বিনোদন

'নিসচা'র সঙ্গে না থাকায় ওয়ালটন ছাড়লেন ইলিয়াস কাঞ্চন

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৯

'নিসচা'র সঙ্গে না থাকায় ওয়ালটন ছাড়লেন ইলিয়াস কাঞ্চন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

  অনলাইন ডেস্ক

ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য প্রস্তুতকারী দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিআরইউতে এক সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্র তারকা ও 'নিরাপদ সড়ক চাই' (নিসচা) আন্দোলনের পথিকৃৎ ইলিয়াস কাঞ্চন এ ঘোষণা দেন।  

২০০৫ সাল থেকে 'ওয়ালটন' গ্রুপের সঙ্গে ছিলেন এ নায়ক। ফলে দেশের অনেকেই মনে করতেন ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে ওয়ালটনের মালিকানাগত বিষয় জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, 'এটা আসলে আমার ভক্তদের ভুল ধারণা।’  

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশের অনেকেই মনে করেন আমি ওয়ালটনের একজন মালিক। যে কারণে প্রায়ই আমার কাছে লোকজন চাকরির তদবিরসহ বিভিন্ন আবদার নিয়ে আসতেন। আমি তাদের বুঝিয়ে বলতাম। সে সময় হয়তো কারো কারো ভুল ভাঙতো।  আবার অনেকে মনে করতো আমি তাদের এরিয়ে যাচ্ছি।’

তাহলে ওয়ালটনের কী ছিলেন এ নায়ক? সেটি পরিস্কার করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, 'আমি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলাম। মূলত ওয়ালটনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম তাদের একটি কথায়। তারা বলেছিল ওয়ালটন মানে নিরাপদ সড়ক চাই, নিরাপদ সড়ক চাই মানে ওয়ালটন। যে কারণে আমি তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হই। দেশের বিভিন্ন স্থানে শুধু ওয়ালটনের শো রুম উদ্বোধন করেছি তা নয়, সেখানে একটি সমাবেশের আয়োজন করতো তারা। আমি সেখানে দেশি পণ্য ওয়ালটন ও নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে বলতাম। দীর্ঘ পথচলায় আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকা এবং দেশি পণ্য ওয়ালটন ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। আমার মনে হয়, ওয়ালটনকে ঘরে ঘরে পৌছানের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি।'

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও জানান, ৩/৪ বছর ধরে ওয়ালটন শো রুম উদ্বোধনে তাকে আর ডাকা হচ্ছে না। যে কারণে জনসমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, 'ওয়ালটনের সঙ্গে 'নিরাপদ সড়ক চাই'য়ের একটা যৌথ প্রজেক্ট ছিল। প্রজেক্টটি হলো, এসএসসি পাস দরিদ্র বেকারদের গাড়িচালক হিসেবে তৈরি করে বিনা ফিতে লাইসেন্স করিয়ে কর্মক্ষম করে তোলা। প্রজেক্টটির উদ্দেশ্য হলো, সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।  ওয়ালটন ২০১১ সাল থেকে প্রজেক্টে সহায়তা করতো। কিন্তু এসব আয়োজন ওয়ালটন বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি আমাকে মর্মাহত করেছে। ফলে তাদের সঙ্গে আমার আর সম্পর্ক থাকছে না।' 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন 'নিরাপদ সড়ক চাই'য়ের  যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ, লায়ন গনি মিয়া বাবুল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, প্রচার সম্পাদক কেএম ওবায়দুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন খান, নজরুল ইসলাম ফয়সাল, আজীবন সদস্য জেবুন্নেসা, সাধারণ সদস্য আনজুমান আরা তন্নি, মোহসিন খান প্রমুখ।

মন্তব্য


অন্যান্য