বিনোদন

আমি আমার মতো চলছি, থামছি না: মনীষা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮

আমি আমার মতো চলছি, থামছি না: মনীষা

মনীষা কৈরালা

  অনিন্দ্য মামুন

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। বলিউডের অন্যসব তারকাদের চেয়ে অনেক দিক দিয়েই আলাদা তিনি। নেপালের শীর্ষস্থানীয় এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। মিষ্টি হাসির অভিনয়ের জন্য নব্বই দশকের হাজার হাজার তরুণের স্বপ্নে নায়িকা ছিলেন তিনি। একসময় আক্রান্ত হন ক্যান্সারে। দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বিজয়ী হয়ে ফিরেছেন আপন ঘরে। শুরু করেন জীবনের নতুন ইনিংস। পর্দার বাইরেও অন্য এক মনীষা কৈরালাকে জানেন সবাই। একজন সামাজিক কর্মী হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত তিনি। পরিচিত লেখক হিসেবেও। নিজের জীবনের সংগ্রাম নিয়ে লিখেছেন প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য বুক অব আনটোল্ড স্টোরিজ’।   ‌বিশ্বের অন্যতম সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লিট ফেস্টে’র অতিথি হয়ে এ তারকা এখন ঢাকায়। শুনালেন তার জীবনের নানা গল্প। 

সমকাল: বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে?

মনীষা কৈরালা: বাংলাদেশের এতো বড় একটা আয়োজনে আমাকে অতিথি করেছেন। এই জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। সাহিত্যের এতো বড় আসরে উপস্থিত হওয়া যে কোন লেখকের জন্যই আনন্দের। এখানে এসে আমার বই নিয়ে কথা বলছি। এটা আমার জন্য অন্য রকম ভালো লাগার। 

মনীষা কৈরালা

সমকাল: ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে জিতেছেন। এর সবচেয়ে কঠিন পর্ব কোনটা ছিল?

মনীষা কৈরালা: আমার পরিবার, বিশেষ করে মা প্রতি পদক্ষেপে আমাকে সাহায্য করেছেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যেতাম, কান্নাকাটি করতাম। নিউ ইয়র্কে যখন চিকিৎসার জন্য ছিলাম, নিজের চোখে দেখেছি আমরা মানুষ কতটা একা!  হতাশ হয়ে বসে থাকত। মনে মনে ঠিক করেছিলাম, নিজেকে এ ভাবে শেষ করব না। যদি মরতেই হয়, সাহসের সঙ্গে লড়াই করব। আমার চুল যখন পুরো উঠে গিয়েছিল, তখন আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম। মা বোঝাতেন যে, আমি নিজেই পারব নিজের সঙ্গে লড়াই করতে। হাল ছাড়িনি। তাই হয়তো এই লড়াইয়ে জিততে পারলাম। 

সমকাল: ‘দ্য বুক অব আনটোল্ড স্টোরিজ’ তো সেই জয়েরই একটা দলিল? 

মনীষা কৈরালা: সেটা বলতে পারেন। তবে এটাতে আমি অনেক কিছু বলতে চেয়েছি। মানুষকে বলতে চেয়েছি হাল ছাড়া আমাদের কাজ নয়। আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য। প্রতিটি কাজেই আমাদের লড়াই করে জিততে হয়। আমৃত্যু মানুষকে লড়াই করতেই হবে। আর এ জন্য আমাদের প্রাণবন্ত থাকাও বাঞ্চনীয়।

সমকাল:আপনার এই জয়ী হওয়াটা অনেকেই আপনার পূনজন্ম ভাবছেন?

মনীষা কৈরালা: পূনজন্ম শব্দটা আমার কাছে খুব একটা গুরুত্বের নয়। এটা নিয়ে ভাবিও না আমি। তবে কাছে সাহসী থাকা, প্রাণবন্ত থাকাটা জরুরী। জীবনের  দুই পিঠই আমার দেখা। ভালো খারাপ দুটির সঙ্গে থেকেছি বলতে পারেন। জীবনের কঠিন সময়টাকে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রাখিনি। আমি আমার মতো চলছি। থামছি না। থামতে চাইও না। 

সমকাল:বলিউডে এখনও নারী শিল্পীরা তেমনভাবে সামনে আসতে পারছে না। নায়ক নির্ভরই থাকছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন? 

মনীষা কৈরালা: আপনি নারী-পুরুষের যে বিষয়টি জানতে চাইলেন এই বিভেধটা শুধু বলিউড নয়, সব ক্ষেত্রেই কিন্তু রয়েছে?  খেয়াল করবেন, বাণিজ্যিক ও ভিন্নধারার ছবির মধ্যে আমরা আমাদের সময়ে অনেকটা সমতা রাখতে পেরেছিলাম। এক সময়ে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকও পেয়েছি আমরা। এখনও বলিউডে নায়কদের চেয়ে অনেক নায়িকারাই পারিশ্রমিক বেশি নিচ্ছেন। যারা ভালো করছেন তারা প্রাপ্যটা অবশ্যই পাবেন। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বিভেদ-দেখিনা আমি। 

সমকাল: আপনার কাজগুলোকো কীভাবে মূল্যায়ণ ও নির্বাচন করে থাকেন? 

মনীষা কৈরালা: আমি যা করি ভালোবেসে করি। আমার প্রতিটি কাজের মাঝেই আমার অন্যরকম ভালোবাসা। আর চলচ্চিত্রের কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি গল্পটা আগে দেখি। এরপর আমার চরিত্র। পথ চলার রাস্তাটাও পরিমাপ করার চেষ্টা করি। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

'ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়নি'


আরও খবর

বিনোদন
'ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়নি'

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

তৌকীর আহমেদ। তারকা অভিনেতা ও নির্মাতা। সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে তার নতুন ছবি 'ফাগুন হাওয়ায়'-এর পোস্টার। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত এ ছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথায় হয় তার সঙ্গে-

চলচ্চিত্র নির্মাণে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে বেছে নেওয়ার কারণ কী?

বায়ান্নর একুশ ফেব্রুয়ারিতেই একাত্তরের সূচনা হয়েছিল। এ কারণেই আমাদের জাতীয় জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বায়ান্নতেই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম, পাকিস্তানিদের কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ নেই। তাই স্বাধিকার নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই ছিল দাসত্বের শিকলে বেঁধে রাখা। তা মানতে পারিনি বলেই আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। যার ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। এই যে এত বড় ঘটনা- এটা কেন সিনেমায় উঠে আসবে না? এই প্রশ্নই বহুবার নিজেকে করেছি। এরপরই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলেনের পটভূমিতে সিনেমা নির্মাণ করার।

গত কয়েক দশকে বেশ কিছু ছবিতে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা উঠে এসেছে...

এটা ঠিক যে, এর আগেও বেশ কিছু ছবিতে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা স্থান পেয়েছে। কিন্তু সেটা ছবির গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এটাও সত্যি যে, এখনও ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়নি। অনেক আগেই এটা হওয়া উচিত ছিল। কারণ আমাদের জাতিসত্তার মূলই হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। 

তৌকীর আহমেদ

৫২র ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবিতে কতটা তুলে ধরতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

ভাষা আন্দোলনের পুরো ইতিহাসকে একটি ছবির ফ্রেমে বন্দি করা সম্ভব নয়। যে জন্য 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবিতে আমরা একটি মফস্বলের সেই সময়ের মানুষের ভাবনা, আন্দোলন, চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছি, যা ঢাকা শহরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি ছবির মাধ্যমে যতটা স্পষ্ট করে ঐতিহাসিক এই ঘটনা তুলে ধরা যায়, সেটাই করে দেখানোর চেষ্টা করেছি। শুধু আমি নই, ছবির অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা সবাই যার যার সেরা কাজটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যে জন্য 'ফাগুন হাওয়ায়'-এর মতো ছবি নির্মাণ করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি। 

ছবি মুক্তির তারিখ কি চূড়ান্ত হয়েছে?

হ্যাঁ,  আপাতত মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত।  আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি 'ফাগুন হাওয়ায়' মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভাষা দিবসের মাসেই আমরা ভাষা দিবসের ছবিটি মুক্তি দিতে চাই। 

মুক্তির আগে ও পরে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা আছে?

আগের ছবিগুলোর মতো দেশের বাইরে বিভিন্ন উৎসবে যাওয়ার 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবিটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। বড় কথা হলো, আমরা যেসব উৎসবে অংশ নিই, সেখানে আমরা জাতীয় পতাকাই বহন করি। 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবির ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। এ ছবি শুধু ইতিহাসকে জানাবে না, একই সঙ্গে বিনোদনও দেবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে দীপিকা


আরও খবর

বিনোদন

রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন

  অনলাইন ডেস্ক

ইতালির লেক কোমোয় বিয়ে সেরেছেন। অনেকটা গোপনেই বিয়ের কাজ সেরেছেন তারা। বিয়েতে পরিবারের লোকজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব সহ উপস্থিত ছিল মাত্র ৪০ জন অতিথি। এবার বড় পরিসরে হচ্ছে বিয়ের সংবর্ধনা। ২১ নভেম্বর বেঙ্গালুরুতে আয়োজন করা হয়েছে এক গ্র্যান্ড রিসেপশনের। সেই উপলক্ষ্যেই বেঙ্গালুরু উড়ে গেলেন নতুন এই দম্পতি।

বেঙ্গালুরে যাওয়ার আগে ছত্রপতি শিবাজি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ক্যামেরাবন্দি হন এই দম্পতি। বিজ রংয়ের আনারকলিতে দেখা যায় দীপিকাকে। গলায় শোভা পাচ্ছিল মঙ্গলসূত্র। অন্যদিকে রণবীরকে দেখা যায় সাদা কুর্তা-পাজামা ও ফ্লোরাল জয়াকোটে। 

রণবীর ও দীপিকা

বিয়ের পরে দারুণ খোশমেজাজে আছেন দুজনে। আর তাই পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার দিকে হাসি মুখ তাকিয়ে ছবি তুলেছেন তারা। এরপর দুজনেই হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে এয়ারপোর্টে ঢুকে গিয়েছেন।

২৮ নভেম্বর মুম্বইয়ের দা গ্র্য়ান্ড হায়াতে আরও একটি রিসেপশন হবে যেখানে উপস্থিত থাকবেন বলিউড তারকারা। আমন্ত্রিত অতিথিদের একটি কার্ডও পাঠানো হয়েছে দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

চীনে বিড়ম্বনায় ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’


আরও খবর

বিনোদন

মিস ওয়ার্ল্ডের অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ঐশী

  অনলাইন ডেস্ক

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় সেরার মুকুট করে ঐশী এখন অংশ নিয়েছেন চিনে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশসেরা এ সুন্দরী। তবে সেখানে ভালো নেই তিনি। পড়তে হচ্ছে বেশ বিড়ম্বনায়। সম্প্রতি ফেসবুকে লাইভে জানালেন বিড়ম্বনার কথা। 

তবে এ বিড়ম্বনা চীনে গিয়ে নয়  অনলাইন মোবাইল প্লাটফর্ম  মবস্টারে তার নামে একাধিক ভূয়া আইডির কারণেই বিড়ম্বনায় পড়ছেন ঐশী।  জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রতিভাবানদের সঙ্গে ভক্তদের সেতুবন্ধ তৈরি করে মোবাইল প্ল্যাটফর্ম মবস্টার। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার  প্রতিযোগীরা ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড করতে পারেন। ভক্তদের কাছে বিজয়ী হওয়ার জন্য চাইতে পারেন ভোট।  অথচ এই প্লাটফর্মেই  রয়েছে তার একাধিক আইডি। ফলে পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে। 

চীনে  মিস সার্বিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐশী

সম্প্রতি এক ফেসবুক ভিডিও বার্তায ঐশী জানালেন এ কথাই। ভিডিও বার্তায় ঐশী বলেন, ‘জানিনা কে বা কারা এমনটি করছেন। কেন করছেন? মবস্টারে আমার নামে অনেকগুলো ফেক আইডি খুলেছেন। এগুলো নিয়ে আমাকে বিব্রতকর অবস্থাতে পড়তে হচ্ছে। অনুগ্রহ  করে আপনারা আমার নামের ফেক আইডিগুলো বন্ধ করে দিন। এই ফেইক আইডির কারণে আমার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কিছু লোকের অতি উৎসাহের কারণে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে আমার। আমাকে করা কমেন্ট লাইক শেয়ার ফেইক  আইডিতে চলে যাচ্ছে। অথচ এখন আমার সবার সহায়তা দরকার।’

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়িতে মিস ওয়ার্ল্ডের আসরে ঐশী

এদিকে ৮ ডিসেম্বর মিস ওয়ার্ল্ডের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে চিনের সানাইয়া শহরে। তার আগে বিশ্বের বিভিন্ন  দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন সেগমেন্টে লড়তে হবে ঐশীকে। সব কটি ধাপ সফলতার সঙ্গে উতরে যাওয়ার পরই উঠতে পারবেন চূড়ান্ত পর্বে। 

সংশ্লিষ্ট খবর