সম্পাদকীয় ও মন্তব্য

যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা

আসামে এনআরসি

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা

  হাসান শাহরিয়ার

সিলেটি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে :'যার দেখতায় নাক মুখ হেই ঠাকুর চিন না।' অর্থাৎ অপরূপরূপে সজ্জিত হওয়ার পর দেবী এতটাই অভিভূত হন যে, মালাকার বা প্রতিমা কারিগরের কথা আর তার মনেই থাকে না। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামের অবস্থাও হয়েছে অনেকটা তাই। ইংরেজ সরকার পুরনো কামরূপ রাজ্যের পাঁচ জেলা কামরূপ, দরং, নওগাঁ, শিবসাগর ও লক্ষ্মীমপুর এবং খাসিয়া-জয়ন্তিয়া পাহাড় নিয়ে ১৮৭৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আসাম প্রদেশ গঠন করার সাত মাস পর মূলত আর্থিক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সিলেট, কাছাড় ও গোয়ালপাড়া জেলাকে অনগ্রসর এই নতুন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করে। তখন আসামের লোকসংখ্যা ছিল খুব কম এবং ব্যয়ের তুলনায় আয় ছিল নগণ্য। আবার স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার মতো শিক্ষিত লোকেরও অভাব ছিল। অন্যদিকে, আসাম সংলগ্ন বাংলা ভাষাভাষী সিলেট ও কাছাড় জেলায় লোকবসতি ছিল অপেক্ষাকৃত ঘন। এই দুই জেলার লোকজন ছিল শিক্ষাদীক্ষায় বেশ অগ্রসর; আয়-রোজগারও ছিল যথেষ্ট।

সিলেটের শিক্ষিত আমলারা প্রশাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন আর ময়মনসিংহ, রংপুর, কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, নোয়াখালী ও ফরিদপুর জেলার ভূমিহীন হিন্দু-মুসলিম কৃষকরা আসামের জঙ্গল আবাদ করে ফসল ফলালেন। ইতিপূর্ব কালাজ্বর রোগে অনেক লোক মারা যাওয়ায় আসামের জনসংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছিল। এই বহিরাগত কৃষকদের হাড়ভাঙা খাটুনির ফলে আসামের হিংস্র শ্বাপদের বিচরণক্ষেত্র মনুষ্যবাসের উপযোগী হয়। অনেক স্থলে বহিরাগতদের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের খিটিমিটি বাধে। এই সংঘর্ষ নিবারণ করার উদ্দেশ্যে আসাম সরকার ১৯১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুখ্যাত লাইনপ্রথা প্রবর্তন করে। এই প্রথামতে, নবাগতদের অধিকারযোগ্য ভূমির সীমারেখা বা লাইন টেনে দেওয়া হলো। বিভিন্ন জেলায় নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে নবাগতরা জমি বন্দোবস্ত পেত না। কামরূপের ডেপুটি কমিশনার একটি কাল্পনিক লাইন টেনে দিয়ে সীমারেখা সৃষ্টি করেন। শিক্ষার ছোঁয়াচ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মবিমুখ, অলস ও আরামপ্রিয় অহমিয়াদের পাখা গজাতে শুরু করল।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় নেতাদের রাজনৈতিক চালে যেসব বাঙালি আসামে থেকে যেতে বাধ্য হলো, তারা চিরতরে বঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হলো। কিন্তু তারা জানত না যে, আসাম তাদের আবাসভূমি নয়। স্বাধীনতার দুই মাসের মাথায় আসামের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈর ঘোষণা 'নিঃসন্দেহে আসাম আসামিদের জন্য' (শিলং টাইমস, ১৯ অক্টোবর, ১৯৪৭) তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। এই উক্তি শুনে ভারতের জনক মহাত্মা গান্ধী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বলেছিলেন, 'আসাম যদি আসামিদের জন্য হয়, তাহলে ভারত কাদের জন্য?' পিতৃপুরুষের ভিটেমাটির মায়া ত্যাগ করে ম্যালেরিয়া-কালাজ্বরে আক্রান্ত ও অনুন্নত যে আসামকে তারা একদিন আপন বলে গ্রহণ করে এর উন্নয়ন ও সভ্যতার বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল, সেই আসামেই তারা আজ পরবাসী। গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকেই তাদের মাথার ওপর ঝুলছে 'বঙ্গাল খেদা' খড়্‌গ। যাদের কল্যাণে আসাম আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে সেই বঙ্গ সন্তানরাই তাদের এক নম্বর শত্রু। তাদের বংশধররা আজ 'বিদেশি'। আচম্বিত 'বিদেশি' হয়ে যাওয়ার পর তারা আক্ষেপ করে

বলছেন, 'যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি/এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি।' কিন্তু কেউ কর্ণপাত করে না তাদের এই আর্তচিৎকারে। একদিন আসামে সিলেটিদের যে আধিপত্য ছিল, তা আজ ইতিহাসের অংশমাত্র।

গত ৩১ আগস্ট আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর উদ্বেগ বেড়েছে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে। সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপী। অদ্ভুত এই তালিকা। স্বামীর নাম রয়েছে, বাদ পড়েছেন স্ত্রী; নিজে আছেন, নেই ছেলেমেয়ে। কেউ কেউ বলেছেন, কলকাতা থেকে নথি জোগাড় করে জমা দিয়েছিলেন; কিন্তু তালিকায় নাম ওঠেনি। আদি বাড়ি কোচবিহারে হলেও অনেকে সমস্যায় পড়েছেন। আসামের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম। এর বিরুদ্ধে প্রথমে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে, তার পর হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো যাবে। কিন্তু এসবই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। কংগ্রেস আমলেই আসামে এনআরসি তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি দাবি করে, এনআরসির কাজ শেষ করার কৃতিত্ব তাদেরই। কিন্তু বহু নাম বাদ পড়ায় দুই দলই নাখোশ। তৃণমূল বলছে, তাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে প্রথম প্রতিবাদ জানান। লোকসভা ভোটের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলায় এনআরসি করব। অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে তাড়াব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি বিদেশিমুক্ত করব। আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পরেই পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, তেলেঙ্গানাসহ বিজেপির রাজ্য নেতারা নিজ নিজ রাজ্যে এনআরসি চালুর দাবি তুলেছেন। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতারা মনে করছেন, বিজেপি এনআরসিকে সামনে রেখে অর্থনীতির দুরবস্থা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করবে। আগামী  বছর এনপিআর বা ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার চূড়ান্ত হবে। ভবিষ্যতে তা সারাদেশে এনআরসির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। আগের সেই আসাম প্রদেশ আর নেই।



উত্তর-পূর্ব ভারতে এখন আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশ নামে ভাষাভিত্তিক সাতটি রাজ্য হয়েছে। ১৯৬০ সালে আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অসমীয়ারা বাঙালিদের ওপর আক্রমণ চালায়। তখন প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি-হিন্দু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। অন্য ৯০ হাজার বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বের অন্যত্র আশ্রয় নেয়। কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি বা বরাক উপত্যকার বাঙালিরাও পূর্ব বাংলার বাঙালিদের মতো মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করে। ১৯ মে পুলিশের গুলিতে ১১ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং আহত হন শতাধিক। এ ঘটনার পর অসম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিশাল এই অবহেলিত জনপদ এখনও আসামেই রয়ে গেছে। বাংলা ভাষাভাষী এলাকা নিয়ে একটি নতুন রাজ্য গঠনের দাবির শতভাগ যৌক্তিকতা থাকা সত্ত্বেও রাজনীতির মারপ্যাঁচে তা এখনও উপেক্ষিত। এ প্রসঙ্গে পরিতোষ পাল চৌধুরী 'পৃথক কাছাড় এক অনিবার্য সত্য' পুস্তকে (শিলচর, ১৯৮৯) বলেছেন, কাছাড় কখনও আসামের অংশ ছিল না। কাছাড় সবসময় ছিল স্বতন্ত্র ভূমি। স্বতন্ত্র তার ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি। সেই ইতিহাসকে আজ গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা হচ্ছে।... বাঙালিরা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত, প্রকৃত প্রতিভা আজ বিড়ম্বিত। সরকারি উচ্চ পদ থেকে বাঙালি আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন। একে ঘিরে বাংলা ভাষাভাষী অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এনআরসির সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে ষাটের দশক থেকে চলে আসা পৃথক বরাকের দাবি আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার যদি বঙ্গবাসীদের জন্য আলাদা রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করে, তাহলে ল্যাঠা চুকে যায়। অসমীয়াদের 'যাকে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা'র মতো উগ্র জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটবে। বরাক উপত্যকা তথা 'বাংলার তৃতীয় ভুবন'-এর কবি বিজয়কুমার ভট্টাচার্য আক্ষেপ করে তার 'শিলচরের শিলালিপি' কবিতায় লিখেছেন- "এখানে মানুষ মানুষীর ললাটে শুধু বঞ্চনার ক্ষতচিহ্ন আঁকা/বাৎসরিক খরাক্লিষ্ট মাঠের ফসল কাটে রাক্ষুসে প্লাবন/এখানে যৌবন দাসত্ব করে, বৃদ্ধ যায় বাণপ্রস্থে; নগ্ন, নির্জন/অরণ্যেও দাবানলে সংগ্রামের ডাক শোনা যায়/এখানে 'শান্তির দ্বীপে' মানুষেরা বড় অসহায়/খল. ধূর্ত, প্রবঞ্চক কুয়াশার রাজনীতির প্রেতাত্মারা শান্তির কথা বলে/আমি কবি, চেতনায় তবু জানি, ফুটে ওঠে আগ্নেয়কুসুম/নিষ্পেষিত মানুষের চোখ থেকে একদিন টুটে যায় ঘুম/অসংখ্য চোখের তারা জাগরণে সূর্যের আলো আনে তুলে/আমি তারই লাগি অপেক্ষায় আছি-বরাকের ভগ্নউপকূলে।"

নাগরিকপঞ্জির তালিকা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 'আগুন নিয়ে খেলবেন না' বলে তিনি আসাম সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। আসাম-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অশান্তি হলে তার প্রভাব পড়বে বাংলায়। তিনি ঠিকই বলেছেন। যারা আগুন নিয়ে খেলে তারা নিজেদের আগুনেই পুড়ে মরে। অন্যদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেছেন, 'অবৈধ বাংলাদেশি' অভিবাসীদের কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকবে না। বিভিন্ন রিপোর্টে আভাস দেওয়া হচ্ছে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ লাখ কথিত 'বাংলাদেশি অভিবাসী'কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। যদি তা-ই ঘটে তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যার পর এটিই হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক শেখ রোকন ফেসবুকে লিখেছেন, নাগরিকপঞ্জি থেকে যারা বাদ পড়েছে তারা 'বাংলাভাষী' হলেও 'বাংলাদেশি' নয়। আসামের ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, কোঁকড়াঝাড় ও বঙ্গাইগাঁও জেলা ১৮২৫ সাল পর্যন্ত পুরনো রংপুর জেলার অন্তর্গত ছিল। ঢাকার উচিত নয়াদিল্লিকে প্রাঞ্জল ভাষায় জানিয়ে দেওয়া যে, ব্রহ্মপুত্র ও বরাক অববাহিকার সাত জেলার বাঙালিরা 'অনুপ্রবেশকারী' নয়, বরং আদিবাসী। তাদের যদি 'বাংলাদেশি' বলে অভিহিত করা হয়, তাহলে তাদের বংশানুক্রমিক বাসভূমি সাত জেলাকেও 'বাংলাদেশ' ঘোষণা করতে হবে।

পানি ঘোলা করে মাছ শিকার করার পর যখন কপালে জুটল নিন্দা, সমালোচনা ও তিরস্কার, তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলোকরশ্মির সমতুল্য। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার এনআরসি তালিকা-বহির্ভূত কাউকে রাষ্ট্রহীন কিংবা বিদেশি করবে না। তারা কোনো অধিকার বা পরিচয় থেকেও বঞ্চিত হবে না। তাহলে ঢাকঢোল পিটিয়ে এই নাটক মঞ্চায়নের প্রয়োজন ছিল কি? সকলই গরল ভেল। বাংলাদেশের কর্তাব্যক্তিরা আপাতত হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন।

ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি  একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি করছে। কাশ্মীরের পর এখন আসাম। একটু কেরোসিন ঢেলে দিয়ে দিয়াশলাইয়ের জ্বলন্ত কাঠি ছুড়ে মেরেছে। আগুন জ্বলছে সর্বত্র। কিন্তু ইতিমধ্যে এই খেলা হরিষে বিষাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখতে হবে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে মোদি সরকার কীভাবে সামাল দেয়।

প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও বিশ্নেষক কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিজেএ) ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি



মন্তব্য


অন্যান্য