানতে চান। বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাশ কাটিয়ে অধীনস্ত উপসচিবের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, পাশ কাটানোর কথা তিনি বলেননি। তিনি বলেছেন যে, বিষয়টি তার মনে নেই। বিষয়টি উনি (উপসচিব) খোলাসা করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসচিব রেহানা ইয়াসমিন সমকালকে বলেন, তিনি এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার দায়িত্বে নেই। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।

সচিবের বক্তব্য জানিয়ে মতামত দিতে বললে রেহানা ইয়াসমিন বলেন, ডেস্ক অফিসার একা কোনো কিছুই করতে পারে না।

সে ক্ষেত্রে কার আদেশে আপনি ওই ফাইলে স্বাক্ষর করেছিলেন?- এ প্রশ্নের জবাবে উপসচিব রেহানা ইয়াসমিন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনার পর আপনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে রেহানা ইয়াসমিন জানান, সার্ভিস ডেকোরামে পড়ে না। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি চাকরি করেন এবং অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন। যেহেতু এখন তারা তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নন, তাই তিনি কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হচ্ছে না শনিবার


আরও খবর

স্বাস্থ্য

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আগামী শনিবার সারাদেশে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে।

ভিটামিন 'এ' দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। এ কারণে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য নীতিমালা অনুযায়ী, ভিটামিন 'এ'-এর অভাব পূরণে বছরে দু'বার সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় রাউন্ডে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী দুই কোটির বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা ছিল। 

এই কর্মসূচিতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে লাল রঙের 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা।

ভিটামিন 'এ'র অভাবে রাতকানাসহ চোখের অন্যান্য রোগ এবং রক্তশূন্যতাও হতে পারে।

পরের
খবর

নিয়মিত হাঁটলে ওজন কমে


আরও খবর

স্বাস্থ্য
নিয়মিত হাঁটলে ওজন কমে

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

ওজন কমাতে সবাই কত চেষ্টাই না করেন। খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম আরও কত কি। তারপরও ওজন কমে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাঁটার মাধ্যমেও ওজন কমানো সম্ভব । শুধু তাই নয়, নিয়মিত হাঁটলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো একাধিক শারীরিক সমস্যাও প্রতিরোধ করা যায়। 

অনেকই হয়তো জানেন না, ওজন কমানোর জন্য ঠিক কতটা হাঁটা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে প্রতিদিন না হাঁটলেও চলবে। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন একটানা অন্তত ৩০ মিনিট করে হেঁটেও ওজন কমানো সম্ভব। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ৩০ মিনিট হাঁটলেই হৃৎপিণ্ড তার স্থায়ী গতিশীল অবস্থায় পৌঁছে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে হৃৎপিণ্ডের এই স্থায়ী গতিশীল অবস্থা ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ওজন কমাতে হাঁটার নূন্যতম একটা গতি থাকা দরকার। সেক্ষেত্রে ঘণ্টায় অন্তত আড়াই থেকে ৩ কিলোমিটার গতিতে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করা উচিত।   

অবশ্য নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে চিনি এবং অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে বলেছেন তারা।সূত্র : নিউজ এইট্টিন

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সাইনাসের সমস্যা কমবে ঘরোয়া উপায়ে


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

অনেকেরই সাইনাসের সমস্যা আছে। এই সমস্যা তীব্র হলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, সারাক্ষণ নাক-মাথায় ভারী ভাব, এমনকি ব্যথার কারণে জ্বরও চলে আসে। একটু অনিয়ম হলেই এই সমস্যা বাড়তে পারে।

মুখের হাড়ের ভেতরে যে ফাঁপা, বায়ুভর্তি জায়গা থাকে, তার ভিতরের ঝিল্লিতে কোনও রকম বাধা এলে বা জ্বালা করলে সেখান থেকেই সাইনোসাইটিসের সমস্যা শুরু হয়।

যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের সারা বছরই সাবধান থাকা প্রয়োজন। সমস্যা বেশি হলে কখনও কখনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা হতে পারে। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরন করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন-

১. সাইনোসাইটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এক কোয়া রসুন ও এক চামচ মধু যোগ করুন। এই দুটি উপাদানেই একাধিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে কফজনিত অসুখ ঠেকাতে এগুলোর জুড়ি নেই। এক কোয়া রসুনের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে খেলে সাইনাসের আক্রমণ ঠেকাতে পারবেন অনেকটাই।

২. সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে স্যাঁতসেঁতে বা অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া ক্ষতিকারক। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে, এমন জায়গায় থাকুন।

৩. সাইনাসের সমস্যায় মাঝেমধ্যে নাকে গরম ভাপ নিন। বিশেষ করে একটু ঠাণ্ডার প্রবণতা বাড়লে নিয়মিত গরম ভাপ নিন। এতে নাক পরিষ্কার থাকবে। 

৪. আদা, মধুর মিশ্রণ জমে থাকা কফ পরিষ্কারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মধুর অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ক্ষমতা শরীর গরম রাখে। আদা প্রাকৃতির ভাবেই অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল। এই দুই উপাদানের মিশ্রণ প্রতি দিন খেতে পারলে সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

৫. নিয়মিত গরম পানীয় খান। চা-কফি খেলে তাতে চিনি বাদ দিয়ে মধু খান। সাইনাসের সমস্যা হলে গরম স্যুপও খেতে পারেন। 

৬. গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ভাল করে নিংড়ে নিন। এ বার এই তোয়ালে মুখের উপর দিয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। এতে অনেকটা আরাম পাবেন।

৭. সিগারেটের ধোঁয়া, বডি স্প্রে, ধুলোবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। এ সব সাইনোসাইটিসের সমস্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সূত্র : আনন্দবাজার

সংশ্লিষ্ট খবর