শিক্ষা

সমকালের সঙ্গে সাক্ষাৎকার

সীমাবদ্ধতা আছে, সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই: জিএস রাব্বানী

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সীমাবদ্ধতা আছে, সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই: জিএস রাব্বানী

ফাইল ছবি

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ডাকসু অনেক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। গত ছয় মাসে ৬০ থেকে ৭০টি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে তাদেরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। অনেক বাধ্যবাধকতা ও সীমাবদ্ধতাও আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ডাকসুর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। তবে তাদের  সদিচ্ছার কোনা ঘাটতি নেই। গত ছয় মাসে ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে জানতে চাইলে সমকালকে এসব কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে গোলাম রাব্বানী বলেন, 'যখনই শিক্ষার্থীরা কোনো প্রয়োজন নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে, তাৎক্ষণিকভাবেই সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেক বিভাগে ভর্তি ফি কমানো, বিজয় একাত্তরসহ বিভিন্ন হলের ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেনি। ডাকসু সেটি করেছে।'

ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ঢাবিতে মূল সমস্যা হলো আবাসিক সংকট। এর জন্য আরও হল প্রয়োজন। তবে রাতারাতি তো আর হল করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারেও তারা আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন হলে বর্ধিত ভবনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে আশা করা যায়।

ভালো মানের খাবার নিশ্চিতকরণে ডাকসু কাজ করছে জানিয়ে রাব্বানী বলেন, অনেক বছর পর ডাকসু এসেছে, তাই প্রত্যাশা এখানে অনেক। তবে তারা সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন সব পূরণ করার জন্য। ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধির জন্য ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের নেতৃত্বে সব ক্যান্টিন মালিকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। কোন হলের খাবার কেমন, সেগুলো দেখা হয়েছে। জগন্নাথ হলের খাবারটা মোটামুটি ভালো। অন্যান্য হলের কোথায় কোন সমস্যা এবং কীভাবে খাবারের মান বৃদ্ধি করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে একটি সারসংক্ষেপ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া সংস্কারের জন্য তারা স্মারকলিপি দেবেন। সকালের নাশতায় পুরি ও শিঙাড়ার পরিবর্তে রুটি, পরোটা দেওয়ার বিষয়েও কথা হয়েছে।

পরিবহন সংকট সমাধান এবং সাইকেল ও রিকশার লেনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, পরিবহন খাতের বিষয়ে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন ডিইউ চক্কর 'জোবাইক'-এর উদ্বোধন খুব শিগগির করা হবে। এর আনুষ্ঠানিকতা প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মূল সমস্যা হলো রিকশা ও সাইকেলের লেন নেই। এ নিয়ে মিটিং হয়েছে। উপাচার্য এতে সম্মতি দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষে কিংবা অক্টোবরের প্রথম দিকেই হয়তো আলাদা লেনের বিষয়টি কার্যকর হয়ে যাবে।

কাজ করার সদিচ্ছা আছে জানিয়ে রাব্বানী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা ছিল। আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে এবং সার্বক্ষণিক তদারক করে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। যেখানেই ময়লা-আবর্জনা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পরিস্কারের কাজ করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা নজরে এলেই আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। আরও কোনো সমস্যা থাকলে এবং আমাদের নজরে এলে আমরা উদ্যোগ নিতে চাই, আমাদের সেই সদিচ্ছা আছে।'

গেস্টরুম-গণরুম বন্ধ ও বহিরাগতদের বিতাড়ন ছাত্রলীগের বাধার কারণে সম্ভব হয়নি বলে ভিপি নুরের অভিযোগের জবাবে রাব্বানী বলেন, গেস্টরুমে তো অতিথিরা বসে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের কর্মীরা সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করেন। কাউকে জোর করে আনা হয় না। এমন যদি কোথাও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর গণরুম একটা বাস্তবতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের সেখানে থাকতে হয়। আবাসিক সমস্যার সমাধান হলেই এটি আর থাকবে না।

সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের 'সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস' প্রোগ্রাম ছাত্রলীগের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়- ভিপি নুরের এ বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য আখতার আবেদন করেছিল। তাকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখানে তার প্রোগ্রামে বাধা দেওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। আখতার তো প্রোগ্রাম নিজের ব্যর্থতার কারণে করতে পারেনি। এ ছাড়া সে শুধু মেয়েদের হল নিয়ে প্রোগ্রাম করতে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তো কখনও এটার অনুমোদন দেবে না।

ছাত্রলীগ ও প্রশাসন ডাকসুকে কার্যকর করতে দিচ্ছে না, কার্যকর হলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ভাটা পড়বে- ভিপি নুরের এমন বক্তব্যের জবাবে রাব্বানী বলেন, ডাকসুর সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন তো ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিতরাই করছেন। আর ছাত্রলীগকে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করার কিছু নেই। নির্বাচনে ২৩ জন জয়লাভেই বোঝা গেছে, কারা জনপ্রিয়।

বাজেট প্রস্তাবনায় ভিপি নুরের প্রস্তাব মেনে না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে সবাই নিজেদের বক্তব্য কিংবা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে পারেন। এটাকে দ্বিতীয় পার্লামেন্টও বলা হয়। আর এখানে সবাই মতামত দিতে পারবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে- এটাই নিয়ম। এখন ২৩ জনের মতামত বেশি কার্যকর নাকি ওই দু'জনের মতামত? এ ছাড়া বাজেটে বরাদ্দের অংশের খরচ কিন্তু ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিতরাই করেছেন বিভিন্ন খাতে। ভিপি নুর কিংবা আখতার এখন পর্যন্ত কোনো টাকা খরচ করতে পারেননি।

মন্তব্য


অন্যান্য