শিক্ষা

আলোচনা ব্যর্থ, জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি আন্দোলনরতদের

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আলোচনা ব্যর্থ, জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি আন্দোলনরতদের

আলোচনা শেষে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা- সমকাল

  জাবি সংবাদদাতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা উপাচার্যের বাসভবনে বসে ছাত্রলীগকে ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা সফল হয়নি। এ অবস্থায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারের আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বুধবার রাতে আলোচনা শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের দাবি করেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ চার কর্মকর্তার সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের আলোচনা শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি– দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে প্রশাসন ভিন্নমত করায় আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা বেরিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, 'টেন্ডার ছিনতাইয়ের বিচার না করা, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, ছাত্রলীগকে কোটি টাকা ভাগাভাগি করে দেওয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের চাঁদা দাবির বিষয়টি পাঁচ মাস গোপন রাখা, টাকা ভাগবাটোয়ারার ঘটনায় জড়িতদের সরাসরি স্বীকারোক্তি এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, ফারজানা ইসলাম উপাচার্য পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।'

উপাচার্যকে পদত্যাগ করার জন্য আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে, বৈঠক শেষে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'বৈঠকে আন্দোলনকারীরা আমার পদত্যাগ দাবি করেছেন। কিন্তু আমি চাইলেই তো আর পদত্যাগ করতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডার তো শুধু তারাই (আন্দোলনকারীরা) নন। তাদের বাইরেও অনেকে আছেন। যদি সবাই মনে করেন, আমি নৈতিক অবস্থান হারিয়েছি, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। উপাচার্য হিসেবে আমার এটুকু সুযোগ আছে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করার।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি ইউজিসিকে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) বলব যেন তারা একটা তদন্ত করে। তদন্ত চলাকালে আমাকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে কি-না, তা আমি বলতে পারি না। সেটা বলবেন আচার্য (রাষ্ট্রপতি)।' আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা আর খোলা নেই বলেও জানান উপাচার্য।

মন্তব্য


অন্যান্য