শিক্ষা

জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে প্রশাসন ভবন অবরোধ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে প্রশাসন ভবন অবরোধ

জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে প্রশাসন ভবন অবরোধ

  জাবি সংবাদদাতা

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর'র ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। অবরোধ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলছে দ্বিতীয় দিনের মতো।

সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই দফায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলা হলেও একমত না হওয়ায় ফিরে যান তারা।

সকাল সোয়া ৯টায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. নূরুল আলম আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। 

পরে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ শেখ মো. মনজুরুল হক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলে আসেন। সেখানে আন্দোলনরতদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, তারা অফিসিয়ালি আলোচনায় বসার কোনো প্রস্তাব দেননি। আমাদের সুস্পষ্ট তিন দফা দাবির ব্যাপারে তাদের পর্যবেক্ষণ কী, তা জানিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, চলমান সঙ্কট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। উপাচার্যও আলোচনায় বসতে চান। আন্দোলনরতদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসতে চান। আগেই শর্ত দিলে তো আলোচনায় বসার দরকার নেই।

আন্দোলনরত শিক্ষক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এর আগেও নানা সময় আলোচনায় বসা হয়েছে। তারা যদি আলোচনার আগেই সিদ্ধান্ত ঠিক করে ফেলেন তবে সে আলোচনার কোনো দাম নেই। এরকম আলোচনায় আমাদের আস্থা নেই। আলোচনায় বসতে হলে আন্তরিকতা থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা থেকে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে। 

এরপর থেকেই দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত, তিনটি ছাত্র হলের বিকল্প স্থান নির্বাচন এবং অস্বচ্ছতা দূর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য


অন্যান্য