স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য খাতের ৮৫ কোটি টাকা নিয়ে তোলপাড়

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ভেস্তে গেল লোপাটের আয়োজন

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য খাতের ৮৫ কোটি টাকা নিয়ে তোলপাড়

  রাজবংশী রায়

স্বাস্থ্য খাতে ৮৫ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে তোলপাড় চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট ঠিকাদারের সঙ্গে মিলে সরকারি পাঁচ হাসপাতালের নামে এই টাকা লোপাটের সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে সিন্ডিকেটটির এই অপতৎপরতা ভেস্তে যায়। জড়িত থাকার অভিযোগে এক উপসচিবকে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দের ৮৫ কোটি টাকা লোপাটের জন্য পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে এক খাতের টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর করার অনুমোদনও বাগিয়ে নেয় এ সিন্ডিকেট। যদিও যেসব হাসপাতালে অর্থ বরাদ্দের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোর সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ সম্পর্কে কিছুই জানত না।

চলতি অর্থবছরের ৩০ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঁচটি সরকারি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পুনঃউপযোজনের প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। উপসচিব রেহানা ইয়াসমিন ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চলতি বছরের ১৪ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। সংশ্নিষ্ট পাঁচটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে- রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পাঁচশ' শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, আড়াইশ' শয্যার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং আড়াইশ' শয্যার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল।

এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ খাতে ৩২৫২১০৫ কোডে ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে সচিবালয় ৪১১২৩১৫ নম্বর কোডে ২০ কোটি টাকা পুনঃউপযোজন  করে একই প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে সচিবালয় ৪১১২৩১৫ নম্বর কোডে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি খাতে ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৫ কোটি টাকা, মুগদা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ২০ কোটি টাকা এবং ২৫০ শয্যার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ২০ কোটি টাকা পুনঃউপযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ৩২৫২১০৫ নম্বর কোডে চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ খাতে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে টাকা কেটে সচিবালয় ৪১১২৩১৫ নম্বর কোডে ১০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এ টাকা ২৫০ শয্যার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পুনঃউপযোজন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে অন্ধকারে রেখে মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র এ ঘটনা ঘটায়। বিষয়টি জানার পর তিনি এই বরাদ্দ প্রত্যাহারের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি চিঠি দিয়ে ওই অর্থ প্রত্যাহার করে নেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুস সামাদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, প্রশাসনিক প্রয়োজনে অর্থ বিভাগের আগের সম্মতি নির্দেশক্রমে প্রত্যাহার করা হলো। উল্লেখিত পুনঃউপযোজনকৃত টাকা থেকে কোনো বিল দাবি করা যাবে না এবং এ বাবদ কোনো বিল পরিশোধ করা যাবে না। এ আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে যারা : নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আমলাদের একটি সিন্ডিকেট ৮৫ কোটি টাকা লোপাট করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঠিকাদার মিঠু যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৮৫ কোটি টাকা পুনঃউপযোজন করে অন্য খাতে নেওয়া হয়েছিল। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও এই ঠিকাদারের নাম এসেছে। ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকার সময় উত্থান ঘটে আলোচিত এ ঠিকাদারের। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সিন্ডিকেট করে একসঙ্গে তিন থেকে চার বছরের টেন্ডার করে যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নেন তিনি। এ সময় কোনো কোনো হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছিল। আবার কোনো কোনো হাসপাতালে নির্ধারিত যন্ত্রপাতির বদলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছিল।

মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঠিকাদার স্বাস্থ্য খাতের কাজকর্মে পিছিয়ে পড়েন। যদিও গত সরকারের আমলে টেন্ডার করে রাখায় এই মেয়াদের প্রথম দুই বছর বরাদ্দ পেতে তাকে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু দুই বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যাপারে জানতে ঠিকাদার মিঠুকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পাঁচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য : মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরে তিনি যন্ত্রপাতি কেনার কোনো চাহিদা পাঠাননি। এ নিয়ে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়াও হাসপাতালে হয়নি। কে বা কারা এ ধরনের বরাদ্দ দিয়েছেন সে সম্পর্কেও তিনি জানেন না। যদিও ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ বাতিলের চিঠি পেয়েছেন।'

প্রায় একই কথা বলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায়। তিনি সমকালকে বলেন, 'যন্ত্রপাতির চাহিদা ছিল; কিন্তু টাকার বরাদ্দ পাইনি। তবে সেটা বছরের প্রথম দিকে। এই অর্থবছরে কোনো চাহিদা দেইনি।'

দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আমির আলী সমকালকে জানান, বরাদ্দ দেওয়া আবার তা বাতিলও হওয়া- এ দুটির কোনোটি সম্পর্কেই জানেন না তারা। গত অর্থবছরের মে-জুন মাসে তারা একটি চাহিদা দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি অর্থবছরে বিশেষ করে আগস্টে কোনো চাহিদা দেননি। তিনি বলেন, এক অর্থবছরের টাকা আরেক অর্থবছরে দেওয়া সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদন দেয়, তাহলে সম্ভব।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উল্লেখিত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কোনো চিঠি দেননি।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আমিন আহমেদ খান সমকালকে বলেন, তিনি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি এখনও কিছু জানেন না।

সচিব ও উপসচিবের বক্তব্য : স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। সমকালের পক্ষ থেকে তার কাছে পাঁচটি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন খাতে পুনঃউপযোজনে সম্মতি প্রত্যাহারের বিষয় তুলে ধরা হয়। এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সচিব বলেন, বিষয়টি তার মনে নেই। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তা পুনঃউপযোজনের জন্য স্বাক্ষর করেছেন, বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

ওই উপসচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেই- এমন তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য চাওয়া হলে সিরাজুল হক খান বলেন, তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, তিনি কোথায় আছেন। অথবা ওই শাখায় যিনি আছেন তার কাছে জানতে চান। বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাশ কাটিয়ে অধীনস্ত উপসচিবের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, পাশ কাটানোর কথা তিনি বলেননি। তিনি বলেছেন যে, বিষয়টি তার মনে নেই। বিষয়টি উনি (উপসচিব) খোলাসা করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসচিব রেহানা ইয়াসমিন সমকালকে বলেন, তিনি এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার দায়িত্বে নেই। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।

সচিবের বক্তব্য জানিয়ে মতামত দিতে বললে রেহানা ইয়াসমিন বলেন, ডেস্ক অফিসার একা কোনো কিছুই করতে পারে না।

সে ক্ষেত্রে কার আদেশে আপনি ওই ফাইলে স্বাক্ষর করেছিলেন?- এ প্রশ্নের জবাবে উপসচিব রেহানা ইয়াসমিন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনার পর আপনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে রেহানা ইয়াসমিন জানান, সার্ভিস ডেকোরামে পড়ে না। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি চাকরি করেন এবং অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন। যেহেতু এখন তারা তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নন, তাই তিনি কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

লিভারের সমস্যার যত উপসর্গ


আরও খবর

স্বাস্থ্য
লিভারের সমস্যার যত উপসর্গ

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৮

  অনলাইন ডেস্ক

লিভার বা যকৃৎ মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি পরিপাক ক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। শরীরের সব বর্জ্যপদার্থ বের করে শরীরকে সুস্থ রাখাই যকৃৎ বা লিভারের কাজ। কিন্তু  লিভার যদি  স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়, তাহলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। লিভার ঠিক মতো কাজ করছে কিনা বা লিভারে কোন ধরনের অসুস্থতা দেখা দিয়েছে কিনা তা কয়েকটি লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে বোঝা যায়। যেমন-

১. যদি হঠাৎ করে খাওয়া-দাওয়ার প্রতি অরুচি বা অনীহা তৈরি হয় তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটা লিভারের কোন সমস্যার কারণে হতে পারে। 

২. পাঁজরের একটু নীচে, পেটের ডান দিকে ব্যথা হলেও লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. কিছু খেলেই বমি বমি লাগে অথবা সারাক্ষন যদি বমি বমি ভাব থাকে তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেকসময় ফ্যাটি লিভারের কারণে এরকম হয়। 

৪.হঠাৎ করে যদি গায়ের চামড়া কোনও জায়গায় খুব শুষ্ক হয়ে যায়, খোসা উঠতে থাকে, তাহলে সেটাও লিভারের সমস্যার কারণে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

৫. প্রসাব এবং পায়খানার রঙ পরিবর্তিত হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। লিভার কিংবা হজমের সমস্যার কারণে এটা হতে পারে। 

৬.যদি হঠাৎ করে চোখের সাদা অংশের রঙ, গায়ের চামড়া হলুদ হতে শুরু তাহলে বুঝতে হবে এটা জন্ডিসের লক্ষণ। এরকম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

৭. যদি  পেটের নিচের অংশ অস্বাভাবিক রকম ফুলে ওঠে এবং দীর্ঘদিন একই অবস্থা থাকে তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : জি নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নারী ও পুরুষদের জন্য কোন মাল্টিভিটামিন উপকারী?


আরও খবর

স্বাস্থ্য

  অনলাইন ডেস্ক

মাল্টিভিটামিন হচ্ছে এক ধরনের সাপ্লিমেন্ট যাতে নানা ধরনের খনিজ, ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অনেকেই খাবারে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে না পেরে বিকল্প হিসাবে মাল্টিভিটামিন খান। এই মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পাউডার, লিকুইড, ইনজেকশন আকারে হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন ধরনের মাল্টিভিটামিন নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য উপকারী? এখানে এ বিষয়ে কিছু ধারণা দেওয়া হল।

পুরুষের নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ প্রয়োজন হয়, যেমন-

ভিটামিন এ : ভিটামিন এ পুরুষের চোখের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি বজায় রাখে।

ভিটামিন সি : এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে রেডিকেলমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে এটি যেকোন ধরনের অসুখ এবং ইনফেকশন থেকে বাঁচায়। ভিটামিন সি ত্বক মসৃণ ও টানটান রাখে।

ম্যাগনেশিয়াম : পুরুষের শরীরে ম্যাগনেশিয়াম নামক খনিজটির প্রয়োজনীয়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিপাকে সহায়তা ও মস্তিষ্ক সুরক্ষা করে। সেই সঙ্গে মাংসপেশী গঠনে ভূমিকা রাখে। 

সেলেনিয়াম : উপাদানটি পুরুষের কর্মশক্তি ও উর্বরতা বজায় রাখে। সেলেনিয়াম থাইরয়েডের ঝুঁকিও যেমন কমায় তেমনি সেল গঠনেও সাহায্য করে। 

কিছু পার্থক্য থাকলেও নারীর শরীরেও প্রায় একই ধরনের ভিটামিন ও খনিজ প্রয়োজন। যেমন-

ভিটামিন এ : ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা, বিভিন্ন অসুস্থতা রোধ করা এবং নানা ধরনের ইনফেকশন প্রতিরোধ করার জন্য নারীর ভিটামিন-এ খাওয়া প্রয়োজন হয়। এছাড়া দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতেও ভিটামিন এ দরকার আছে।

ভিটামিন সি : ত্বকের জন্য ভিটামিন সি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এটি সেল ধ্বংস রোধসহ নারীদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 

ক্যালসিয়াম : নারীর হাড় গঠন ও হাড় ক্ষয় রোধের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই দরকারী। মেনোপোজের আগে ও পরে তাদের শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতি তৈরি হয়।

ফলিক এসিড : নারীদের শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রুণের জন্য ফলিক এসিড বিশেষ দরকারী উপাদান। সূত্র : হেলদিবিল্ডার্জড


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শীতকালীন অ্যাজমায় সতর্কতা


আরও খবর

স্বাস্থ্য
শীতকালীন অ্যাজমায় সতর্কতা

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮

  ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

ঋতুর পরিবর্তনে আবহাওয়ারও পরিবর্তন হয়। এতে অনেকের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শীতকালে বিভিন্ন বয়সের মানুষের শীতকালীন কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বা শীতজুড়ে অসুস্থ থাকেন। এর বেশিরভাগ হয়ে থাকে কোল্ড অ্যালার্জির কারণে। ঠাণ্ডা বাতাস, সিগারেটের ধোঁয়া, সুগন্ধি, পত্রিকা বা বই-খাতার ধুলা যাতে মাইট থাকে, ফুলের রেণু ইত্যাদির উপস্থিতি অনেকেই একেবারে সহ্য করতে পারেন না। এসবের উপস্থিতি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অ্যাজমা, সর্দি ইত্যাদি দেখা দেয়। এসব বিষয়কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালারজেন বলা হয়। এসব অ্যালারজেনজনিত উপসর্গকে আমরা অ্যালার্জি বলে থাকি।

নাসারন্ত্র ও শ্বাসনালিতে স্নায়ুকোষের কিছু রিসেপ্টর আছে। এই রিসেপ্টরগুলো আবার ভ্যাগাস নার্ভ, যা শ্বাসনালি ও কণ্ঠনালির মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণকে উদ্দীপ্ত করে এর সঙ্গে সংযুক্ত। এর আগে উল্লেখিত অ্যালারজেনগুলো শ্বাসনালির রিসেপ্টর নার্ভকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে শ্বাসনালির মাংসপেশির সংকোচন ঘটে এবং শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়, তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি দেখা দেয়।

সাধারণত শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা দেয়, তবে যে কোনো বয়সেই হতে পারে। শীতকালে কেন এ উপসর্গ বেশি হয়, তা এখনও পরিপূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে অনেক রোগীর সামগ্রিক অবস্থা পরীক্ষা করে কিছু লক্ষণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। যেমন- আবহাওয়ার অবস্থা, দ্রুত তাপমাত্রা এবং বায়ুচাপের পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা মোল্ড ও মাইট-এর বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী, যা শীতকালীন রোগের কারণগুলোর অন্যতম। নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাক চুলকায়, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বাঁশির মতো আওয়াজ বের হওয়া, বুক চেপে আসা লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে কোল্ড অ্যালার্জি হয়েছে।

যেসব কারণে এ উপসর্গগুলো দেখা দেয়, অ্যালার্জি পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করে তা পরিহার করে চলা উচিত। ঠাণ্ডা বাতাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এক ধরনের মুখোশ বা মুখবন্ধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। সালবিউটামল ইনহেলার নেওয়া যেতে পারে। কারণ, এ ওষুধ উপসর্গ নিসরণে প্রথম পছন্দনীয় ওষুধ। দীর্ঘমেয়াদি ভালো থাকার জন্য স্টেরয়েড ইনহেলার নেওয়া যেতে পারে। আগে ধারণা ছিল, অ্যালার্জি একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রথম দিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নত দেশের সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে। তাই সময়মতো অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


লেখক: ডিন, মেডিসিন অনুষদ; অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সংশ্লিষ্ট খবর