বিনোদন

গায়ক থেকে প্রযোজক

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

গায়ক থেকে প্রযোজক

কণ্ঠশিল্পী সালমা

  অনলাইন ডেস্ক

'মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টে যে সত্য জেনেছি, তা মনে আঁচড় কেটেছে। লাখো প্রাণের বিনিময়ে যে মুক্ত স্বাধীন দেশের মানচিত্র আঁকা হয়েছে, সেই দেশের সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত। দেশের জন্য আমারও কিছু করা দায়িত্ব বলেই মনে করি। আমি শিল্পী, তাই গানে গানেই বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে চাই। আরও চাই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে, এ দেশের মাটির গান কতটা সমৃদ্ধ। সেজন্যই বাউলিয়ানায় মেতে আছি।' লোক ও দেশের গানের নিয়মিত আয়োজন নিয়ে এমন কথাই শোনালেন কণ্ঠশিল্পী সালমা। এ শুধু ইচ্ছা প্রকাশ নয়, নতুন আয়োজনের মধ্য দিয়েও তা করে দেখিয়েছেন এই তারকা কণ্ঠশিল্পী। 'আশায় আশায়' ও 'বাংলাদেশ' গানে তিনি আবারও শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে।

গায়কীতে নিজেকে ভাঙার এই প্রয়াসে সালমা ভক্তরা কিছুটা অবাক হলেও সাধুবাদ জানাতে ভুলে যাননি। কারণ তারা এটাও জেনেছেন, সালমা নানা ধরনের গানের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাঙা চেষ্টা করলেও লোকগান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। আধুনিক গানেও রাখছেন সময়ের ছাপ। কিছুদিন আগে প্রকাশিত 'প্রাণ ভোমরা', 'আপন মানুষ', 'আমাকে ছাড়িয়া বন্ধু' গানগুলো তার বড় প্রমাণ।

সালমা

সালমা বলেন, 'অনেকেই শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণে নানা ধরনের আয়োজন করেন। আমিও চাই গায়কীতে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাংতে। কিন্তু নতুন কিছু করার প্রয়াসে নিজস্বতা বিসর্জন দিতে চাই না। যেজন্য নানা ধরনের গান করলেও শিকড়ের গান থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার কথা ভাবি না। কারণ লোকগান আমার কাছে সাধনার মতো।' সালমার মুখে এমন কথা শোনা যাবে- এটা ছিল প্রত্যাশিত। সে কারণে তার কাছে জানতে চাওয়া, কিংবদন্তি বাউল লালন শাহের কালজয়ী গান নিয়ে ধারাবাহিক যে অ্যালবামের কথা বলেছিলেন, তার কাজ কতটুকু এগোল? জবাবে সালমা বলেন, 'শুরুতে অ্যালবাম প্রকাশের কথা ভাবলেও এখন সে পরিকল্পনা বাদ দিয়েছি। একক গান হিসেবে ধারাবাহিকভাবে এক এক করে সাঁইজির গান প্রকাশ করব। গানের সঙ্গীতায়োজন সময়োপযোগী হলেও কথা ও সুর থাকবে অবিকৃত। অনেকে নতুন মাত্রা যোগ করতে বাউল বা লোকগানের কথা, সুরে পরিবর্তন নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। শিল্পী হিসেবে এটা আমি সমর্থন করি না। শিকড়ের গানের কথা ও সুর বদলে দিলে তার গানের নির্যাসটা হারিয়ে যায়- এটাই আমার ধারণা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে সঙ্গীতায়োজনে ভিন্নতা আনা যেতে পারে। কিন্তু কথা, সুর বদলে গেলে তো গানের প্রকৃত আদলটাই হারিয়ে যায়। তাই লোকগান নতুন করে প্রকাশের বিষয়ে সচেতন থাকি।' 

নিজের কাজের এমন মনোভাব হয়তো সালমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। যেজন্য সালমা হয়ে উঠেছেন সময়ের নন্দিত শিল্পীদের একজন। নতুন খবর হলো, সালমার পরিচয় এখন শুধু কণ্ঠশিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গান ও অ্যালবাম প্রযোজক ও প্রকাশকদের তালিকায়ও উঠে এসেছে তার নাম। সম্প্রতি 'স্নেহা অ্যান্ড সূর্য' নামে অ্যালবাম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন তিনি। প্রযোজক হিসেবে সালমার পরিকল্পনা কী? এর উত্তরে তিনি বলেন, 'স্নেহা অ্যান্ড সূর্য' প্রতিষ্ঠা করেছি একটা স্বপ্ন পূরণের জন্য। সে স্বপ্নটা হলো, নিরীক্ষাধর্মী কাজের পাশাপাশি নতুনদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া। এক সময় নিজেও নতুন ছিলাম।

এনটিভির মতো একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছিলাম বলেই আমি আজকের সালমা। এজন্য নতুনদের সুযোগ করে দিতে 'স্নেহা অ্যান্ড সূর্য' নামের একটি সঙ্গীত প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছি। অন্য যেসব অ্যালবাম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করার ইচ্ছায় এটি তৈরি করিনি। এজন্য আমাকে কেউ অ্যালবাম প্রযোজক ভাবুক এটাও চাই না। আমি গানের মানুষ, গানের সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চাই।' সালমার কথায় স্পষ্ট, গানের বাণিজ্যিক দিক নয়, সম্ভবনাময় শিল্পীদের সুযোগ তৈরি করে দিতেই প্রযোজনায় এসেছেন।

সালমা

যেজন্য কণ্ঠশিল্পী পরিচয়কে তিনি বড় করে দেখছেন। তার কথায় একটা বিষয় আরও স্পষ্ট, তাহলো- শিল্পীজীবনের অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজেকে আরও পরিণত করতে চান সালমা। তার কথা, কাজ এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা শুনে সে কথারই আভাস পাওয়া যায়। যেজন্য এখন আরও এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, কোজআপ ওয়ান তারকা খেতাব পাওয়া কিশোরী সালমা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। নিজেকে নিয়ে ভাঙা-গড়ায় যে শিল্পী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, গানের পাশাপাশি নারী অধিকার নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

দেশের বাইরে গিয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার কথাও জানালেন। বললেন, শিল্পী হিসেবে যেমন গানে গানে মানুষকে আনন্দ দিতে চাই, তেমনি সবার দুঃখ-সুখ ভাগাভাগি করে নিতে পাশে থাকতে চাই। এজন্য নারী ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছি। শিল্পীও একজন মানুষ- এই কথা বিশ্বাস করি বলেই আগামীতে নতুন এক সালমার সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।' 


     

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মোদির বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত আমির


আরও খবর

বিনোদন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (বাঁয়ে) সঙ্গে আমির খান— জিনিউজ

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান।

শনিবার ভারতীয় সিনেমার জাতীয় জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশংসায় ভাসান এ তারকা। ওই জাদুঘরের উদ্বোধক ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তার বক্তৃতা শোনার পরই তার বক্তব্যে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় আমির খানকে।

বছর চারেক আগে আমির খান বলেছিলেন, এই দেশে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার স্ত্রী আতঙ্কিত। তিনি দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান। মোদি জমানার দেড় বছরের মাথায় একজন সেলিব্রিটির মুখ থেকে এমন বক্তব্য শুনে হইচই পড়ে গিয়েছিল ভারতজুড়ে।

সেই সময় অনেকে আমিরকে সমর্থন করেছিলেন। আবার অনেকে আমিরের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন। দেশে বাক্-স্বাধীনতা রয়েছে বলেই আমির এসব মন্তব্য করতে সুযোগ পাচ্ছেন বলেও অনেকে সেই সময় মন্তব্য করেছিলেন।

ফলে নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে নতুন করে আমির খানের এই প্রতিক্রিয়ায় আবারও হইচই শুরু হয়েছে। কারণ, চার বছর আগে আমির আসলে মোদি সরকারকে আক্রমণ করেই বক্তব্য দিয়েছিলেন। ফলে এবার কেন তিনি মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে আমিরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি শনিবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিনেমার জাদুঘরের উদ্বোধনের পর বক্তৃতা দেন। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন আমির খান।

তার প্রতিক্রিয়ায় বলিউডের এই অভিনেতা বলেন, 'ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সম্বন্ধে প্রধানমন্ত্রী এই ইতিবাচক মনোভাব দেখে খুবই ভালো লাগল। শিল্পজগত ও শিল্পীদের নিয়ে তার দর্শন দেখেও ভালো লেগেছে। অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো এমন একটি বক্তৃতা শুনতে পারাটা সত্যিই ভালো।'

প্রসঙ্গত, শনিবার মুম্বইয়ের ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিল গোটা বলিউড। অধিকাংশ কলাকুশলীর সঙ্গে মোদি আলাদাভাবে কথা বলেন। সেই কথাবার্তা সম্বন্ধে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বলিউডের অনেকেই। ট্যুইট করেছেন অনেকে, যেগুলো রি-ট্যুইট স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্র: জিনিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'ভালবেসেছিলাম, কিন্তু সম্পর্কগুলো ব্যর্থ ছিল'


আরও খবর

বিনোদন

  অনলাইন ডেস্ক

টালিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা অভিনীত ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবার। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে স্বস্তিকার অভিনয় এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে নানা মহলে। 

তবে ছবি মুক্তির আগে থেকে সৃজিতের ছবিতে স্বস্তিকার উপস্থিতি নিয়ে সরগরম ছিল গোটা ইন্ডাস্ট্রি। কারণ একসময় সৃজিত-স্বস্তিকার ব্যক্তিগত রসায়ন ছিল অনেকের চর্চার বিষয়। আবার ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ ছবির অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং স্বস্তিকার সম্পর্কও একসময় আলোচিত ছিল। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দুই প্রাক্তনের সঙ্গে স্বস্তিকার কাজ করা নিয়ে ছবি মুক্তির আগে থেকেই নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়। তৈরি হয় নানা গুজব। ছবি মুক্তির পর সামাজিক মাধমে এসব গুজবের ভালই জবাব দিয়েছেন স্বস্তিকা।

শুক্রবার ফেসবুকে স্বস্তিকা লিখেছেন, ‘এই ছবিতে কাজ করা প্রাক্তনদের সঙ্গে কাজ করার কোনও বিষয় নয়। ছবিতে এমন এক চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি যেটা কোনও অভিনেতা হয়তো সারা জীবনেও পাবেন না। এই চরিত্র পাওয়া মানে অভিনেতা হিসেবে একটা উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়া।’

তিনি আরও জানান, ছবির চরিত্রটা তিনি গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী ফুটিয়ে তুলেছেন। স্বস্তিকা জানতেন, এই ছবিতে কাজ করলে তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো আবারও মিডিয়ায় আলোচনা হবে।

এ কারণে তিনি লিখেছেন, ‘এটা সত্যি, আমি ভালবেসেছিলাম। কিন্তু সেই সম্পর্কগুলো কাজ করেনি।’ ভালবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হলেও অভিনেতা হিসাবে নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন না স্বস্তিকা।এই ছবিতে তার অভিনয় মানুষ মনে রাখবে এমনটাই দাবী করেন তিনি।

স্বস্তিকা লিখেছেন, ‘আমি আমার কাজটা করেছি। বাকিটা আপনাদের হাতে।’

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কি হয়েছিল স্বরার সঙ্গে?


আরও খবর

বিনোদন
কি হয়েছিল স্বরার সঙ্গে?

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

স্বরা ভাস্কর- ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতে '#মিটু' আন্দোলনের মশাল জ্বালিয়ে দিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তবে তিনি ফিলে গেলেও এখনও বহু তারকা নিজেদের যৌন হেনস্তার ঘটনা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন। এবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার খবর জানালেন 'ভিরে দি ওয়েডিং' খ্যাত অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।

জি-নিউজ জানায়, অন্যান্য বলিউড অভিনত্রীর মতো স্বরা ভাস্করও যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বরার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই দু:সহ স্মৃতি কথা বর্ণনা করেছেন।

স্বরা জানান, এক পরিচালক তাকে যৌন হেনস্তা করে। কিন্তু তিনি যে এই বিরুপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, তা সে সময় বুঝতেই পারেননি নায়িকা। অবশ্য সেই পরিচালকের নাম মুখে আনেননি স্বরা।


স্বরা আরও জানান, সেই ঘটনা বুঝতে আমার ছয় থেকে আট বছর  সময় লেগেছিল। সে সময় কোনও একটা আলোচনায় আমি অন্য কাউকে তার হেনস্তার কথা বলতে শুনেছিলাম। তখন আমি ভেবেছিলাম, আমার সঙ্গে যেটা হয়েছিল কাজের জায়গায় সেটাও তো তা হলে যৌন হেনস্তা! আমাকে রীতিমতো লুঠ করেছিল ওই পরিচালক।

এতদিন পর তিনি মুখ খুললেও, সামাজিক ভাবে আরও বেশি সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।