শিক্ষা

ভর্তি ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে শাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮

ভর্তি ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে শাবিতে বিক্ষোভ

ফাইল ছবি

  শাবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারে ভর্তির জন্য অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে  মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং জাতীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

অনার্স প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি ফি ৬ হাজার ৮৫০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রতিবাদে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। 

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলা শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাজিরুল আযম বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ও আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রুদ্রের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, অধিকার। গত বছর থেকে এ বছর প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য প্রায় ২ হাজার ৬৫০ টাকা বেশি করা হয়েছে, যেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। 

এটি নিম্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্তের পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করবে এবং অনেকেই উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ভর্তি ফি না বাড়ানোর জোর দাবি জানান। সমাবেশ শেষে তারা উপাচার্য বরাবর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বর্ধিত ভর্তি ফি প্রত্যাহার করার জন্য স্মারকলিপি দেন।

একই সময়ে শাবির শিক্ষা ভবন ডি-এর সামনে থেকে জাতীয় ছাত্রদল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের গোলচত্বর ছাত্রছাত্রী ছাউনিতে সমাবেশে মিলিত হয়। 

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রামকৃষ্ণ দাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুপেল চাকমার সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, চা শ্রমিকদের সন্তানদের ভর্তির জন্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করাটা রীতিমতো আকাশ-কুসুম কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ, তাদের দৈনিক পারিশ্রমিক মাত্র ১০২ টাকা। শুধু চা শ্রমিক নন, এদেশে রয়েছেন কৃষক, শ্রমিকসহ নিম্নবিত্ত পরিবারের অসংখ্য মেধাবী ছাত্রছাত্রী।

ভর্তি ফি বাড়ার প্রসঙ্গে ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রধান জানান, বুধবার একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং রয়েছে। সেখানেই ভর্তি ফি কত হবে তা নির্ধারণ করা হবে।



মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

২৮ বছর পর 'দ্বিতীয় পার্লামেন্ট' স্বপ্ন ডানা মেলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে


আরও খবর

শিক্ষা

  সাব্বির নেওয়াজ

টানা ২৮ বছর পর দেশের 'দ্বিতীয় পার্লামেন্ট' হিসেবে খ্যাত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ' (ডাকসু) নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। আগামী ৩০ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা তৈরির কাজও প্রায় শেষ। এজন্য একটি ডাটাবেজও তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রছাত্রীরাই এ নির্বাচনের ভোটার হবেন। এমফিল, পিএইচ.ডি এবং কোনো সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরা ভোটার হবেন না। সংসদে নতুন কিছু পদও যুক্ত হতে চলেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদ যুক্ত করার। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বর্তমানে ক্যাম্পাসে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন অভিমত দিয়েছে। অবশ্য কোনো কোনো সংগঠনের অভিমত, ক্যাম্পাসে বর্তমানে সহাবস্থান করার মতো পরিবেশ নেই। নির্বাচন করতে হলে সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এক সময় বলা হতো, ডাকসু ভবিষ্যতের জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির 'সূতিকাগার'। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম ছাড়াও স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা ডাকসু। কারণ, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সংগঠন।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, গণতান্ত্রিক  শাসনামলেও গত ২৮ বছর ৫ মাস ধরে ডাকসুর কোনো কার্যক্রম নেই। স্বাধীন দেশে গত ৪৭ বছরে এ নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাতবার। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ডাকসুর দ্বিতীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে বাতিল হয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এর দীর্ঘ আট বছর পর ১৯৯৮ সালে ডাকসুর কমিটি ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২৮ বছরেও সেই নির্বাচন আর হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমিতির মতো বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নির্বাচন প্রতি বছর নিয়মিতই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনে ডাকসুসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ছাত্র সংগঠন সংগঠিত হতো, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে ছাত্রনেতারা নিজেদের নেতৃত্ব দানের এবং সকল শ্রেণিপেশার মানুষের আস্থা অর্জনের উপযোগী করে তুলতেন। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই যুগ ধরে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাস ও হলে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করছে।

সিনেটে-সিন্ডিকেটে ছাত্র প্রতিনিধি নেই :স্বায়ত্তশাসিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা কাঠামোর সবচেয়ে উপরের স্তরে রয়েছে সিনেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণ, আইন বাতিল ও সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে সিনেটের। ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এ সিনেটে নির্বাচিত ডাকসু থেকে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা। তা নেই ২৮ বছর ধরে। আছেন শুধু উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সরকার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তা, স্পিকার মনোনীত সংসদ সদস্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রমুখ।

ডাকসু না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিও নেই সিনেটে। এর ফলে সিনেটে একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাবাণিজ্য, অস্বাভাবিক শিক্ষা ব্যয়, হলগুলোতে দখলদারিত্ব ও সিটবাণিজ্য, শিক্ষার গুণগত মান ও পরিবেশের অবনতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত সকল প্রকার সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এই কার্যকর প্ল্যাটফর্মটিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিমত জানাতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। অনেকে জড়িয়ে পড়ছেন অপরাজনীতিতে। ফলে গড়ে উঠছে না ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব। রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা কাঠামোর দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদ এটি। শিক্ষক এবং সরকারি কর্মকর্তারা এ পরিষদের সদস্য। কিন্তু সিনেটে আইন দ্বারা পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধির ভূমিকা নিশ্চিত করা হলেও সিন্ডিকেটে সে সুযোগ একদমই রাখা হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ছাত্রদের অংশীদারিত্ব নেই আড়াই যুগের বেশি। এদিকে নির্বাচন না হলেও প্রতিবছর ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের জন্য ঢাবির শিক্ষার্থীদের থেকে কর্তৃপক্ষ ১২০ টাকা ফি নিয়ে থাকে। প্রতি বছর ডাকসুর ফান্ডে প্রচুর অর্থ জমলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে অন্য খাতে।

বিশিষ্টজনের অভিমত :শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, ডাকসু না থাকাতেই ছাত্র রাজনীতিতে অছাত্ররাও ঢুকে পড়েছে। অথচ এ নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির দিতে তাকিয়ে রয়েছে। যদিও ডাকসু নির্বাচনকে বার্ষিক হিসেবে দেখা উচিত। এ জন্যে সরকারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

সাবেক উপাচার্য, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার কারখানা, তেমনি ডাকসু রাজনীতিক তৈরির কারখানা। ডাকসুর মধ্য দিয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অংশীদারিত্ব গড়ে উঠত। শুধু ঢাকা নয়- সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের হাতে রাখতে হলে ডাকসুসহ সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মূলত জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতির 'স্টেজ রিহার্সাল' হয়ে থাকে। পাশাপাশি এর নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও রয়েছে। তাই ২৮ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়া দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক। ঢাবির বর্তমান প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তিনি তার অধিভুক্ত সকল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, ডাকসুর মাধ্যমে গণতন্ত্র চর্চা হয়। তরুণদের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এ নির্বাচনের বিকল্প নেই।

আদালতের কারণে খুলল জট :উচ্চ আদালতে করা দুটি রিট আবেদনের কারণে দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের জট খুলেছে এবার। ২০১২ সালের ২১ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন ঢাবির ২৫ শিক্ষার্থী। একই বছরের ৮ এপ্রিল এই রিটে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১৭ জানুয়ারি রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

এরপরেও রায় অনুসারে নির্বাচন সম্পন্ন না করায় ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বরে আদালত অবমাননার আবেদন করেন রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন থেকে ছয় মাসের মধ্যে অর্থাৎ ১৫ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে মর্মে হাইকোর্টকে চিঠি দিয়ে আবেদন দাখিল করে। তখন হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট বেঞ্চ আদালত অবমাননার আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এরপরও ১ অক্টোবর ঢাবি কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

পরে ওই দিনই চেম্বার আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে, সংশ্নিষ্টদের আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

জেগেছে আশার আলো :আদালতের আদেশের পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী শাহরিন সুলতানা সমকালকে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছে ডাকসু। এর বলিষ্ঠ অবদান রয়েছে দেশের প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে। সেই ডাকসু ফিরে আসছে, এটা পরম আনন্দের।

উইমেন স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তাহের বলেন, নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া অবশ্যই শুভ। তবে এটি আসলেই কি হবে? হতে দেওয়া হবে? একই সংশয়ের কথা জানান লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফরহাদুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদল সমর্থক এক ছাত্র বলেন, হলগুলোতে বর্তমানে সরকার দলীয় ক্যাডারদের দোর্দণ্ড প্রতাপ। ছাত্রদলের কেউ তো হলে থাকা তো দূরের কথা, ক্যাম্পাসেই ঢুকতে পারে না। এ অবস্থায় হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র না দিয়ে একডেমিক ভবনগুলোতে দিলে নির্বাচন স্বচ্ছ হবে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভগের ছাত্র আবু রায়হান খান বলেন, ডাকসু নির্বাচন সাধারণ ছাত্রদের বদলে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের স্বার্থ সংরক্ষণের পক্ষে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুভ হবে না।

ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী তৌসিফা ফারহাত বলেন, আশা করি, ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সচল কেন্দ্র্রীয় ছাত্র সংসদ পাব, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবে।

ছাত্রনেতাদের ভাবনা :ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সময় এসেছে ডাকসু ধারণা নবায়নের। নতুন দিনের একাডেমিক ঐতিহ্য বিনির্মাণের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে ডাকসুকে। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াকে তারা গৌণ বিষয় মনে করেন, তাদের মূল লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার শিক্ষার্থীদের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একদিকে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ বজায় রাখার দাবি করা এবং অন্যদিকে পদ্ধতিগতভাবে ডাকসু নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা একটি বড় স্ববিরোধিতা। কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বললেও ন্যূনতম নির্বাচন সহায়ক সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ডাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকায় ছাত্র রাজনীতি সন্ত্রাস ও পেশীনির্ভর রাজনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্রদের গণতান্ত্রিক ও নেতৃত্ব নির্বাচন করার অধিকার এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কথা বলার ও তাদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বৈরতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এমন কোনো নির্বাচিত কাঠামো নেই, যেটি শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে এখনও তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাবি শাখার আহ্বায়ক উলুল আমর অন্তর বলেন, আদালতের হস্তক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবারও ডাকসু নির্বাচন দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবেন বলে আশা করছি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ২৮ বছর বন্ধ থাকার পর ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিশ্চয়ই আশান্বিত করে। তবে ক্যাম্পাস এবং হলগুলোতে এখন ভয়-ভীতি ও দখলদারিত্বের পরিবেশ পুরোমাত্রায় বিরাজ করছে। অবাধ ও ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে এ নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

ডাকসুর সাবেক নেতারা যা ভাবছেন :ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সমকালকে বলেন, 'ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম। যারা এত বছর শিক্ষার্থীদের অধিকার বঞ্চিত করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। দেরি না করে দ্রুত ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল সংসদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখ একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।'

ডাকসুর সাবেক ভিপি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঢাবি কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ যেন লোকদেখানো উদ্যোগে পরিণত না হয়।

ডাকসুর সাবেক ভিপি, গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, দুর্ভাগ্যজনক যে সামরিক সরকারের আমলে ডাকসু নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক আমলে বহু বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছে না। এ নির্বাচন ছাত্রদেরই আদায় করে নিতে হবে।

উপাচার্যের ভাষ্য :উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের জন্য নানা প্রক্রিয়া চলছে। এক বছর আগে থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এতে ভোটার তালিকাও হয়ে গেছে। প্রতিবছরই তাই এই ডাটাবেজ কাজে লাগবে। প্রশাসনিক সব কাজে এটি লাগবে। এটি একটি বড় কাজ হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা সাপেক্ষে যুগোপযোগী করার জন্য কমিটি গঠন হয়েছে। তাদের সুপারিশমতো গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিশীলন করা হবে। তবে এটাই চূড়ান্ত নয়। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে এতে সংযোজন-বিয়োজন করা যাবে। এ নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচনী আচরণবিধিও প্রণয়ন করা হবে। সেটিও এই কমিটি করবে। এর বাইরে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময় হয়েছে। ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

এত বছর পর নির্বাচন করা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ কি না?- এ প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য বলেন, তা তো অবশ্যই। তবে সব দিক থেকে সুন্দর নির্বাচন করার চেষ্টাই হচ্ছে।

পরের
খবর

কোথায় গেল সাড়ে ১২ কোটি টাকা


আরও খবর

শিক্ষা
কোথায় গেল সাড়ে ১২ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইমাদ উদ্দিন মারুফ

২৮ বছর বন্ধ থাকার পর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আশা জেগে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর আবারও ডাকসুর সব কার্যক্রম চালু হবে- এমনই প্রত্যাশা সবার। তবে এতদিন সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাজেটে ডাকসু ও হল সংসদগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নেওয়া হয়েছে ছাত্র সংসদ উন্নয়ন বাবদ ফি। কর্তৃপক্ষ এসব টাকা ব্যয় করলেও তাদের কাছে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য।

ছাত্র সংসদ না থাকলেও ঘাটতি বাজেটের কারণে এ টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর ডাকসু চালু না থাকায় এ টাকা বেতন খাতের ভেতরেই সংযুক্ত করে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচন দিলে ডাকসু সংশ্নিষ্ট অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা আসবে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভর্তির সময় প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডাকসু ও হল সংসদ ফি বাবদ ৬০ টাকা করে মোট ১২০ টাকা দিতে হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। সেই হিসাবে এক বছরে আদায় করা হয় প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা। ২৮ বছরের এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। বিভিন্ন  সময় শিক্ষার্থী ও সংগৃহীত টাকার পরিমাণ কমিয়ে ধরলেও এর পরিমাণ ১০ কোটির কম হবে না।

এদিকে ডাকসুর কার্যক্রম না থাকলেও প্রতি বছর ডাকসুর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় খাতে বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ বরাদ্দ রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট ২০১৮-২০১৯' অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ এক হাজার টাকা; ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ২০ লাখ ৮ হাজার টাকা; ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ১৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা; ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বিগত ২৮ বছরে গড়ে কমিয়ে ধরলেও খরচের পরিমাণ দুই কোটি টাকার মতো হয়। কিন্তু নির্বাচন না হওয়া সত্ত্বেও টাকা বরাদ্দ এবং এই টাকার ব্যয় কোথায় হয়- এমন প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

জানা গেছে, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ফি দিলেও তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্যাম্পাস ও হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এখন ডাকসু মানে একটি সংগ্রহশালা ও ক্যান্টিন। ডাকসুর ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পাশে স্থাপিত হয়েছে সংগ্রহশালা। সেটিও অবহেলার শিকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ছাত্র সংসদ বন্ধ থাকলেও আগের নিয়মেই ফি নেওয়া হচ্ছে। এটা নিয়ে ছাত্ররা জোরালোভাবে কখনও কথা বলেনি। প্রশাসনও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয় না। প্রতি বছর যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘাটতি বাজেট হয়, কাজেই ছাত্র সংসদের ফি অন্য খাতে ব্যয় করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান খান বলেন, যেহেতু নির্বাচন বন্ধসহ ডাকসুর সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল, এ ক্ষেত্রে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ খাতে টাকা নেওয়াও বন্ধ রাখতে পারত। তাছাড়া টাকার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাবও তাদের কাছে নেই। প্রশাসনের উচিত ছিল এসব টাকার স্বচ্ছ হিসাব রাখা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম খান বলেন, সক্রিয় না থাকলেও ডাকসুর জন্য বিগত ২৮ বছর ধরে নিয়মিত ফি দিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা জানতে পেরেছি, এই ফি থেকে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশে ও অন্যান্য কিছু খাতে খরচ করা হয়েছে। এই খরচের পরেও আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে কিংবা কত জমা রয়েছে তা শিক্ষার্থীদের জানার অধিকার রয়েছে। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রদেয় অর্থের স্বচ্ছ হিসাব পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি ও খরচের হিসাব দিতে গিয়ে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস মোল্লা সমকালকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট সবসময়ই ঘাটতি বাজেট। ঘাটতির কারণে বাজেটের ভেতরেই এ টাকা ঢুকে যায়। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা (ডাকসু ও হল সংসদ বাবদ ১২০) নেওয়া হয় তা মূলত বেতন খাতের ভেতরেই নেওয়া হয়। আর যেহেতু ঘাটতি বাজেট, তাই এ টাকা কোথায় খরচ হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ডাকসুর সেই ডাকসাইটে নেতারা


আরও খবর

শিক্ষা
ডাকসুর সেই ডাকসাইটে নেতারা

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অমরেশ রায় ও কামরুল হাসান

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদকে বলা হয় নেতৃত্ব তৈরির কারখানা। এসব ছাত্র সংসদে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে দেশ ও জাতিরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকেই। রাজনীতির উজ্জ্বল তারকা হিসেবে গড়ে ওঠার প্রথম সোপানও ছিল এসব ছাত্র সংসদ।

এ ক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংসদ হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভূমিকা অগ্রগণ্য। ডাকসুর নির্বাচিত নেতাদের অনেকেই পরে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় নেতৃত্বে অসামান্য অবদান রেখেছেন। অনেকে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনসহ স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বেও ছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও জাতীয় রাজনীতিতে নিজ নিজ পরিচয়ে উজ্জ্বল তারকা হয়ে ভূমিকা রেখে চলেছেন দেশ ও জাতির কল্যাণে।

ডাকসুর ইতিহাসের বিগত দিনের সেই ডাকসাইটে নেতার কয়েকজনের কথা তুলে ধরা হলো এখানে।

তোফায়েল আহমেদ :ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক হিসেবে খ্যাত ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) তোফায়েল আহমেদ আজকের রাজনীতির অন্যতম উজ্জ্বল এক তারকা। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ৭৬ বছর বয়সী বর্ষীয়ান এই নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকারের গত মেয়াদে (২০১৪-১৮) বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। সদ্যসমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ মোট সাতবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর আগে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ সদস্যও (এমএনএ) নির্বাচিত হন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। এরপর ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুললে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে রেখেছিল তাকে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিসহ ছয় দফা এবং ছাত্রদের ১১ দফা দাবিতে পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানবিরোধী গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠলে তোফায়েল আহমেদ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সেই ছাত্র ও গণআন্দোলনই ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যার ফলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং আইয়ুব খানের পতন ঘটে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল 'মুজিব বাহিনীর' অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরশাসনবিরোধী গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

মতিয়া চৌধুরী :দেশের আরেক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মতিয়া চৌধুরী ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৬৩-৬৪ মেয়াদে। গত কয়েক মেয়াদ ধরেই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। মহাজোট সরকারের গত দুই মেয়াদে (২০০৯-২০১৪ এবং ২০১৪-২০১৮) কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি এবারের নির্বাচনসহ ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 'অগ্নিকন্যা' নামে খ্যাত মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতি দিয়ে।

১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দিয়ে দলটির কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১-এ তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রূষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছিলেন ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

রাশেদ খান মেনন :বামপন্থি রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৬৩-৬৪ মেয়াদে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের হয়ে ২০০৮ থেকে গত তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হন তিনি। ওই নির্বাচনে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করা হয় তাকে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন তিনি। ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়, সামরিক আইনবিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। নব্বইয়ে সামরিক স্বৈরশাসকবিরোধী আন্দোলনে ৫ দলের নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি হন। ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক জোট ১৪ দল গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখেন। ২০০৮-এর নির্বাচনে জিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ৭৬ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম :স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ডাকসুর প্রথম নির্বাচিত ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দেশের অন্যতম বিশিষ্ট বামপন্থি রাজনীতিবিদ। বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি তিনি। এর আগেও একবার একই পদসহ দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্কুলছাত্র থাকাকালেই ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে কারাবরণ করেন সেলিম। কলেজে পা দিয়েই সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন বামপন্থি ছাত্র আন্দোলন ও রাজনীতিতে। এ সময় তিনি গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেও যুক্ত হন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ডাকসুর প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন শেষে পার্টি-জীবনকে বেছে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ক্ষেতমজুরদের সংগঠিত করার কাজে মনোযোগ দেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক কারণে প্রায় আট বছর কারাবরণ ও আত্মগোপনে ছিলেন ৭১ বছর বয়সী প্রবীণ এই বামপন্থি নেতা।

আখতারউজ্জামান :আশির দশকের সামরিক এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে খ্যাতিমান আখতারউজ্জামান ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে ডাকসুর পরপর দুইবার জিএস এবং ১৯৮৩ সালে ভিপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র রাজনীতির নানা ধাপ পেরোনো সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান একাত্তরে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেরাদুনে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না :মাহমুদুর রহমান মান্না ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে এবং ১৯৮০ সালে বাসদ থেকে নির্বাচন করে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ১৯৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএসও নির্বাচিত হন। বর্তমানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক তিনি।

মান্নার রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে। পরে জাসদ ছাত্রলীগ ও বাসদ ছাত্রলীগ হয়ে নব্বইয়ের দশকে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এরপর জনতা মুক্তি পার্টিতে যুক্ত হলেও দলটি ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগে বিলুপ্ত হলে মান্নাও এই দলে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ওয়ান-ইলেভেনের পর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ২০০৯ সালের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের পদ থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরে তিনি নিজেই নাগরিক ঐক্য নামের আলাদা দল গঠন করেন। বর্তমান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মান্না নিজ এলাকায় একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হলেও জিততে পারেননি। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও হেরে যান তিনি।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ :সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এই নেতা নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে দল থেকে ছিটকে পড়েন। পরে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনেও ভূমিকা রাখেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের টিকিটে এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এই খ্যাতিমান ছাত্রনেতা।

আমান উল্লাহ আমান :ডাকসুর ইতিহাসের সর্বশেষ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান। ১৯৯০ সালের ৬ জুন ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমানসহ ডাকসুর নির্বাচিত সর্বশেষ নেতাদের নেতৃত্বেই সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন এবং দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান হয়।

আমান ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ার বিতর্কিত নির্বাচনসহ ২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিভিন্ন মেয়াদের বিএনপি সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন শেষে এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন পেলেও আদালতের রায়ের কারণে নির্বাচন করতে পারেননি। তবে তার ছেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি তার আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

সংশ্লিষ্ট খবর