বিনোদন

‘ইতিহাসে আমার নাম লেখা হয়ে গেলো’

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৯

‘ইতিহাসে আমার নাম লেখা হয়ে গেলো’

আহমেদ রুবেল

  বিনোদন প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার বায়োস্কোপ ডট কম-এ প্রকাশ পেয়েছে তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ 'ফেলুদা- নয়ন রহস্য'। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত এ ওয়েব সিরিজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো  তার সঙ্গে-

ওয়েব সিরিজে অভিনয় করলেন সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজ দিয়ে। এই সিরিজ নিয়ে কতটা আশাবাদী?

'ফেলুদা- নয়ন রহস্য' ওয়েব সিরিজ অনেকের ভালো লাগবে- এটুকু আশা করতেই পারি। বেশ কিছু কারণে এই সিরিজ নিয়ে আমি আশাবাদী। 'ফেলুদা' সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি। তাকে নিয়ে লেখা গল্প, উপন্যাস ভারতের পাশাপাশি এ দেশের পাঠকের কাছেও শুরু থেকে এখনও সমান জনপ্রিয়। এমনকি 'ফেলুদা' সিরিজের উপন্যাস নিয়ে যত সিনেমা হয়েছে, সবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেসব কথা মাথায় রেখেই এ দেশে প্রথম ফেলুদার কাহিনী নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সময় ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা ছিল। তারপরও শিল্পী, নির্মাতাসহ ক্যামেরার সামনে ও পেছনের সবাই নিজের সেরা কাজ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাই কাহিনী যত পুরনোই হোক না কেন, দর্শকের কাছে তা সময়োপযোগী মনে হবে। 

ফেলুদা দেখেছেন, পড়েছেন। এবার নিজেই ফেলুদা বনে গেলেন, বিষয়টি কেমন উপভোগ করছেন?

ফেলুদার নাম ভূমিকায় অভিনয় করছি- এটা যতটা না আনন্দের তার চেয়ে বেশি ছিল চ্যালেঞ্জিং। কারণ ফেলুদা সিরিজের উপন্যাসগুলো বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো পাঠক পড়েছেন, এখনও পড়েন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি দেশের পাঠকের মাঝে সাড়াও জাগিয়েছে ফেলুদা সিরিজের কাহিনীগুলো। এতে করে পাঠকের মনের মাঝে ফেলুদার একটি অবয়ব তৈরি হয়েছে। ফেলুদাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বানানো সিনেমাগুলোয় দর্শক কয়েকজন অভিনেতার চেহারায় দেখেছেন। এ কারণে ফেলুদা চরিত্রটি কেমন হতে পারে- তা নিয়েও অনেকে জল্পনা-কল্পনা করেন। তাই পর্দায় নতুন করে কেউ এই চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরবেন এবং দর্শকের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে- বিষয়টা এত সহজ নয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শশী কাপুর, সব্যসাচী থেকে শুরু করে আবির পর্যন্ত যারা ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাদের পর নতুন করে আমার জন্য এই চরিত্রে অভিনয় সহজ ছিল না। তাই চেষ্টা করেছি চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য নিজের সেরা অভিনয় বের করে আনার। কারণ এমন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্য বলেই মনে করি। তারচেয়ে বড় কথা ফেলুদা চরিত্র দিয়ে ইতিহাসে নাম লেখা হলো আমার। কেননা এ দেশে আমিই প্রথম এই চরিত্রে অভিনয় করলাম। 

আহমেদ ছফার উপন্যাস নিয়ে নির্মিত 'অলাতচক্র' ছবিতে অভিনয় করছেন। এর কাজ কতদূর এগোলো?

ফেব্রুয়ারি মাসে ছবির প্রথম লটের কাজ শেষ করেছি। দ্বিতীয় লটের কাজ শুরু হবে জুনের শেষের দিকে। উপন্যাসনির্ভর এই ছবিতে দর্শক নতুন এক চরিত্রে আমাকে দেখবেন, যে ধরনের চরিত্রে তারা আগে কখনও দেখেননি। 

অভিনয়ে প্রায়ই বিরতি নিচ্ছেন, এর কারণ কী?

পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণেই গত দু'বছরে বেশ কয়েকবার অভিনয়ে বিরতি নিতে হয়েছে। অভিনয়ে ব্যস্ত হওয়ার মতো পরিবেশও পাচ্ছিলাম না। আগেও কম কাজ করেছি। কারণ শুটিং স্পটে গেলে টাকা পাওয়া যেত ঠিকই কিন্তু স্ট্ক্রিপ্ট পড়ে মন খারাপ হয়ে যেত। এ কারণেই অভিনয়ে আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু খেয়াল করে দেখলাম, মানহীন নাটকের সংখ্যা বাড়লেও ভালো কাজ এখনও হচ্ছে। এর পরই অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অভিনয়ে অনিয়মিত- এই অভিযোগ যেন আর শুনতে না হয়, যে জন্য আবার পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, সামনে আর বিরতি নেওয়া লাগবে না।

এ সময়ে কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

নুরুল আলম আতিকের 'পেয়ারার সুবাস' ছবির কাজ শেষ করেছি। আসছে ঈদে মামুনুর রশীদের লেখা 'অচিন সীমান্তে' নামে তিন পর্বের একটি নাটকে আমাকে দেখা যাবে। এরই মধ্যে এর শুটিং শেষ হয়েছে। এটি প্রচার হবে বিটিভিতে। চরিত্রটি খুব সাধারণ সহজ-সরল একজন মানুষের। 

কী রকম?

আমাকে দেখা যাবে 'জগরু' চরিত্রে। মানুষটি দিনের বেলায় একরকম, আর রাতের বেলায় অন্যরকম। মাঝে মাঝে মাতাল হয়ে সত্য কথা বলে। যারা অন্যায় করে তাদের বিপক্ষে কথা বলে। অনেককে আবার সাহস জোগায়। দেখতে পাগল পাগল মনে হলেও যা বলছে, করছে তা কোনো স্বার্থ ছাড়াই মানুষকে ভালোবেসে করছে। সমাজে যাদের সত্য-ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার কথা, তারা করছে না। সে করছে। নাটকে অনেক বক্তব্য রয়েছে। 

টিভি নাটকের বর্তমান অবস্থা আপনার কেমন মনে হয়?

এক কথায় বলব, ভালো নয়। শিল্পীর সংখ্যা বেড়েছে। আয়-ব্যয় হচ্ছে। প্রতিদন গড়ে এখন প্রায় নব্বইটি নাটক প্রচার হয়। বছরে হিসাব করলে দেখা যায় ১০টি মনে রাখার মতো ভালো নাটকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ ২০ বছর আগের নাটকের কথা এখনও মানুষের মুখে ফেরে। নাটকের গল্প হারিয়ে গেছে। সিনেমার মতো নাটকেও ধস নেমেছে।

মন্তব্য


অন্যান্য